সংবাদ

পাবনায় গ্যাসের সন্ধানে ১ হাজার ১৩৬ কোটির মেগা প্রকল্প


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

পাবনায় গ্যাসের সন্ধানে ১ হাজার ১৩৬ কোটির মেগা প্রকল্প
ছবি : সংবাদ

পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে পরিত্যক্ত একটি গ্যাসকূপে পুনরায় খননকাজ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ২০১৪ সালে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে একবার খননকাজ ব্যর্থ হলেও এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খনন করা হবে। সফল হলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে উন্নয়নকাজ চলছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের শেষ নাগাদ এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রচণ্ড গ্যাসের চাপ মোকাবিলা করার মতো প্রযুক্তি তখন না থাকায় কাজ স্থগিত করা হয়। এবার চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড’ (সিসিডিসি)-এর কারিগরি সহায়তায় গভীর অনুসন্ধান চালানো হবে। ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পে তিনটি গভীর কূপ খনন করা হবে, যার একটি মোবারকপুর।

মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, “৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমানে জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে।”

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, আগের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

বাপেক্সের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনাবাসী এখানে একটি স্থায়ী গ্যাসক্ষেত্রের স্বপ্ন দেখে আসছেন। এবারের উদ্যোগ সেই স্বপ্ন পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


পাবনায় গ্যাসের সন্ধানে ১ হাজার ১৩৬ কোটির মেগা প্রকল্প

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাবনার সুজানগর উপজেলার মোবারকপুরে পরিত্যক্ত একটি গ্যাসকূপে পুনরায় খননকাজ শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। ২০১৪ সালে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে একবার খননকাজ ব্যর্থ হলেও এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরতায় খনন করা হবে। সফল হলে এটিই হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সুজানগর উপজেলার আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে অধিগ্রহণ করা ৬ একর জমিতে উন্নয়নকাজ চলছে। তবে মূল খননকাজ শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই বছরের শেষ নাগাদ এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হতে পারে।

বাপেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার গভীরতায় খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রচণ্ড গ্যাসের চাপ মোকাবিলা করার মতো প্রযুক্তি তখন না থাকায় কাজ স্থগিত করা হয়। এবার চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড’ (সিসিডিসি)-এর কারিগরি সহায়তায় গভীর অনুসন্ধান চালানো হবে। ১ হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পে তিনটি গভীর কূপ খনন করা হবে, যার একটি মোবারকপুর।

মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম বলেন, “৬ কিলোমিটারের বেশি গভীরে খননের জন্য উন্নত কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োজন। এ জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। বর্তমানে জমি উন্নয়ন ও পাইলিংয়ের কাজ চলছে।”

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বলেন, আগের অভিজ্ঞতার আলোকে এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই ক্ষেত্র থেকে ২০ বছর ধরে দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

বাপেক্সের উপসহকারী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জানান, ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ গত ২৭ জুলাই শুরু হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাবনাবাসী এখানে একটি স্থায়ী গ্যাসক্ষেত্রের স্বপ্ন দেখে আসছেন। এবারের উদ্যোগ সেই স্বপ্ন পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত