সংবাদ

পাবনায় পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন


 নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪২ এএম

পাবনায় পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন
ছবি : সংবাদ

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় নদীর তীর ঘেঁষে অবাধে বালু তোলায় এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, বালু তোলায় বাধা দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালাচ্ছে। প্রতিদিন ভোররাত তিনটে থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এমনকি নৌ-পুলিশের টহল চলাকালেই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাহারা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় ছয়টি শক্তিশালী ‘চায়না কাটার’ মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সেই বালু শতাধিক ট্রলারে ভরে পাবনার ভাঁড়ারা, দোগাছী ছাড়াও কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল আলিম এবং দোগাছী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। চর বলরামপুর এলাকার খোকন নামের এক ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই কাজ পরিচালনা করছেন।

নদী পাড়ের কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অস্ত্রের পাহারায় বালু কাটা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না।’ উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস আগে এই এলাকাতেই অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে মঞ্জু শেখ নামের এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনার পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আশ্রাফ আলীও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


পাবনায় পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় নদীর তীর ঘেঁষে অবাধে বালু তোলায় এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকদের শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, বালু তোলায় বাধা দিলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করে প্রভাবশালী চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্ম চালাচ্ছে। প্রতিদিন ভোররাত তিনটে থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এমনকি নৌ-পুলিশের টহল চলাকালেই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পাহারা দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোত কাকুরিয়া কলাবাগান এলাকায় ছয়টি শক্তিশালী ‘চায়না কাটার’ মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। সেই বালু শতাধিক ট্রলারে ভরে পাবনার ভাঁড়ারা, দোগাছী ছাড়াও কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ীর বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘাট থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার অবৈধ বালু বাণিজ্য চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আব্দুল আলিম এবং দোগাছী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলীসহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। চর বলরামপুর এলাকার খোকন নামের এক ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই কাজ পরিচালনা করছেন।

নদী পাড়ের কৃষকেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অস্ত্রের পাহারায় বালু কাটা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল পাচ্ছি না।’ উল্লেখ্য, প্রায় দেড় মাস আগে এই এলাকাতেই অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিতে গিয়ে মঞ্জু শেখ নামের এক বিএনপি নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই ঘটনার পর কিছুদিন বন্ধ থাকলেও আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রটি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল আলিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পাবনা জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আশ্রাফ আলীও জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত