সংবাদ

রমেক নিজেই রোগী, মন্ত্রীর আশ্বাসেও কাটছে না হতাশা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

রমেক নিজেই রোগী, মন্ত্রীর আশ্বাসেও কাটছে না হতাশা

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে চরম নৈরাজ্য।সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কুকুরের অবাধ বিচরণে অভিভাবকহীন পুরো হাসপাতাল। ওয়ার্ডের টয়লেটের নোংরা পানিতে সয়লাব বেড পর্যন্ত গড়াচ্ছে পানি। চরম দুর্ভোগে রোগীরা। এসব নাকি কিছুই জানেন না হাসপাতালের কর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমেক হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের ২ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে সেবা নষ্ট হচ্ছে। রোগীরা বলছেন, হাসপাতালটি নামেই, কোনো চিকিৎসা নেই। সেবা নিতে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।

গত ১৪ বছর আগে হাসপাতালটি ৬০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। এখনো ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে পুরো হাসপাতাল। চিকিৎসকের ২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারির পদও অনেক ফাঁকা। অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল-সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে খুবই বেগ পেতে হচ্ছে।

এর মধ্যেই গত ১৬ আগস্ট দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আইসিইউতে আরও ১০ শয্যা সংযোজন, অ্যানেস্থেশিয়া সংকট নিরসনে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তিনি হাসপাতালকে দালালমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে রোগীরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসক-সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার ৬৫ হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট ১ হাজার ২১৪ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৩১ জন। শূন্য রয়েছে ৬৮৩টি পদ। চাহিদার অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে হাসপাতালগুলো চলছে। সেবাপ্রার্থীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে। এতে অনেকেই চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে রমেকের মেডিসিন, গাইনি, শিশুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের বেহাল দশা। সেখানে টয়লেটের পানিতে সয়লাব পুরো ওয়ার্ড। নোংরা পানি গড়িয়ে ঢুকছে রোগীর বেড পর্যন্ত। সঙ্গে ময়লার স্তূপ আর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। টয়লেটে ময়লা আবর্জনা, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পচা খাবার, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। আর ওয়াশরুমের পানি গড়িয়ে ঢুকছে ওয়ার্ডের ভেতরে। ফলে নাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে যাতায়াত করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। রোগীর সেবা করতে এসে এই পরিবেশে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা রহিম মিয়ার ছেলে মো. রহমান জানান, তিনদিন ধরে হাসপাতালে বাবাকে নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে আছি। বেড পাইনি তাই ওয়ার্ডের ফ্লোরে আছি। ৫ ফুট দূরেই টয়লেট। দুর্গন্ধযুক্ত পানি ফ্লোরের বেড পর্যন্ত এসেছে। কোনো রকমে অবস্থান করছি।

মো. রহমান আরও বলেন, দুদিন ধরে টয়লেটে যাই না। সেখানে দরজার সিটকিনি নেই। অন্য কোনো রোগী বা তাদের স্বজন টয়লেটে এলে দরজা চেপে ধরতে হয়। তাছাড়া ওয়ার্ডের আড়াইশ রোগীর জন্য মাত্র একটি টয়লেট। তাও ব্যবহার অনুপযোগী।

নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে আসা মমিনা বেগম জানান, তার স্বামী পেইং বেডে আছেন। সেখানেও টয়লেটের দুর্গন্ধযুক্ত পানি। আর টয়লেটের প্রবেশ পথ তো পানিতে সয়লাব। এভাবে কি থাকা যায়?

মমিনা বেগম আরও বলেন, ‘এমনিতেই ডাক্তার আসেন দিনে ২/১ বার। বিভিন্ন ধরনের টেস্ট লিখে দিয়ে চলে যান। হাসপাতালের বাইরে থেকে টেস্ট করে আনতে হয়। প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় না এখানে।’

রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে আসা মমতাজ মিয়া বললেন, ‘হাসপাতালটি নামেই, কোনো চিকিৎসা নেই। ২/৪টি ট্যাবলেট ছাড়া সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। ফলে আমাদের মতো সহায়সম্বলহীন রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

অতিরিক্ত রোগীর চাপে মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে মিলছে না। প্যারাসিটামল ও গ্যাসের ওষুধ ছাড়া অধিকাংশই কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

হাসপাতালের বেশিরভাগ টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। তার ওপর উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো দিনের পর দিন টয়লেটের আশপাশে ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে থাকাই যায় না। প্রায় সব ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এমন দুরবস্থা।

এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজারের বেশি রোগী থাকেন। সে কারণে অতিরিক্ত রোগীদের চাপে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করলেন কর্তব্যরত নার্স, আয়ারা। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় সেবা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালের দোতলা ও নিচতলায় কুকুরের অবাধ বিচরণ দেখার যেন কেউ নেই। রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ অনেকের।

কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু যখন হাসপাতালে আসেন, তাকে নির্দিষ্ট ২/১টি ওয়ার্ডে পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে হাসপাতালের প্রকৃত চিত্র তাকে জানানো হয় না। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের আকস্মিক পরিদর্শনে আসা উচিত।তাহলে আসল চিত্র দেখতে পারবেন।

রোগীর স্বজন আর স্থানীয়রা বললেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা দালাল সিন্ডিকেট। তারাই অঘোষিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হাসপাতাল। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সার্বিক বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে ফোনে কথা বলা হয় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে সমাধানের আশ্বাস দেন।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


রমেক নিজেই রোগী, মন্ত্রীর আশ্বাসেও কাটছে না হতাশা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) স্বাস্থ্য সেবার নামে চলছে চরম নৈরাজ্য।সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা পড়েছেন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। কুকুরের অবাধ বিচরণে অভিভাবকহীন পুরো হাসপাতাল। ওয়ার্ডের টয়লেটের নোংরা পানিতে সয়লাব বেড পর্যন্ত গড়াচ্ছে পানি। চরম দুর্ভোগে রোগীরা। এসব নাকি কিছুই জানেন না হাসপাতালের কর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রমেক হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের ২ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটে সেবা নষ্ট হচ্ছে। রোগীরা বলছেন, হাসপাতালটি নামেই, কোনো চিকিৎসা নেই। সেবা নিতে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন।

গত ১৪ বছর আগে হাসপাতালটি ৬০০ শয্যা থেকে ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। এখনো ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে পুরো হাসপাতাল। চিকিৎসকের ২৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারির পদও অনেক ফাঁকা। অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল-সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে খুবই বেগ পেতে হচ্ছে।

এর মধ্যেই গত ১৬ আগস্ট দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু হাসপাতাল পরিদর্শন করে উন্নয়নের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, হাসপাতালটিকে পূর্ণাঙ্গ ১০০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আইসিইউতে আরও ১০ শয্যা সংযোজন, অ্যানেস্থেশিয়া সংকট নিরসনে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন কার্যক্রম চালুর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। তিনি হাসপাতালকে দালালমুক্ত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে কঠোর ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দেন।

তবে রোগীরা সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন না। চিকিৎসক-সংকটের কারণে হাসপাতালগুলোয় চিকিৎসা কার্যক্রম চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রংপুর বিভাগের আট জেলার ৬৫ হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট ১ হাজার ২১৪ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৩১ জন। শূন্য রয়েছে ৬৮৩টি পদ। চাহিদার অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে হাসপাতালগুলো চলছে। সেবাপ্রার্থীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটতে হচ্ছে। এতে অনেকেই চিকিৎসার নামে প্রতারিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে রমেকের মেডিসিন, গাইনি, শিশুসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে হাসপাতালের ভয়াবহ চিত্র। পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডের বেহাল দশা। সেখানে টয়লেটের পানিতে সয়লাব পুরো ওয়ার্ড। নোংরা পানি গড়িয়ে ঢুকছে রোগীর বেড পর্যন্ত। সঙ্গে ময়লার স্তূপ আর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। টয়লেটে ময়লা আবর্জনা, দীর্ঘদিন পড়ে থাকা পচা খাবার, ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। আর ওয়াশরুমের পানি গড়িয়ে ঢুকছে ওয়ার্ডের ভেতরে। ফলে নাকে কাপড় দিয়ে ঢেকে যাতায়াত করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। রোগীর সেবা করতে এসে এই পরিবেশে নিজেরাই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা রহিম মিয়ার ছেলে মো. রহমান জানান, তিনদিন ধরে হাসপাতালে বাবাকে নিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে আছি। বেড পাইনি তাই ওয়ার্ডের ফ্লোরে আছি। ৫ ফুট দূরেই টয়লেট। দুর্গন্ধযুক্ত পানি ফ্লোরের বেড পর্যন্ত এসেছে। কোনো রকমে অবস্থান করছি।

মো. রহমান আরও বলেন, দুদিন ধরে টয়লেটে যাই না। সেখানে দরজার সিটকিনি নেই। অন্য কোনো রোগী বা তাদের স্বজন টয়লেটে এলে দরজা চেপে ধরতে হয়। তাছাড়া ওয়ার্ডের আড়াইশ রোগীর জন্য মাত্র একটি টয়লেট। তাও ব্যবহার অনুপযোগী।

নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে আসা মমিনা বেগম জানান, তার স্বামী পেইং বেডে আছেন। সেখানেও টয়লেটের দুর্গন্ধযুক্ত পানি। আর টয়লেটের প্রবেশ পথ তো পানিতে সয়লাব। এভাবে কি থাকা যায়?

মমিনা বেগম আরও বলেন, ‘এমনিতেই ডাক্তার আসেন দিনে ২/১ বার। বিভিন্ন ধরনের টেস্ট লিখে দিয়ে চলে যান। হাসপাতালের বাইরে থেকে টেস্ট করে আনতে হয়। প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় না এখানে।’

রংপুরের বদরগঞ্জ থেকে আসা মমতাজ মিয়া বললেন, ‘হাসপাতালটি নামেই, কোনো চিকিৎসা নেই। ২/৪টি ট্যাবলেট ছাড়া সবই বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। ফলে আমাদের মতো সহায়সম্বলহীন রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

অতিরিক্ত রোগীর চাপে মেঝে, করিডোর ও বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে রোগী ও স্বজনদের। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে মিলছে না। প্যারাসিটামল ও গ্যাসের ওষুধ ছাড়া অধিকাংশই কিনতে হচ্ছে বাইরে থেকে।

হাসপাতালের বেশিরভাগ টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। তার ওপর উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো দিনের পর দিন টয়লেটের আশপাশে ফেলে রাখায় দুর্গন্ধে থাকাই যায় না। প্রায় সব ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে চলছে এমন দুরবস্থা।

এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজারের বেশি রোগী থাকেন। সে কারণে অতিরিক্ত রোগীদের চাপে নানা সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করলেন কর্তব্যরত নার্স, আয়ারা। এ ছাড়াও প্রয়োজনীয় সেবা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। হাসপাতালের দোতলা ও নিচতলায় কুকুরের অবাধ বিচরণ দেখার যেন কেউ নেই। রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ অনেকের।

কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু যখন হাসপাতালে আসেন, তাকে নির্দিষ্ট ২/১টি ওয়ার্ডে পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে হাসপাতালের প্রকৃত চিত্র তাকে জানানো হয় না। তাই মন্ত্রী মহোদয়ের আকস্মিক পরিদর্শনে আসা উচিত।তাহলে আসল চিত্র দেখতে পারবেন।

রোগীর স্বজন আর স্থানীয়রা বললেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা দালাল সিন্ডিকেট। তারাই অঘোষিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে হাসপাতাল। আর এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সার্বিক বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে ফোনে কথা বলা হয় পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে সমাধানের আশ্বাস দেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত