সংবাদ

সাতক্ষীরায় ৪০ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে উপকূলবাসী


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

সাতক্ষীরায় ৪০ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে উপকূলবাসী
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ বছরজুড়েই চলে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে একের পর এক বাঁধ মেরামত করা হলেও উপকূলীয় এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। জেলার দুই বিভাগের আওতাধীন ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে অন্তত ৪০টি পয়েন্ট এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কোথাও জোয়ারের পানির চাপে বাঁধে ধস নামছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে নতুন ফাটল। ফলে বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সব সময়ই কাজ করছে লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং পাউবো কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে কাজ টেকসই হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলের জনবসতি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের সাবেক মেম্বার গোলাম রসুল বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারের সময় মাটি ভরাট বা ঢাল সঠিকভাবে তৈরি করা হয় না। প্রয়োজনীয় স্থানে জিওব্যাগসহ সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় বাঁধ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে জোয়ারের চাপে অল্প দিনেই আবার ভাঙন শুরু হয়।’

একই সুর নওয়াবেকি গ্রামের ইকবাল হোসেনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সরকারি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই জায়গায় ভাঙন ধরে। কাজ ঠিকঠাক হলে বারবার একই পয়েন্টে সংস্কার করতে হবে কেন?’

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও বিভাগ-২-এর অধীনে মোট ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে বিভাগ-১-এর অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার এবং বিভাগ-২-এর অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বাঁধ। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দী ও ইছামতীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব বাঁধ উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান রক্ষাকবচ।

সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের ১০ থেকে ১৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে কাজ চলছে। দ্রুতই বাকি পয়েন্টগুলো মেরামত করা হবে।

অন্যদিকে পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, তার অধীনে থাকা ৩০০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চললেও বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য নতুন বরাদ্দের অপেক্ষায় আছেন তারা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জোয়ারের প্রবল চাপকেই বাঁধের এই ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।  

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরায় ৪০ পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে উপকূলবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ বছরজুড়েই চলে। সরকারি অর্থ ব্যয়ে একের পর এক বাঁধ মেরামত করা হলেও উপকূলীয় এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। জেলার দুই বিভাগের আওতাধীন ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে অন্তত ৪০টি পয়েন্ট এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

কোথাও জোয়ারের পানির চাপে বাঁধে ধস নামছে, আবার কোথাও দেখা দিয়েছে নতুন ফাটল। ফলে বাঁধসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সব সময়ই কাজ করছে লোনা পানিতে প্লাবিত হওয়ার উৎকণ্ঠা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং পাউবো কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবে কাজ টেকসই হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, তেমনি ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলের জনবসতি, কৃষিজমি ও মৎস্যঘের।

আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের সাবেক মেম্বার গোলাম রসুল বলেন, ‘বাঁধ সংস্কারের সময় মাটি ভরাট বা ঢাল সঠিকভাবে তৈরি করা হয় না। প্রয়োজনীয় স্থানে জিওব্যাগসহ সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ না থাকায় বাঁধ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে জোয়ারের চাপে অল্প দিনেই আবার ভাঙন শুরু হয়।’

একই সুর নওয়াবেকি গ্রামের ইকবাল হোসেনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সরকারি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই একই জায়গায় ভাঙন ধরে। কাজ ঠিকঠাক হলে বারবার একই পয়েন্টে সংস্কার করতে হবে কেন?’

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও বিভাগ-২-এর অধীনে মোট ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে বিভাগ-১-এর অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার এবং বিভাগ-২-এর অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বাঁধ। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, কালিন্দী ও ইছামতীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব বাঁধ উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান রক্ষাকবচ।

সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবো বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের ১০ থেকে ১৫টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটিতে কাজ চলছে। দ্রুতই বাকি পয়েন্টগুলো মেরামত করা হবে।

অন্যদিকে পাউবো বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, তার অধীনে থাকা ৩০০ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। ৫ কিলোমিটার এলাকায় কাজ চললেও বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য নতুন বরাদ্দের অপেক্ষায় আছেন তারা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জোয়ারের প্রবল চাপকেই বাঁধের এই ক্ষতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।  


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত