তীব্র গরম আর আবহাওয়ার পরিবর্তনে চুয়াডাঙ্গায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুস্থ শিশুর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। মাত্র ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৬০ জনেরও বেশি শিশু। শয্যাসংকটের কারণে ওয়ার্ডের মেঝেতে শিশুদের রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনেরা। সীমিত জনবল নিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে এই ওয়ার্ডে ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৯ জন নতুন শিশু হাসপাতালে আসছে। বর্তমানে জন্ডিস, নিউমোনিয়া, ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘তীব্র গরমের কারণে শিশুরা দ্রুত ঘেমে যাচ্ছে। এতে তারা নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপে আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সময়ে শিশুদের সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো এবং বাসি খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে অনেক শিশু মেঝেতে শুয়ে আছে। শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন ধরে ছেলের জ্বর না সারায় হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু সিট না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাত দিন ধরে ভর্তি আছে শিশু মিম। তার নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কষ্ট হলেও চিকিৎসার পর নাতনি এখন অনেকটা সুস্থ।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। অথচ এই বিপুল রোগীর সেবায় নিয়োজিত আছেন মাত্র দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইন্টার্নশিপে থাকা চারজন নার্স। সেবার মান ঠিক রাখতে দ্রুত শয্যা ও জনবল বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
তীব্র গরম আর আবহাওয়ার পরিবর্তনে চুয়াডাঙ্গায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুস্থ শিশুর সংখ্যা। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। মাত্র ২২ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৬০ জনেরও বেশি শিশু। শয্যাসংকটের কারণে ওয়ার্ডের মেঝেতে শিশুদের রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন স্বজনেরা। সীমিত জনবল নিয়ে এই বিপুল সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ১৭ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাত দিনে এই ওয়ার্ডে ৩৪২ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪৯ জন নতুন শিশু হাসপাতালে আসছে। বর্তমানে জন্ডিস, নিউমোনিয়া, ঠান্ডা ও জ্বরে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফারহানা ওয়াহিদ তানি বলেন, ‘তীব্র গরমের কারণে শিশুরা দ্রুত ঘেমে যাচ্ছে। এতে তারা নিউমোনিয়া ও ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপে আমাদের চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই সময়ে শিশুদের সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা, প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়ানো এবং বাসি খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা।’
সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে অনেক শিশু মেঝেতে শুয়ে আছে। শিশু আলিফের মা জানান, কয়েক দিন ধরে ছেলের জ্বর না সারায় হাসপাতালে এসেছেন। কিন্তু সিট না পেয়ে মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সাত দিন ধরে ভর্তি আছে শিশু মিম। তার নানি আফরোজা বেগম বলেন, ‘প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে কষ্ট হলেও চিকিৎসার পর নাতনি এখন অনেকটা সুস্থ।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ২২টি শয্যার বিপরীতে রোগীর সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। অথচ এই বিপুল রোগীর সেবায় নিয়োজিত আছেন মাত্র দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও ইন্টার্নশিপে থাকা চারজন নার্স। সেবার মান ঠিক রাখতে দ্রুত শয্যা ও জনবল বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন