সংবাদ

শিক্ষার্থীদের মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী


প্রতিনিধি, সখিপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, সখিপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

শিক্ষার্থীদের মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী
চেক হস্তান্তর করছেন মন্ত্রী আহমেদ আযম। ছবি : সংবাদ

এসএসসি পাসের আনন্দ ছিল সবার মনে। কিন্তু সহপাঠী নাঈম শিকদারের চোখে ছিল জল; কারণ তার মা ক্যানসারে আক্রান্ত। বন্ধুর এই বিপদে এগিয়ে আসে সহপাঠীরা। মিষ্টি খাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে তারা তুলে দেয় নাঈমের ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায়। কিশোর শিক্ষার্থীদের এমন বিরল মানবিকতার খবর পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবার অসুস্থ লাইলী বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২ লাখ টাকার চেক লাইলী বেগমের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এই অনুদান হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, চিকিৎসার জন্য খুব শিগগিরই আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

লাইলী বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা। সহায়-সম্বলহীন এই পরিবারের পক্ষে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, 'এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে শিক্ষার্থীরা বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় টাকা দিয়েছে–এই খবরটি শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন লাইলী বেগমের চিকিৎসার যাবতীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে। আজ ২ লাখ টাকা দেওয়া হলো, বাকি ৩ লাখ টাকাও দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।'

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ আগস্ট। এসএসসি পাসের পর নাঈমের সহপাঠীরা নিজেদের জমানো ২০ হাজার টাকা তার মায়ের চিকিৎসায় দেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা মিলে আরও ২০ হাজার টাকা যোগ করেন। এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সখীপুর-বাসাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন, থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের এই ছোট্ট ত্যাগ যে বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, সখিপুরের এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষার্থীদের মানবিকতায় মুগ্ধ হয়ে পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

এসএসসি পাসের আনন্দ ছিল সবার মনে। কিন্তু সহপাঠী নাঈম শিকদারের চোখে ছিল জল; কারণ তার মা ক্যানসারে আক্রান্ত। বন্ধুর এই বিপদে এগিয়ে আসে সহপাঠীরা। মিষ্টি খাওয়ার টাকা বাঁচিয়ে তারা তুলে দেয় নাঈমের ক্যানসার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসায়। কিশোর শিক্ষার্থীদের এমন বিরল মানবিকতার খবর পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এবার অসুস্থ লাইলী বেগমের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার কালিদাস কলতান বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২ লাখ টাকার চেক লাইলী বেগমের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এই অনুদান হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি ঘোষণা দেন, চিকিৎসার জন্য খুব শিগগিরই আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

লাইলী বেগম বর্তমানে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনূস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ওই বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী নাঈম শিকদারের মা। সহায়-সম্বলহীন এই পরিবারের পক্ষে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, 'এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টি না কিনে শিক্ষার্থীরা বন্ধুর মায়ের চিকিৎসায় টাকা দিয়েছে–এই খবরটি শুনে প্রধানমন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়েছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন লাইলী বেগমের চিকিৎসার যাবতীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে। আজ ২ লাখ টাকা দেওয়া হলো, বাকি ৩ লাখ টাকাও দ্রুত হস্তান্তর করা হবে।'

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ আগস্ট। এসএসসি পাসের পর নাঈমের সহপাঠীরা নিজেদের জমানো ২০ হাজার টাকা তার মায়ের চিকিৎসায় দেয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা মিলে আরও ২০ হাজার টাকা যোগ করেন। এই মানবিক উদ্যোগ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সখীপুর-বাসাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন, থানার ওসি মো. মুরাদ হোসেন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের এই ছোট্ট ত্যাগ যে বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, সখিপুরের এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত