প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়ভার বহন করতে হবে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকেই। ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা ২০২৬’ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের তাদের পণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল না করলে নিবন্ধন নবায়ন না হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সকল প্লাস্টিক পণ্য এবং তালিকাভুক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। তবে রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে।
নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. কঠিন প্লাস্টিক, ২. নমনীয় প্লাস্টিক, ৩. স্টাইরোফোম/ইপিএস, ৪. সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক আর ৫. স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, সিগারেট ফিল্টারের মতো অন্যান্য প্লাস্টিক।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দুই বছর বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরের দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে গিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে।
তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। কোম্পানিগুলোকে একক বা যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালিকাভুক্তির প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭.৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরের বছরগুলোতে ৩০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগৃহীত বর্জ্য সরকার-অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন। এটি বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণ, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং চক্রাকার অর্থনীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও প্লাস্টিক দূষণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রয়াসকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করছে সরকার।

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়ভার বহন করতে হবে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকেই। ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা ২০২৬’ জারি করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। এতে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের তাদের পণ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল না করলে নিবন্ধন নবায়ন না হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সকল প্লাস্টিক পণ্য এবং তালিকাভুক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। তবে রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এর আওতার বাইরে থাকবে।
নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১. কঠিন প্লাস্টিক, ২. নমনীয় প্লাস্টিক, ৩. স্টাইরোফোম/ইপিএস, ৪. সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক আর ৫. স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, সিগারেট ফিল্টারের মতো অন্যান্য প্লাস্টিক।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দুই বছর বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরের দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে গিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে।
তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে তিন বছর। কোম্পানিগুলোকে একক বা যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তালিকাভুক্তির প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭.৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরের বছরগুলোতে ৩০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগৃহীত বর্জ্য সরকার-অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন। এটি বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণ, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং চক্রাকার অর্থনীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও প্লাস্টিক দূষণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রয়াসকে আরও জোরদার করবে বলে মনে করছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন