সংবাদ

আধা ঘণ্টায় ৬৩ জেলায় ৫০০ বোমা

'উগ্রবাদের রক্তক্ষয়ী উত্থান থেকে বিচারের মুখোমুখি'


শামীম রিজভী
শামীম রিজভী
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

'উগ্রবাদের রক্তক্ষয়ী উত্থান থেকে বিচারের মুখোমুখি'
ছবি : সংগৃহীত

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, দুপুর নামার আগেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতেই একযোগে ঘটেছিল প্রায় ৫০০টি বোমা বিস্ফোরণ।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের প্রতিটি প্রান্তের অন্তত ৩০০টি স্থানে একযোগে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জজ কোর্ট, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ।

ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল উগ্রপন্থী সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নিজস্ব প্রচারপত্র, যাতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার বিরোধিতা করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেদিন পুরো বিশ্ব চমকে উঠেছিল বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা দেখে।

তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান এই বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, "এটি একটি নির্বিচার সহিংসতা।" তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিও ঘটনার আকস্মিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শত শত বিস্ফোরণের ঘটনা অশনি সংকেত।"

১৯৯৮ থেকে গোপন জাল বিস্তার

১৭ আগস্টের সেই ভয়াবহতা একদিনে তৈরি হয়নি। এটি ছিল প্রায় সাত বছর ধরে গোপনে শিকড় গড়া এক কালো অধ্যায়ের আত্মপ্রকাশ। ১৯৯৮ সালে শায়খ আবদুর রহমানের নেতৃত্বে জেএমবির যাত্রা শুরু হয়েছিল। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জামালপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, পাবনা ও দিনাজপুরে ধীরে ধীরে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে। বিভিন্ন এনজিও, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, থিয়েটার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়ানোর মাধ্যমে এরা স্থানীয় পর্যায়ে গোপনে সংগঠিত হতে থাকে।

২০০১ থেকে ২০০২ সালের দিকে উত্তরাঞ্চলে পুলিশ প্রথম কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও তাদের তথ্য উদ্ধার করার পর জেএমবির নামটি জনপরিসরে সামনে আসে। তবে গ্রেপ্তারদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার নতুন উদ্যমে উগ্রপন্থী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে।

বাংলা ভাইয়ের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় ও নিষেধাজ্ঞা

২০০৪ ও ২০০৫ সালে উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করেই প্রকাশ ঘটে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে ‘বাংলা ভাই’-এর। জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)-এর ব্যানারে তথাকথিত ‘সর্বহারা’ দমনের নামে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মধ্যযুগীয় অত্যাচার ও পৈশাচিক সহিংসতা শুরু হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা ভাইয়ের নাম ব্যাপকভাবে উঠে আসায় জেএমবি আর কোনো গোপন সংগঠন থাকে না, বরং জনপরিসরে এক চরম আতঙ্কের নামে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সরকার জেএমবি ও জেএমজেবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ১৭ আগস্টের সেই সমন্বিত হামলা চালিয়ে সংগঠনটি দেখিয়ে দেয় যে তারা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কতটা মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

বিচারক হত্যা ও রাষ্ট্রকে চরম চ্যালেঞ্জ

সিরিজ বোমা হামলার পর দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু হলেও জেএমবি পিছু হটে নি, বরং আরও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নেয়। তারা বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর সরাসরি হামলা শুরু করে।

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়েকে বহনকারী গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আত্মঘাতী হামলাও চালায় তারা। এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আটক হওয়া শীর্ষ সদস্যদের মুক্ত করতে রাষ্ট্রের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

ফাঁসির মঞ্চে মূল হোতারা ও বিচারিক সমাপনী

রাষ্ট্রের ওপর এমন নজিরবিহীন আঘাতের পর তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হয়। একের পর এক চিরুনি অভিযানে আতাউর রহমান সানি, শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন।

ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে আদালত শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। উচ্চ আদালতে সাজা বহাল থাকার পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করা হলে সেটিও প্রত্যাখ্যান হয়। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মধ্যরাতে ও ৩০ মার্চের প্রথম প্রহরে দেশের চারটি পৃথক কারাগারে এই ছয় শীর্ষ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর মাধ্যমে জেএমবির মূল নেতৃত্ব কার্যত গুঁড়িয়ে যায়।

সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ৯৪টি মামলার রায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সেই কালো দিনটি আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ স্মৃতি হয়ে আছে, যা বারবার মনে করিয়ে দেয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অক্ষুণ্ণ প্রতিরোধের গুরুত্বকে।

ধ্বংস হয়নি মতাদর্শ

জেএমবি’র মূল নেতৃত্বের মৃত্যু হলেও জেল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়ে অথবা জামিনে বের হয়ে এই জঙ্গি সংগঠনের অন্য সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন জঙ্গিসংগঠনের নামে এখনও নাশকতা করছে এবং করার চেষ্টা করছে। এরাই বিভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে ওই সব তরুণ-যুবকরা উগ্রবাদীদের পথেও অগ্রসর হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


'উগ্রবাদের রক্তক্ষয়ী উত্থান থেকে বিচারের মুখোমুখি'

