সংবাদ

কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে মৃত্যু, আসামি ৩০০ গ্রামবাসী


প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে মৃত্যু, আসামি ৩০০ গ্রামবাসী
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে আয়নাল (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলায় ওই এলাকার অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। আর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) শেষ রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা আয়নাল ও সুমনকে আটক করেন। অভিযোগ উঠেছে, এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। গণপিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আয়নাল। নিহত আয়নাল নাটোর জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গণপিটুনিতে কারা জড়িত ছিল, তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় নিশ্চিতে আমরা গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলছি।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘নিহত আয়নালের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬


কালীগঞ্জে গণপিটুনিতে মৃত্যু, আসামি ৩০০ গ্রামবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে আয়নাল (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। পৃথক দুটি মামলায় ওই এলাকার অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গরু চুরির অভিযোগে প্রথম মামলাটি করেছেন বাদুরগাছা গ্রামের গৃহবধূ নিলুফা ইয়াসমিন। আর গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সুমনের ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা ও মারধরের অভিযোগে দ্বিতীয় মামলাটি করেছেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) শেষ রাতে বাদুরগাছা গ্রামের বিধবা নিলুফা বেগমের বাড়িতে গরু চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা আয়নাল ও সুমনকে আটক করেন। অভিযোগ উঠেছে, এরপর উত্তেজিত জনতা তাদের একটি বাঁশের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর করে। গণপিটুনির একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আয়নাল। নিহত আয়নাল নাটোর জেলার বাসিন্দা ছিলেন।

খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (২১ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মুমূর্ষু অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বারোবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গণপিটুনিতে কারা জড়িত ছিল, তা শনাক্ত করার কাজ চলছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের পরিচয় নিশ্চিতে আমরা গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলছি।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, ‘নিহত আয়নালের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত