বয়স মাত্র আট। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া এই খুদে শিক্ষার্থীর মাথায় যেন বসানো আছে কোনো শক্তিশালী ক্যালকুলেটর। চোখের পলকে সে সমাধান করে ফেলে বড় বড় সব গাণিতিক জটিলতা। বিস্ময়কর এই মেধার জোরেই আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ১২টি দেশের এক হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ হয়েছে বাংলাদেশের আরশি আমিন আফিয়া।
আরশির এই বিশ্বজয়ের গল্পটি রূপকথাকেও হার মানায়। আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার প্রথম রাউন্ডে অংশ নিয়েছিল প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই নিজের প্রখর একাগ্রতা আর দ্রুত চিন্তাশক্তির প্রমাণ দিয়ে আফিয়া অর্জন করে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়নস’ খেতাব। এই অর্জনেই সে সরাসরি জায়গা করে নেয় চূড়ান্ত পর্বে।
চূড়ান্ত লড়াইটি ছিল আরও কঠিন। মাত্র ৫ মিনিটে ১০০ থেকে ১৫০টি জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করতে হতো। সেখানেও আফিয়া দেখাল তার জাদুকরী নৈপুণ্য। প্রায় ৯৯ শতাংশ নির্ভুলতার সঙ্গে সব অংকের উত্তর দিয়ে সে বিচারকদের তাক লাগিয়ে দেয়। স্বীকৃতিস্বরূপ তার হাতে তুলে দেওয়া হয় আসরের সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’-এর সম্মাননা।
সম্প্রতি রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে আফিয়ার হাতে ক্রেস্ট, ট্রফি ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়। গাণিতিক এই অবিশ্বাস্য দক্ষতার পাশাপাশি সে নাম লিখিয়েছে ‘ইনফ্লুয়েন্সার বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’-এ। বিশ্বরেকর্ড গড়ার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা সনদ।
নিজের এই সাফল্য নিয়ে খুদে জাদুকর আরশি বলে, ‘নিয়মিত অনুশীলন করলে কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায়। আমি বড় হয়ে দেশের নাম আরও উজ্জ্বল করতে চাই।’
আরশি আমিন আফিয়া কক্সবাজারের রামু সেনানিবাসের শহীদ লেফটেন্যান্ট তানজিম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। তার বাবা নায়েক মো. আল-আমিন একজন বিজিবি সদস্য এবং মা কহিনুর আকতার। মেয়ের এমন বিশ্বজয়ে আবেগাপ্লুত তারা। তাদের বিশ্বাস, সঠিক পরিচর্যা পেলে বাংলাদেশের খুদে মেধাবীরা সারা বিশ্বে লাল-সবুজের পতাকা ওড়াতে সক্ষম।
আপনার মতামত লিখুন