সংবাদ

রংপুরে ৪ খুনের পেছনে বড় শক্তি: মামলার বাদি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর থেকে
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর থেকে
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

রংপুরে ৪ খুনের পেছনে বড় শক্তি: মামলার বাদি
নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাসভবনে শ্রাদ্ধ ও প্রার্থনা সভা

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় রংপুর জিলা স্কুলের সদ্য অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রসহ চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি মহানগর কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা মামলার নথিপত্র পেয়েছি। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হবে।’

এদিকে, রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে হত্যার ঘটনা এখন রংপুর নগরী ছাড়িয়ে সারা দেশে ‘টক অব দ্যা কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের কোনো ঘটনা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনরা মনে করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বাদি নিহত শিক্ষক গণপতির বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে বড় কোনো শক্তি আছে। যারা আড়ালে থেকে উসকানি দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।’

গোপিনাথ চক্রবর্তী মামলার বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ঘটনায় উপর মহলের হাত রয়েছে। দুজন মিলে এক পরিবারের চারজনকে খুন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের ব্যাপারে যদি প্রশাসন একে একে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে তো আমাদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই। তাই তারা যা করে, তাই মেনে নিতে হবে।’

সাবেক শিক্ষক গণপতি ও তার পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় ওই বাসভবনে শ্রাদ্ধ ও প্রার্থনা সভায় যোগ দিতে এসে এসব কথা বলেন গোপিনাথ চক্রবর্তী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুরো পরিবার হতাশ ও ক্ষুব্ধ। পুলিশ কী করছে, কাকে গ্রেপ্তার করছে- তা আমরা দেখছি। তবে আমি বলব, এর পেছনে বড় কোনো শক্তি আছে। ’

গোপিনাথ চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘আমার ভাই গণপতি চক্রবর্তী খুব ভালো মানুষ, তাঁর কোনো শত্রু থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। আমি মামলা করেছি ন্যায় বিচার পাবার আশায়। সেজন্য পুলিশকেই ভালোভাবে তদন্ত করে খুনিদের ও তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে আমরা নীরবে অশ্রুবিসর্জন দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারব না।’

এ সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি তৃষ্ণা তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা চাই সঠিক তদন্ত হোক। নির্দোষ কেউ যেন অকারণে শাস্তি না পায়। আমার চাচা গণপতি, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে- এই চারজনকে হত্যার ঘটনা একটা চক্রের কাজ। এটা কোনোভাবেই দুজন মানুষের দ্বারা এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। সে কারণে সব বিষয় বিবেচনায় এনে প্রকৃত খুনিদের সকলকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা কবুতর জবাই করতে পারি না- হাত কাঁপে। আর দুটি বাচ্চা ছেলে চারজনকে খুন করল- এটা কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’

রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি পুরোহিত ধিমান চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই ঘটনার সঙ্গে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। যে দুজনকে পুলিশ ধরেছে, তারা তো স্বীকার করেছে- শুনছি। তবে আরও কারা আছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড- এটা বের করা দরকার বলে আমি মনে করি।’

এদিকে, শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজন ছাড়াও মাছুয়াপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে আয়ুশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুর জিলা স্কুলে মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমান, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা চারজন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নিয়ে নানা নাটক চলছে বলে অভিযোগ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


রংপুরে ৪ খুনের পেছনে বড় শক্তি: মামলার বাদি

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া মহল্লায় রংপুর জিলা স্কুলের সদ্য অবসরে যাওয়া শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্রসহ চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি মহানগর কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মহানগর ডিবি পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা মামলার নথিপত্র পেয়েছি। গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হবে।’

এদিকে, রংপুরে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাকে হত্যার ঘটনা এখন রংপুর নগরী ছাড়িয়ে সারা দেশে ‘টক অব দ্যা কান্ট্রিতে’ পরিণত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের কোনো ঘটনা রয়েছে বলে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনরা মনে করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মামলার বাদি নিহত শিক্ষক গণপতির বড় ভাই গোপিনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘এ ঘটনার পেছনে বড় কোনো শক্তি আছে। যারা আড়ালে থেকে উসকানি দিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনা জরুরি।’

গোপিনাথ চক্রবর্তী মামলার বিচার পাওয়া নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ঘটনায় উপর মহলের হাত রয়েছে। দুজন মিলে এক পরিবারের চারজনকে খুন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের ব্যাপারে যদি প্রশাসন একে একে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়, তাহলে তো আমাদের এমন কোনো ক্ষমতা নেই। তাই তারা যা করে, তাই মেনে নিতে হবে।’

সাবেক শিক্ষক গণপতি ও তার পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় ওই বাসভবনে শ্রাদ্ধ ও প্রার্থনা সভায় যোগ দিতে এসে এসব কথা বলেন গোপিনাথ চক্রবর্তী। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পুরো পরিবার হতাশ ও ক্ষুব্ধ। পুলিশ কী করছে, কাকে গ্রেপ্তার করছে- তা আমরা দেখছি। তবে আমি বলব, এর পেছনে বড় কোনো শক্তি আছে। ’

গোপিনাথ চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘আমার ভাই গণপতি চক্রবর্তী খুব ভালো মানুষ, তাঁর কোনো শত্রু থাকতে পারে বলে আমি মনে করি না। আমি মামলা করেছি ন্যায় বিচার পাবার আশায়। সেজন্য পুলিশকেই ভালোভাবে তদন্ত করে খুনিদের ও তাদের গডফাদারদের চিহ্নিত করতে হবে। তা না হলে আমরা নীরবে অশ্রুবিসর্জন দেওয়া ছাড়া কিছুই করতে পারব না।’

এ সময় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি তৃষ্ণা তালুকদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা চাই সঠিক তদন্ত হোক। নির্দোষ কেউ যেন অকারণে শাস্তি না পায়। আমার চাচা গণপতি, তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে- এই চারজনকে হত্যার ঘটনা একটা চক্রের কাজ। এটা কোনোভাবেই দুজন মানুষের দ্বারা এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। সে কারণে সব বিষয় বিবেচনায় এনে প্রকৃত খুনিদের সকলকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটা কবুতর জবাই করতে পারি না- হাত কাঁপে। আর দুটি বাচ্চা ছেলে চারজনকে খুন করল- এটা কি আমাদের বিশ্বাস করতে হবে? আমি হতাশ ও ক্ষুব্ধ।’

রংপুর পূজা উদযাপন পরিষদের সহসভাপতি পুরোহিত ধিমান চক্রবর্তী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, এই ঘটনার সঙ্গে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে। যে দুজনকে পুলিশ ধরেছে, তারা তো স্বীকার করেছে- শুনছি। তবে আরও কারা আছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড- এটা বের করা দরকার বলে আমি মনে করি।’

এদিকে, শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজন ছাড়াও মাছুয়াপাড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে, নিহত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে আয়ুশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুর জিলা স্কুলে মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে প্রার্থনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক শিক্ষক শফিয়ার রহমান, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ শত শত শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা চারজন নিহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে নিয়ে নানা নাটক চলছে বলে অভিযোগ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত