সিলেট নগরের আখালিয়ায় মাউন্ট এডোরা হসপিটালে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। নির্ধারিত সময়ে সিরিয়াল দেওয়া হলেও চিকিৎসক কখন হাসপাতালে এসে রোগী দেখবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন রোগীরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে এই হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আহমেদ রিয়াদ চৌধুরীর চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে আছেন। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক রোগী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সিরিয়াল সাধারণত বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক কখন এসে রোগী দেখা শুরু করবেন, তা জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে বলা হয়, ‘সার লাঞ্চ করছেন পরে আসবেন। এরপর বললেন, দেরি হবে। সর্বশেষ বললেন, স্যার কখন আসবেন ঠিক নাই।’
এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন। কোনো কোনো রোগীর চিকিৎসা শেষ হতে রাত ১টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও অপেক্ষমাণ রোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
দূরের এলাকার রোগীদের জন্য এতে বাড়ি ফেরাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদের রাতে বাড়ি ফেরার পরিবহন সংকট দেখা দিতে পারে। আবার অনেকের সিলেটে হোটেলে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই।
একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকের সিরিয়াল যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, তাহলে চিকিৎসক কখন রোগী দেখবেন- এ বিষয়ে স্পষ্ট সময় জানানো উচিত। অন্যথায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ব্যস্ততা বা জরুরি কাজ থাকতেই পারে। তবে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক উপস্থিত হতে না পারলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রোগীদের বিষয়টি আগে জানানো উচিত। এতে রোগীদের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ—তিনটিই কমানো সম্ভব।
এদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি নেওয়া হলেও চিকিৎসকের সময়সূচি নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে চিকিৎসকের নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের অযথা অপেক্ষা না করানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখালিয়া মাউন্ট এডোরা হসপিটালের ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম চিকিৎসকের নাম জানতে চান। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নাম জানালে তিনি বলেন, “স্যার নির্দিষ্ট সময়ে রোগী দেখেন। বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়ার কারণে তিনি অনেক সময় মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই মাঝে মধ্যে একটু দেরি হয়।”
তাহলে কেন রোগীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে সিরিয়াল দেওয়া হয়, এতে করে রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
সিলেট নগরের আখালিয়ায় মাউন্ট এডোরা হসপিটালে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। নির্ধারিত সময়ে সিরিয়াল দেওয়া হলেও চিকিৎসক কখন হাসপাতালে এসে রোগী দেখবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন রোগীরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে এই হাসপাতালের সাইকিয়াট্রি চিকিৎসক প্রফেসর ডা. আহমেদ রিয়াদ চৌধুরীর চেম্বারের সামনে গিয়ে দেখা যায়, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসকের অপেক্ষায় বসে আছেন। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক রোগী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সিরিয়াল সাধারণত বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসক কখন এসে রোগী দেখা শুরু করবেন, তা জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকে বলা হয়, ‘সার লাঞ্চ করছেন পরে আসবেন। এরপর বললেন, দেরি হবে। সর্বশেষ বললেন, স্যার কখন আসবেন ঠিক নাই।’
এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ অবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালে অপেক্ষা করছেন। কোনো কোনো রোগীর চিকিৎসা শেষ হতে রাত ১টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলেও অপেক্ষমাণ রোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
দূরের এলাকার রোগীদের জন্য এতে বাড়ি ফেরাও কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদের রাতে বাড়ি ফেরার পরিবহন সংকট দেখা দিতে পারে। আবার অনেকের সিলেটে হোটেলে থাকার মতো আর্থিক সামর্থ্যও নেই।
একাধিক রোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকের সিরিয়াল যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়, তাহলে চিকিৎসক কখন রোগী দেখবেন- এ বিষয়ে স্পষ্ট সময় জানানো উচিত। অন্যথায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অযথা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ব্যস্ততা বা জরুরি কাজ থাকতেই পারে। তবে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক উপস্থিত হতে না পারলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রোগীদের বিষয়টি আগে জানানো উচিত। এতে রোগীদের সময়, অর্থ ও দুর্ভোগ—তিনটিই কমানো সম্ভব।
এদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য রোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের ফি নেওয়া হলেও চিকিৎসকের সময়সূচি নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রোগীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে চিকিৎসকের নির্ধারিত সময়সূচি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের অযথা অপেক্ষা না করানোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখালিয়া মাউন্ট এডোরা হসপিটালের ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম চিকিৎসকের নাম জানতে চান। পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের নাম জানালে তিনি বলেন, “স্যার নির্দিষ্ট সময়ে রোগী দেখেন। বর্তমানে ওসমানী মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়ার কারণে তিনি অনেক সময় মিটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাই মাঝে মধ্যে একটু দেরি হয়।”
তাহলে কেন রোগীদের নির্দিষ্ট সময়ের আগে সিরিয়াল দেওয়া হয়, এতে করে রোগীরা দুর্ভোগে পড়েন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।

আপনার মতামত লিখুন