জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। এখন থেকে অটোরিকশা নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হিসেবে ‘সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ’ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহন চার্জ করতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এই খাত, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, এই বিদ্যুতের একটি বড় অংশই খরচ হয় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে।
তথ্য বলছে, শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং প্রায় ১ হাজার অবৈধ গ্যারেজ রয়েছে। এসব জায়গা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার ফলে সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তবে নিবন্ধন পেতে হলে মালিককে অবশ্যই সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
অবশ্য এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘সারা দেশে ৬০ লাখ অটোরিকশার জন্য প্রয়োজনীয় সোলার চার্জিং অবকাঠামো ও স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। শুরুতে হাইব্রিড পদ্ধতিতে গিয়ে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো যেতে পারে।’
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুতগতির এই তিন চাকার যানবাহনের কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
\

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে সরকার। এখন থেকে অটোরিকশা নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত হিসেবে ‘সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ’ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক এক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। এসব যানবাহন চার্জ করতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। প্রতিদিন জাতীয় গ্রিড থেকে প্রায় ৮০০ থেকে ৮৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এই খাত, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ। অভিযোগ রয়েছে, এই বিদ্যুতের একটি বড় অংশই খরচ হয় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে।
তথ্য বলছে, শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং প্রায় ১ হাজার অবৈধ গ্যারেজ রয়েছে। এসব জায়গা থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫৫ কোটি টাকার বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যার ফলে সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। তবে নিবন্ধন পেতে হলে মালিককে অবশ্যই সৌরবিদ্যুৎ বা সোলার চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ করার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
অবশ্য এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘সারা দেশে ৬০ লাখ অটোরিকশার জন্য প্রয়োজনীয় সোলার চার্জিং অবকাঠামো ও স্টোরেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। শুরুতে হাইব্রিড পদ্ধতিতে গিয়ে ধীরে ধীরে সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো যেতে পারে।’
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, দ্রুতগতির এই তিন চাকার যানবাহনের কারণে প্রায় ৩০ শতাংশ যাত্রী বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনার শিকার হন। নতুন এই নীতিমালা কার্যকর হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে বিপুল রাজস্ব ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
\

আপনার মতামত লিখুন