ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুই নিয়ে আসে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আমেজ। এখন ভাদ্র মাস। পঞ্জিকার পাতায় শরৎকাল হলেও গ্রামবাংলায় এখন চলছে তাল পাকার মহোৎসব। গাছ থেকে টুপটাপ পাকা তাল পড়ার শব্দ আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা তালের পিঠার সুঘ্রাণে মুখর বগুড়ার গ্রামগঞ্জ। প্রাচীনকাল থেকেই ভাদ্রের ১৩ তারিখকে ‘তেরা’ হিসেবে গণ্য করে তালের পিঠা খাওয়ার এক বিশেষ রেওয়াজ টিকে আছে এই অঞ্চলে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার রাস্তার দুই পাশে এখন সারি সারি তালগাছ। বিশেষ করে সান্তাহার সাইলো রোডের তালগাছগুলোর সৌন্দর্য দেখতে শহর থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ভোরের আলো ফুটতেই গাছতলা থেকে তাল কুড়িয়ে আনছেন, কেউবা ভিড় করছেন স্থানীয় হাট-বাজারে।
নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারের তাল বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, আকারভেদে প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে আনি। তালের সিজন আর মাত্র কয়েক দিন, এরপর আর পাওয়া যাবে না।’
তালের গুণাগুণ নিয়ে গৃহিণীদের ব্যস্ততাও কম নয়। নন্দীগ্রামের বাসিন্দা সীমা রানী বলেন, ‘প্রতিবছরই তালের বড়া আর পায়েস তৈরি করি। তালের রস বের করে চালের গুঁড়া, গুড় আর দুধ দিয়ে জ্বাল দিলে যে স্বাদ হয়, তা অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না।’ বাজারে মূলত দুই ধরনের তাল পাওয়া যায়–মহিষা ও দুধা। মহিষা তাল আকারে বড় ও কালো, আর দুধা তাল কিছুটা ছোট ও লালচে।
পুষ্টিবিদদের মতে, তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে, যা হাড় ও দাঁতের সুরক্ষায় কার্যকর। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।
তবে প্রকৃতিপ্রেমীরা কিছুটা চিন্তিত। আগের তুলনায় তালগাছ কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সান্তাহারের স্বপন মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘শহরের মানুষ তালের স্বাদ নিতে উন্মুখ থাকলেও বাজারে জোগান কম। সরকারি উদ্যোগে বেশি বেশি তালবীজ রোপণ করা প্রয়োজন।’
বর্ষা শেষের এই তালের সুঘ্রাণ আর পিঠার স্বাদ যেন মনে করিয়ে দেয়–বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের কথা।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে প্রতিটি ঋতুই নিয়ে আসে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের আমেজ। এখন ভাদ্র মাস। পঞ্জিকার পাতায় শরৎকাল হলেও গ্রামবাংলায় এখন চলছে তাল পাকার মহোৎসব। গাছ থেকে টুপটাপ পাকা তাল পড়ার শব্দ আর রান্নাঘর থেকে ভেসে আসা তালের পিঠার সুঘ্রাণে মুখর বগুড়ার গ্রামগঞ্জ। প্রাচীনকাল থেকেই ভাদ্রের ১৩ তারিখকে ‘তেরা’ হিসেবে গণ্য করে তালের পিঠা খাওয়ার এক বিশেষ রেওয়াজ টিকে আছে এই অঞ্চলে।
বগুড়ার নন্দীগ্রাম, আদমদীঘি, দুপচাঁচিয়া ও কাহালু উপজেলার রাস্তার দুই পাশে এখন সারি সারি তালগাছ। বিশেষ করে সান্তাহার সাইলো রোডের তালগাছগুলোর সৌন্দর্য দেখতে শহর থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। কেউ ভোরের আলো ফুটতেই গাছতলা থেকে তাল কুড়িয়ে আনছেন, কেউবা ভিড় করছেন স্থানীয় হাট-বাজারে।
নন্দীগ্রাম পুরাতন বাজারের তাল বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন জানান, আকারভেদে প্রতিটি তাল বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ৩০ টাকায়। তিনি বলেন, ‘গ্রাম থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারে আনি। তালের সিজন আর মাত্র কয়েক দিন, এরপর আর পাওয়া যাবে না।’
তালের গুণাগুণ নিয়ে গৃহিণীদের ব্যস্ততাও কম নয়। নন্দীগ্রামের বাসিন্দা সীমা রানী বলেন, ‘প্রতিবছরই তালের বড়া আর পায়েস তৈরি করি। তালের রস বের করে চালের গুঁড়া, গুড় আর দুধ দিয়ে জ্বাল দিলে যে স্বাদ হয়, তা অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না।’ বাজারে মূলত দুই ধরনের তাল পাওয়া যায়–মহিষা ও দুধা। মহিষা তাল আকারে বড় ও কালো, আর দুধা তাল কিছুটা ছোট ও লালচে।
পুষ্টিবিদদের মতে, তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ‘বি’ রয়েছে, যা হাড় ও দাঁতের সুরক্ষায় কার্যকর। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধেও সহায়তা করে।
তবে প্রকৃতিপ্রেমীরা কিছুটা চিন্তিত। আগের তুলনায় তালগাছ কমে যাওয়ায় এই ঐতিহ্য ভবিষ্যতে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সান্তাহারের স্বপন মুখার্জি। তিনি বলেন, ‘শহরের মানুষ তালের স্বাদ নিতে উন্মুখ থাকলেও বাজারে জোগান কম। সরকারি উদ্যোগে বেশি বেশি তালবীজ রোপণ করা প্রয়োজন।’
বর্ষা শেষের এই তালের সুঘ্রাণ আর পিঠার স্বাদ যেন মনে করিয়ে দেয়–বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের কথা।

আপনার মতামত লিখুন