সংবাদ

যে ঘরে ওঠার কথা ছিল, তার সামনেই সাজুর কবর


মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা
মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১১ পিএম

যে ঘরে ওঠার কথা ছিল, তার সামনেই সাজুর কবর
ছবি : সংবাদ

একতলা বাড়িটির সামনে স্তূপ করে রাখা নতুন ইট। দোতলার ঘর নির্মাণের সব প্রস্তুতিও ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু সেই বাড়ির সামনেই আজ খোঁড়া হয়েছে একটি কবর। যে ঘরে ওঠার কথা ছিল এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর, সেখানেই আজ তৈরি হলো তার শেষ ঠিকানা।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি উঠানে ঢোকার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

নিহত সাজু ছিলেন পেশায় মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী। এলাকায় পরোপকারী হিসেবে তার বেশ পরিচিতি ছিল। গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হন। চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন তিনি, আর পরদিনই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

সাজুর বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সাজু ভাই বলেছিলেন ইন্ডিয়া থেকে এসে নতুন ঘরের কাজ ধরবেন। ইটও এনে রাখা হয়েছিল। ভাই আসলেন ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে।’ সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে নতুন বাড়ির সামনেই সাজুকে দাফন করা হবে।

এর আগে আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ অবশ্য দেশে আনা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্তে গতকাল শুক্রবার রাতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাজুর মরদেহ ভোমরা দিয়ে এবং বাকিদের মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার এই মরদেহ হস্তান্তরের যাবতীয় ব্যয় বহন করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


যে ঘরে ওঠার কথা ছিল, তার সামনেই সাজুর কবর

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

একতলা বাড়িটির সামনে স্তূপ করে রাখা নতুন ইট। দোতলার ঘর নির্মাণের সব প্রস্তুতিও ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু সেই বাড়ির সামনেই আজ খোঁড়া হয়েছে একটি কবর। যে ঘরে ওঠার কথা ছিল এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর, সেখানেই আজ তৈরি হলো তার শেষ ঠিকানা।

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামে সাজুর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল এমন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাজুর মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাতুর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি উঠানে ঢোকার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা।

নিহত সাজু ছিলেন পেশায় মৎস্য ঘের ব্যবসায়ী। এলাকায় পরোপকারী হিসেবে তার বেশ পরিচিতি ছিল। গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে তিনি নিহত হন। চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন তিনি, আর পরদিনই তার দেশে ফেরার কথা ছিল।

সাজুর বাড়ির কেয়ারটেকার ইসমাইল হোসেন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘সাজু ভাই বলেছিলেন ইন্ডিয়া থেকে এসে নতুন ঘরের কাজ ধরবেন। ইটও এনে রাখা হয়েছিল। ভাই আসলেন ঠিকই, কিন্তু লাশ হয়ে।’ সাজুর বড় ভাই সাহেব সরদার জানান, আসরের নামাজের পর জানাজা শেষে নতুন বাড়ির সামনেই সাজুকে দাফন করা হবে।

এর আগে আজ বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে সাজুর মরদেহ বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার রেবতী সরকারের মরদেহ অবশ্য দেশে আনা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্তে গতকাল শুক্রবার রাতে কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।

কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সাজুর মরদেহ ভোমরা দিয়ে এবং বাকিদের মরদেহ বেনাপোল দিয়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকার এই মরদেহ হস্তান্তরের যাবতীয় ব্যয় বহন করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত