গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন গ্রামবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম। পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ধসে গেছে দুই পাশের মাটিও। অথচ ১৮ বছর ধরে কোনো সংস্কার হয়নি সড়কটির। কেন হয়নি–এলজিইডির কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে একটি কারিগরি শব্দে; সেটি হলো ‘রোড আইডি’ না থাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ থেকে দুর্গাপুরগামী এই সড়কটির এখন কঙ্কালসার দশা। ২০০৭ সালে শেষবার সড়কটিতে পিচ ঢালাই করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় কোনো মেরামতের কাজ না হওয়ায় অনেক স্থানে সড়কের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া দায়। অন্তত ১৫টি পয়েন্টে গভীর গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ১৮ বছর ধরে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। পথচারীরা হোঁচট খাচ্ছেন, অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের খরচ ও দুর্ভোগ–দুটোই বেড়েছে বহুগুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, 'সড়ক নয়, এটি যেন এখন মরণফাঁদ। রাতের বেলা তো দূরের কথা, দিনের আলোতেও এই পথে সুস্থভাবে চলাফেরা করা কঠিন।' কৃষক মজিবর রহমানের ভাষায়, 'এলাকার একমাত্র সড়কটির এমন অবস্থা যে এখন পায়ে হেঁটে চলাও যেন মস্ত বড় পরীক্ষা।'
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি পাকাকরণের সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এর জন্য নির্ধারিত ‘রোড আইডি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক এই জটিলতার কারণেই ১৮ বছর ধরে সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। অর্থাৎ, সরকারি নথিতে সড়কটির নাম থাকলেও এর কারিগরি পরিচয়ের ত্রুটির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, 'কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির আইডি সংশোধিত হয়নি। তবে আমরা নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
গ্রামবাসীর দাবি, দাপ্তরিক জটিলতা যা-ই থাকুক, তাদের দুর্ভোগ যেন দীর্ঘায়িত না হয়। যে পথে চলাচল করা দায়, সেই পথ যেন দ্রুত চলাচলের উপযোগী হয়–এটাই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া।

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন গ্রামবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম। পিচ উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, ধসে গেছে দুই পাশের মাটিও। অথচ ১৮ বছর ধরে কোনো সংস্কার হয়নি সড়কটির। কেন হয়নি–এলজিইডির কাছে এমন প্রশ্নের উত্তর মিলছে একটি কারিগরি শব্দে; সেটি হলো ‘রোড আইডি’ না থাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ থেকে দুর্গাপুরগামী এই সড়কটির এখন কঙ্কালসার দশা। ২০০৭ সালে শেষবার সড়কটিতে পিচ ঢালাই করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় কোনো মেরামতের কাজ না হওয়ায় অনেক স্থানে সড়কের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া দায়। অন্তত ১৫টি পয়েন্টে গভীর গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিমবাটি এলাকার বাসিন্দারা জানান, ১৮ বছর ধরে এই পথে চলাচল করতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। পথচারীরা হোঁচট খাচ্ছেন, অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে কৃষকদের খরচ ও দুর্ভোগ–দুটোই বেড়েছে বহুগুণ।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, 'সড়ক নয়, এটি যেন এখন মরণফাঁদ। রাতের বেলা তো দূরের কথা, দিনের আলোতেও এই পথে সুস্থভাবে চলাফেরা করা কঠিন।' কৃষক মজিবর রহমানের ভাষায়, 'এলাকার একমাত্র সড়কটির এমন অবস্থা যে এখন পায়ে হেঁটে চলাও যেন মস্ত বড় পরীক্ষা।'
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি পাকাকরণের সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এর জন্য নির্ধারিত ‘রোড আইডি’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক এই জটিলতার কারণেই ১৮ বছর ধরে সংস্কারের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। অর্থাৎ, সরকারি নথিতে সড়কটির নাম থাকলেও এর কারিগরি পরিচয়ের ত্রুটির খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ।
সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী নয়ন রায় সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, 'কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন সড়কটির আইডি সংশোধিত হয়নি। তবে আমরা নতুন করে প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলেই দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
গ্রামবাসীর দাবি, দাপ্তরিক জটিলতা যা-ই থাকুক, তাদের দুর্ভোগ যেন দীর্ঘায়িত না হয়। যে পথে চলাচল করা দায়, সেই পথ যেন দ্রুত চলাচলের উপযোগী হয়–এটাই এখন তাদের একমাত্র চাওয়া।

আপনার মতামত লিখুন