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট, দুপুর নামার আগেই স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬৩টিতেই একযোগে ঘটেছিল প্রায় ৫০০টি বোমা বিস্ফোরণ।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের প্রতিটি প্রান্তের অন্তত ৩০০টি স্থানে একযোগে এই তাণ্ডব চালানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জজ কোর্ট, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে একের পর এক বিকট শব্দে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ।

ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল উগ্রপন্থী সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নিজস্ব প্রচারপত্র, যাতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার বিরোধিতা করে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেদিন পুরো বিশ্ব চমকে উঠেছিল বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা দেখে।

তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনান এই বর্বর ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভের সঙ্গে বলেছিলেন, "এটি একটি নির্বিচার সহিংসতা।" তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিও ঘটনার আকস্মিকতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন, "মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে ৬৩ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শত শত বিস্ফোরণের ঘটনা অশনি সংকেত।"

১৯৯৮ থেকে গোপন জাল বিস্তার

১৭ আগস্টের সেই ভয়াবহতা একদিনে তৈরি হয়নি। এটি ছিল প্রায় সাত বছর ধরে গোপনে শিকড় গড়া এক কালো অধ্যায়ের আত্মপ্রকাশ। ১৯৯৮ সালে শায়খ আবদুর রহমানের নেতৃত্বে জেএমবির যাত্রা শুরু হয়েছিল। উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের জামালপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা থেকে শুরু করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, রাজশাহী, পাবনা ও দিনাজপুরে ধীরে ধীরে সংগঠনটি তাদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করে। বিভিন্ন এনজিও, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, থিয়েটার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিষোদগার ছড়ানোর মাধ্যমে এরা স্থানীয় পর্যায়ে গোপনে সংগঠিত হতে থাকে।

২০০১ থেকে ২০০২ সালের দিকে উত্তরাঞ্চলে পুলিশ প্রথম কয়েকজন সদস্যকে গ্রেপ্তার ও তাদের তথ্য উদ্ধার করার পর জেএমবির নামটি জনপরিসরে সামনে আসে। তবে গ্রেপ্তারদের অনেকেই পরবর্তী সময়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার নতুন উদ্যমে উগ্রপন্থী তৎপরতায় জড়িয়ে পড়ে।

বাংলা ভাইয়ের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় ও নিষেধাজ্ঞা

২০০৪ ও ২০০৫ সালে উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করেই প্রকাশ ঘটে সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে ‘বাংলা ভাই’-এর। জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি)-এর ব্যানারে তথাকথিত ‘সর্বহারা’ দমনের নামে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে মধ্যযুগীয় অত্যাচার ও পৈশাচিক সহিংসতা শুরু হয়। বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলা ভাইয়ের নাম ব্যাপকভাবে উঠে আসায় জেএমবি আর কোনো গোপন সংগঠন থাকে না, বরং জনপরিসরে এক চরম আতঙ্কের নামে পরিণত হয়।

পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সরকার জেএমবি ও জেএমজেবিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ১৭ আগস্টের সেই সমন্বিত হামলা চালিয়ে সংগঠনটি দেখিয়ে দেয় যে তারা রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কতটা মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে।

বিচারক হত্যা ও রাষ্ট্রকে চরম চ্যালেঞ্জ

সিরিজ বোমা হামলার পর দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান শুরু হলেও জেএমবি পিছু হটে নি, বরং আরও আক্রমণাত্মক পথ বেছে নেয়। তারা বিচার বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর সরাসরি হামলা শুরু করে।

২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ সোহেল আহম্মেদ ও জগন্নাথ পাঁড়েকে বহনকারী গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে আত্মঘাতী হামলাও চালায় তারা। এসব হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল আটক হওয়া শীর্ষ সদস্যদের মুক্ত করতে রাষ্ট্রের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করা।

ফাঁসির মঞ্চে মূল হোতারা ও বিচারিক সমাপনী

রাষ্ট্রের ওপর এমন নজিরবিহীন আঘাতের পর তৎকালীন সরকারের শেষ সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হয়। একের পর এক চিরুনি অভিযানে আতাউর রহমান সানি, শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন।

ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে আদালত শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেন। উচ্চ আদালতে সাজা বহাল থাকার পর রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করা হলে সেটিও প্রত্যাখ্যান হয়। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ মধ্যরাতে ও ৩০ মার্চের প্রথম প্রহরে দেশের চারটি পৃথক কারাগারে এই ছয় শীর্ষ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর মাধ্যমে জেএমবির মূল নেতৃত্ব কার্যত গুঁড়িয়ে যায়।

সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সারাদেশে মোট ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ৯৪টি মামলার রায় সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ৩৩৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা এবং ২৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সেই কালো দিনটি আজও বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ স্মৃতি হয়ে আছে, যা বারবার মনে করিয়ে দেয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে অক্ষুণ্ণ প্রতিরোধের গুরুত্বকে।

ধ্বংস হয়নি মতাদর্শ

জেএমবি’র মূল নেতৃত্বের মৃত্যু হলেও জেল থেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়ে অথবা জামিনে বের হয়ে এই জঙ্গি সংগঠনের অন্য সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন জঙ্গিসংগঠনের নামে এখনও নাশকতা করছে এবং করার চেষ্টা করছে। এরাই বিভিন্ন নামে জঙ্গি সংগঠন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-যুবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এতে ওই সব তরুণ-যুবকরা উগ্রবাদীদের পথেও অগ্রসর হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত