সংবাদ

খোকসায় তিন হাজার প্রবীণের কান্নার গল্প


প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রতিনিধি, খোকসা (কুষ্টিয়া)
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৩ এএম

খোকসায় তিন হাজার প্রবীণের কান্নার গল্প
ছবি : সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের এক-চতুর্থাংশই এখনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছেন। বয়স্ক ভাতার কার্ড না পাওয়ায় চরম আর্থিক অনটন আর কষ্টে দিন কাটছে এসব প্রবীণের।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৩২। এর মধ্যে সমাজসেবা কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী রয়েছেন ৮ হাজার ৬৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৮৪৩ জন প্রবীণ এখনো এই সুবিধার আওতার বাইরে, যা মোট প্রবীণ জনসংখ্যার প্রায় ২৬ শতাংশ।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবীণদের সুরক্ষায় এই ভাতার ব্যবস্থা করা হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সবাই এর সুফল পাচ্ছেন না। ফলে অনেক অসচ্ছল ও শারীরিক অক্ষম ব্যক্তি বছরের পর বছর আবেদন করেও কার্ড পাচ্ছেন না।

খোকসা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭২ বছর বয়সী কেসমত আলী শেখ আক্ষেপ করে বলেন, 'তিন বছর আগে অনলাইনে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। কতবার অফিসে গিয়ে ধরনা দিলাম, কিন্তু কার্ড আর কপালে জোটেনি।'

জানিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম একতারপুর গ্রামের ৬৯ বছর বয়সী অঞ্জলি বালার গল্পটাও একই রকম। তিনি বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দুইবার অনলাইনে আবেদন করেছি। কবে যে কার্ড হবে, কেউ বলতে পারে না।' পদ্মা পাড়ের গোপগ্রাম ইউনিয়নের হতদরিদ্র মৎস্যজীবী বোনজিৎ সাহা (৬৯) প্রশ্ন করেন, 'আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক ভাতা পাব?'

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বরাদ্দ এলে এই প্রবীণদেরও ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদ বিন মনসুর বলেন, 'প্রবীণরা আমাদের সমাজের সম্মানিত নাগরিক। বার্ধক্যে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তালিকার সবাইকে ভাতার আওতায় আনা হবে।'

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রবীণদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বঞ্চিত এই ২,৮৪৩ জন মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যুক্ত করা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


খোকসায় তিন হাজার প্রবীণের কান্নার গল্প

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণদের এক-চতুর্থাংশই এখনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছেন। বয়স্ক ভাতার কার্ড না পাওয়ায় চরম আর্থিক অনটন আর কষ্টে দিন কাটছে এসব প্রবীণের।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, খোকসায় ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৩২। এর মধ্যে সমাজসেবা কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত সুবিধাভোগী রয়েছেন ৮ হাজার ৬৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার ৮৪৩ জন প্রবীণ এখনো এই সুবিধার আওতার বাইরে, যা মোট প্রবীণ জনসংখ্যার প্রায় ২৬ শতাংশ।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রবীণদের সুরক্ষায় এই ভাতার ব্যবস্থা করা হলেও চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম থাকায় সবাই এর সুফল পাচ্ছেন না। ফলে অনেক অসচ্ছল ও শারীরিক অক্ষম ব্যক্তি বছরের পর বছর আবেদন করেও কার্ড পাচ্ছেন না।

খোকসা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ৭২ বছর বয়সী কেসমত আলী শেখ আক্ষেপ করে বলেন, 'তিন বছর আগে অনলাইনে ভাতার জন্য আবেদন করেছি। কতবার অফিসে গিয়ে ধরনা দিলাম, কিন্তু কার্ড আর কপালে জোটেনি।'

জানিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম একতারপুর গ্রামের ৬৯ বছর বয়সী অঞ্জলি বালার গল্পটাও একই রকম। তিনি বলেন, 'ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দুইবার অনলাইনে আবেদন করেছি। কবে যে কার্ড হবে, কেউ বলতে পারে না।' পদ্মা পাড়ের গোপগ্রাম ইউনিয়নের হতদরিদ্র মৎস্যজীবী বোনজিৎ সাহা (৬৯) প্রশ্ন করেন, 'আর কত বয়স হলে আমি বয়স্ক ভাতা পাব?'

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন হাজার নতুন আবেদন জমা পড়ে আছে। সরকারের পক্ষ থেকে নতুন বরাদ্দ এলে এই প্রবীণদেরও ভাতার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খালেদ বিন মনসুর বলেন, 'প্রবীণরা আমাদের সমাজের সম্মানিত নাগরিক। বার্ধক্যে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই তালিকার সবাইকে ভাতার আওতায় আনা হবে।'

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রবীণদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বঞ্চিত এই ২,৮৪৩ জন মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যুক্ত করা হোক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত