সংবাদ

এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী ‘বিরল’ প্রশাসনিক পরীক্ষা


বিশাখা চৌধুরী
বিশাখা চৌধুরী
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী ‘বিরল’ প্রশাসনিক পরীক্ষা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ও হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন একজন মন্ত্রীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন দুই প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদের সঙ্গে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আছেন ড. খলিলুর রহমান।

এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর মধ্যে বণ্টন করতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী কোন কোন কাজ করবেন, সেটিও নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই। তবে বাংলাদেশে একই মন্ত্রণালয়ে একই সময়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকা অত্যন্ত বিরল।

এর আগে এক মন্ত্রণালয় বা বৃহৎ মন্ত্রণালয়সমষ্টির দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ভাগ করার নজির দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের শুরুতেই সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন-সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে একটি একক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী একসঙ্গে দায়িত্ব পালন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ব্যবস্থা সেই দিক থেকে ব্যতিক্রমী।

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনার পেছনে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করেছেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজ ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি আগে থেকেই রয়েছে।

তবে এর পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে তাকে দীর্ঘ সময় নিউইয়র্কে ব্যস্ত থাকতে হবে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের ভাষণ পরিচালনা, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সময় দিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি না করে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ হয়ে বিদেশি রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, রাষ্ট্রীয় সফর এবং সরকারি আলোচনা ও সমঝোতায় আরও কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

তবে দুই প্রতিমন্ত্রী রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন। কে কোন দেশ, কোন অঞ্চল বা কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু দেখবেন- তা পরিষ্কার না হলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে। পররাষ্ট্রনীতিতে সরকারের একটি অভিন্ন অবস্থান ও একটি সমন্বিত বার্তা থাকা জরুরি।

অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে কাজের গতি বাড়াতে বড় মন্ত্রণালয়গুলোতে (যেমন— স্বরাষ্ট্র, তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়) একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা একই মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি একাধিক প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী নিয়োগের উদাহরণ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) সময়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর যৌথ প্যানেল তৈরি করার নজির রয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারের (১৯৮২-১৯৯০) সময়েও বিশাল আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের রেকর্ড রয়েছে। যেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ ও কাজের সুবিধার্থে একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতো।

সর্বশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার মন্ত্রিসভার প্রথম বড় রদবদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং নতুন করে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত হয়েছেন হুমায়ুন কবির। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অধীনে একই সঙ্গে দুইজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে শুধু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরোটা বোঝা যাবে না। বরং এটি খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সময়ে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা বলেই মনে করছেন অনেকে।একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় বিরল এক প্রশাসনিক পরীক্ষাও। যার সাফল্য নির্ভর করবে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয়ের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী ‘বিরল’ প্রশাসনিক পরীক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন একজন মন্ত্রীর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন দুই প্রতিমন্ত্রী। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিসভায় রদবদলের পর হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই দায়িত্বে থাকা শামা ওবায়েদের সঙ্গে তিনি একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আছেন ড. খলিলুর রহমান।

এক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ নয়। ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর মধ্যে বণ্টন করতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী কোন কোন কাজ করবেন, সেটিও নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে সাংবিধানিক বা প্রশাসনিক কোনো বাধা নেই। তবে বাংলাদেশে একই মন্ত্রণালয়ে একই সময়ে দুই প্রতিমন্ত্রী থাকা অত্যন্ত বিরল।

এর আগে এক মন্ত্রণালয় বা বৃহৎ মন্ত্রণালয়সমষ্টির দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ভাগ করার নজির দেখা গেছে। বর্তমান সরকারের শুরুতেই সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও নৌপরিবহন-সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে একটি একক মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী একসঙ্গে দায়িত্ব পালন- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান ব্যবস্থা সেই দিক থেকে ব্যতিক্রমী।

হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনার পেছনে তার দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন এবং সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করেছেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের কাজ ও সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি আগে থেকেই রয়েছে।

তবে এর পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া অধিবেশনে তাকে দীর্ঘ সময় নিউইয়র্কে ব্যস্ত থাকতে হবে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের ভাষণ পরিচালনা, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সময় দিতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন রাজনৈতিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি না করে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উপদেষ্টা হিসেবে তিনি সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারতেন, কিন্তু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক কাঠামোর অংশ হয়ে বিদেশি রাষ্ট্রের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক, রাষ্ট্রীয় সফর এবং সরকারি আলোচনা ও সমঝোতায় আরও কার্যকরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।

তবে দুই প্রতিমন্ত্রী রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দায়িত্বের সুস্পষ্ট বিভাজন। কে কোন দেশ, কোন অঞ্চল বা কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু দেখবেন- তা পরিষ্কার না হলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হতে পারে। পররাষ্ট্রনীতিতে সরকারের একটি অভিন্ন অবস্থান ও একটি সমন্বিত বার্তা থাকা জরুরি।

অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে কাজের গতি বাড়াতে বড় মন্ত্রণালয়গুলোতে (যেমন— স্বরাষ্ট্র, তথ্য, প্রবাসী কল্যাণ বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়) একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা একই মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পাশাপাশি একাধিক প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রী নিয়োগের উদাহরণ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) সময়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর যৌথ প্যানেল তৈরি করার নজির রয়েছে।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারের (১৯৮২-১৯৯০) সময়েও বিশাল আকারের মন্ত্রিসভা গঠনের রেকর্ড রয়েছে। যেখানে রাজনৈতিক সমীকরণ ও কাজের সুবিধার্থে একই মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হতো।

সর্বশেষ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার মন্ত্রিসভার প্রথম বড় রদবদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একসঙ্গে দুজনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে আগে থেকেই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং নতুন করে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুক্ত হয়েছেন হুমায়ুন কবির। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অধীনে একই সঙ্গে দুইজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রী নিয়োগকে শুধু মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরোটা বোঝা যাবে না। বরং এটি খলিলুর রহমানের আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সময়ে মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি কৌশলগত ব্যবস্থা বলেই মনে করছেন অনেকে।একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় বিরল এক প্রশাসনিক পরীক্ষাও। যার সাফল্য নির্ভর করবে দায়িত্ব বণ্টন ও সমন্বয়ের ওপর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত