নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
প্রতিষ্ঠানটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে সংস্থার পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংলাপে সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, "সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যে ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমন্বিত দলিল তৈরি না করায় এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হচ্ছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "নতুন সরকারের কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর প্রত্যাশা থাকলেও সেখানে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে এসেছে। গ্যাস সংকট ও এলএনজি সরবরাহে জটিলতার কারণে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ ও সিরামিকসহ বিভিন্ন কারখানা উৎপাদনে ধাক্কা খেয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমায় এবং পণ্য আমদানি খরচ বাড়ায় চলতি হিসাবের ইতিবাচক ধারা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে, যদিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, "সরকার বারবার বলছে তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি।"
সুশাসনের ক্ষেত্রে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টার প্রশংসা করা হলেও, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় এবং মব সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের জন্য একটি ‘কোর বাজেট’ প্রণয়নসহ সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সিপিডি।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে দেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতাই বেশি দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
প্রতিষ্ঠানটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে ৬১ হাজার ৮৮১ জন শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) ‘নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাস: একটি অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে সংস্থার পক্ষ থেকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংলাপে সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, "সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি কাঠামোগত নানা সমস্যার মধ্যে ছিল এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমন্বিত দলিল তৈরি না করায় এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হচ্ছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "নতুন সরকারের কাছে দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল—অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড় করানোর প্রত্যাশা থাকলেও সেখানে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।"
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে শূন্যে নেমে এসেছে। গ্যাস সংকট ও এলএনজি সরবরাহে জটিলতার কারণে টেক্সটাইল, ইস্পাত, কাগজ ও সিরামিকসহ বিভিন্ন কারখানা উৎপাদনে ধাক্কা খেয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগও হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি কমায় এবং পণ্য আমদানি খরচ বাড়ায় চলতি হিসাবের ইতিবাচক ধারা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে, যদিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়ে ৩২.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, "সরকার বারবার বলছে তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি।"
সুশাসনের ক্ষেত্রে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টার প্রশংসা করা হলেও, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতির ব্যত্যয় এবং মব সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক গতিশীলতা ফেরাতে আগামী অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৭ মেয়াদের জন্য একটি ‘কোর বাজেট’ প্রণয়নসহ সমন্বিত সংস্কার প্যাকেজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে সিপিডি।

আপনার মতামত লিখুন