সারা বছর কৃষকের জমিতে পাওয়ার টিলার চালিয়েছেন। কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে নগদে এক টাকাও নেননি। বছর শেষে সেই বকেয়া টাকা তুলতেই ব্যতিক্রমী এক ‘হালখাতা’ উৎসবের আয়োজন করলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার কৃষক আনন্দ মন্ডল। বকেয়া শোধ করতে আসা কৃষকদের তিনি আপ্যায়ন করছেন নিজের বাড়িতে বানানো গরম জিলাপি দিয়ে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শৈলকুপা পৌরসভার সাতগাছি গ্রামের পশ্চিমপাড়া মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানে চলে এই আয়োজন। হালখাতার টেবিলের পাশেই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল আনন্দ মন্ডলের আয়ের মূল উৎস সেই পাওয়ার টিলারটি।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মন্ডল গত ১০ বছর ধরে নিজের পাওয়ার টিলার দিয়ে গ্রামের কৃষকদের জমি চাষ করে আসছেন। তবে তার কাজের ধরন অন্য সবার চেয়ে আলাদা। চাষের মৌসুমে কৃষকদের হাতে টাকা থাকুক বা না থাকুক, আনন্দ ঠিকই জমি চাষ করে দেন। পুরো বছর জুড়ে বাকিতে চাষ করার সুযোগ পান স্থানীয় কৃষকেরা। আর বছর শেষে ঘটা করে আয়োজন করা হয় এই হালখাতা উৎসবের।
আনন্দ মন্ডল জানান, চলতি বছরে তিনি গ্রামের প্রায় ১২০ জন কৃষকের জমি সম্পূর্ণ বাকিতে চাষ করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কৃষকদের কাছে তার পাওনা প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এই টাকা তুলতেই উৎসবমুখর পরিবেশে হালখাতার আয়োজন। তিনি বলেন, ‘কৃষক ভাইদের কষ্টের কথা চিন্তা করেই আমি সারা বছর বাকিতে চাষ করি। আজ তারা খুশি মনে বকেয়া শোধ করছেন, আমিও তাদের মিষ্টিমুখ করাচ্ছি।’
হালখাতায় বকেয়া শোধ করতে আসা কৃষক ওবায়দুল ও আব্দুল শেখ বলেন, চাষের মৌসুমে অনেক সময় হাতে নগদ টাকা থাকে না। আনন্দ মন্ডল বাকিতে চাষ করে দিয়ে আমাদের বড় উপকার করেন। কোনো চাপ ছাড়াই বছর শেষে আমরা হালখাতায় এসে টাকা দিয়ে যাই।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আনন্দ মন্ডল অত্যন্ত পরোপকারী মানুষ। তিনি শুধু টাকাই তোলেন না, এই আয়োজনের মাধ্যমে সবার সঙ্গে তার একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে তিনি খিচুড়ি-মাংসেরও আয়োজন করেন।
আধুনিক যুগে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হালখাতা প্রায় বিলুপ্তির পথে, তখন শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামে কৃষক ও যন্ত্রমালিকের এই মেলবন্ধন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
সারা বছর কৃষকের জমিতে পাওয়ার টিলার চালিয়েছেন। কিন্তু পারিশ্রমিক হিসেবে নগদে এক টাকাও নেননি। বছর শেষে সেই বকেয়া টাকা তুলতেই ব্যতিক্রমী এক ‘হালখাতা’ উৎসবের আয়োজন করলেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার কৃষক আনন্দ মন্ডল। বকেয়া শোধ করতে আসা কৃষকদের তিনি আপ্যায়ন করছেন নিজের বাড়িতে বানানো গরম জিলাপি দিয়ে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শৈলকুপা পৌরসভার সাতগাছি গ্রামের পশ্চিমপাড়া মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানে চলে এই আয়োজন। হালখাতার টেবিলের পাশেই সাজিয়ে রাখা হয়েছিল আনন্দ মন্ডলের আয়ের মূল উৎস সেই পাওয়ার টিলারটি।
গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, আনন্দ মন্ডল গত ১০ বছর ধরে নিজের পাওয়ার টিলার দিয়ে গ্রামের কৃষকদের জমি চাষ করে আসছেন। তবে তার কাজের ধরন অন্য সবার চেয়ে আলাদা। চাষের মৌসুমে কৃষকদের হাতে টাকা থাকুক বা না থাকুক, আনন্দ ঠিকই জমি চাষ করে দেন। পুরো বছর জুড়ে বাকিতে চাষ করার সুযোগ পান স্থানীয় কৃষকেরা। আর বছর শেষে ঘটা করে আয়োজন করা হয় এই হালখাতা উৎসবের।
আনন্দ মন্ডল জানান, চলতি বছরে তিনি গ্রামের প্রায় ১২০ জন কৃষকের জমি সম্পূর্ণ বাকিতে চাষ করে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে কৃষকদের কাছে তার পাওনা প্রায় আড়াই লাখ টাকা। এই টাকা তুলতেই উৎসবমুখর পরিবেশে হালখাতার আয়োজন। তিনি বলেন, ‘কৃষক ভাইদের কষ্টের কথা চিন্তা করেই আমি সারা বছর বাকিতে চাষ করি। আজ তারা খুশি মনে বকেয়া শোধ করছেন, আমিও তাদের মিষ্টিমুখ করাচ্ছি।’
হালখাতায় বকেয়া শোধ করতে আসা কৃষক ওবায়দুল ও আব্দুল শেখ বলেন, চাষের মৌসুমে অনেক সময় হাতে নগদ টাকা থাকে না। আনন্দ মন্ডল বাকিতে চাষ করে দিয়ে আমাদের বড় উপকার করেন। কোনো চাপ ছাড়াই বছর শেষে আমরা হালখাতায় এসে টাকা দিয়ে যাই।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, আনন্দ মন্ডল অত্যন্ত পরোপকারী মানুষ। তিনি শুধু টাকাই তোলেন না, এই আয়োজনের মাধ্যমে সবার সঙ্গে তার একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। মাঝেমধ্যে তিনি খিচুড়ি-মাংসেরও আয়োজন করেন।
আধুনিক যুগে যখন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী হালখাতা প্রায় বিলুপ্তির পথে, তখন শৈলকুপার সাতগাছি গ্রামে কৃষক ও যন্ত্রমালিকের এই মেলবন্ধন পারস্পরিক বিশ্বাস ও সামাজিক সংহতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন