গাজীপুরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছেন ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী। শয্যা সংকটে অনেককে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ মশক নিধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ নগরবাসীর। কর্তৃপক্ষের মশা নিধন কার্যক্রম কেবল ফেসবুকের প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া কড্ডা, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুর অঞ্চলেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) জেলায় ৫২২ জন পরীক্ষা করে ৮৪ জনের শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৯২ জন। ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেখা দিয়েছে চরম শয্যা সংকট।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ৪৮টি এবং শিশু বিভাগে মাত্র ৮টি শয্যা বরাদ্দ থাকায় মেঝেতেই বিছানা পাততে হচ্ছে রোগীদের। এর মধ্যে আবার উঠেছে সিট বাণিজ্যের অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালাল বা অসাধু কর্মচারীদের টাকা দিলেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত শয্যা। অনেক রোগী আবার মশারির ভেতরে থাকার নিয়ম মানছেন না, যা সংক্রমণ আরও ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বলেন, ‘আগস্ট থেকে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি, পর্যাপ্ত ওষুধও আছে। তবে রোগী সুস্থ রাখতে এবং অন্যকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে মশারির বিকল্প নেই।’
এদিকে মশক নিধনে সিটির অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। চলতি অর্থবছরে মশক নিধনে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেই। সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, নিয়মিত নালা পরিষ্কার ও পেস্টিসাইড ছিটানো হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে ফেসবুকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখছেন না সাধারণ মানুষ। কড্ডা এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম বা চৌরাস্তার ইকবাল হোসেনের মতো অনেকেই জানান, তাদের এলাকায় কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। ফলে মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত গাজীপুরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
গাজীপুরে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। আক্রান্তের চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। বিশেষ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক সপ্তাহেই ভর্তি হয়েছেন ২০১ জন ডেঙ্গু রোগী। শয্যা সংকটে অনেককে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ মশক নিধনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ নগরবাসীর। কর্তৃপক্ষের মশা নিধন কার্যক্রম কেবল ফেসবুকের প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মহানগরীর টঙ্গী এলাকায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া কড্ডা, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুর অঞ্চলেও ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) জেলায় ৫২২ জন পরীক্ষা করে ৮৪ জনের শরীরে ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৯২ জন। ক্রমাগত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দেখা দিয়েছে চরম শয্যা সংকট।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ৪৮টি এবং শিশু বিভাগে মাত্র ৮টি শয্যা বরাদ্দ থাকায় মেঝেতেই বিছানা পাততে হচ্ছে রোগীদের। এর মধ্যে আবার উঠেছে সিট বাণিজ্যের অভিযোগ। ভুক্তভোগীদের দাবি, দালাল বা অসাধু কর্মচারীদের টাকা দিলেই মিলছে কাঙ্ক্ষিত শয্যা। অনেক রোগী আবার মশারির ভেতরে থাকার নিয়ম মানছেন না, যা সংক্রমণ আরও ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (মেডিসিন) ডা. শেখ কামরুল করিম বলেন, ‘আগস্ট থেকে রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি, পর্যাপ্ত ওষুধও আছে। তবে রোগী সুস্থ রাখতে এবং অন্যকে আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে মশারির বিকল্প নেই।’
এদিকে মশক নিধনে সিটির অবহেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগরবাসী। চলতি অর্থবছরে মশক নিধনে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেই। সিটি করপোরেশনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, নিয়মিত নালা পরিষ্কার ও পেস্টিসাইড ছিটানো হচ্ছে এবং সচেতনতা বাড়াতে ফেসবুকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন দেখছেন না সাধারণ মানুষ। কড্ডা এলাকার গৃহবধূ নাসিমা বেগম বা চৌরাস্তার ইকবাল হোসেনের মতো অনেকেই জানান, তাদের এলাকায় কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। ফলে মশার উপদ্রব চরমে পৌঁছেছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত গাজীপুরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো তথ্য নেই। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

আপনার মতামত লিখুন