কঠোর শর্তের বেড়াজাল, প্রশাসনের কড়া নজর, তবুও থামানো গেল না জনস্রোত।
পুনেতে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এ জড়ো হলেন লাখো তরুণী।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’: তরুণদের কণ্ঠকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টায় রাহুল
রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথে একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট—তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরছেন। শুধু বড় মঞ্চে বক্তৃতা নয়, শিক্ষার্থী ও তরুণদের শিক্ষা, চাকরি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ সেই কৌশলেরই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তবে এটিকে নিছক ছাত্রসভা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই আড়ালে থেকে যাবে।
কারণ, আগামী কয়েক বছরে ভারতের ভোটারদের একটি বড় অংশ হয়ে উঠবে এমন একটি প্রজন্ম, যারা চাকরি ও শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল জীবন, সামাজিক স্বাধীনতা, সমতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখে। সেই প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করতে পারা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ।
আর সেখানেই রাহুল গান্ধীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ কি তিনি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থনে পরিণত করতে পারবেন?
কেন্দ্রের হুশিয়ারী আর প্রশাসনের ৩০টি শর্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং বাড়তি নিরাপত্তা
পুনের কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল প্রশাসনিক সতর্কতা। অনুমতি দেওয়ার সময় পুনে পুলিশ মোট ৩০টি শক্ত শর্ত আরোপ করেছিল। পাশাপাশি, শহরে ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি ছিল, যা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবত থাকার কথা।
এর জন্য প্রশাসনের যুক্তি ছিল—আসন্ন উৎসব, বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিধিনিষেধের আড়ালে রাহুল গান্ধীর কর্মসূচিকে কার্যত কঠিন ও বাঁধাগ্রস্ত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই কর্মসূচির প্রাক্কালে পুনের COEP টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির হস্টেলের সামনে এবিভিপি ও NSUI-র সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও কড়া করে প্রশাসন।
প্রশাসনের সামনে তখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, অন্যদিকে সম্ভাব্য উত্তেজনা সামলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এই আবহেই মাঠে নামে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’।
মঞ্চের কেন্দ্রে তরুণীরা
এবারের কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মঞ্চের কেন্দ্রে তরুণীদের উপস্থিতি।
রাহুল গান্ধী তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। শিক্ষা, নিরাপত্তা, সমতা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো বিষয় নিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন। অর্থাৎ, কর্মসূচিটি শুধুমাত্র বক্তৃতা দেওয়ার মঞ্চ ছিল না; তরুণীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দাবি প্রকাশের জায়গা হিসেবেও তুলে ধরা হয়।
ফলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে নারী স্বাধীনতার পাশাপাশি শিক্ষা ও চাকরির অনিশ্চয়তার প্রশ্নও।
রাহুলের বক্তব্যে নারীর স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর বার্তা ছিল—নারী কারও সম্পত্তি নয়। দেশের প্রায় ৭০ কোটি নারীকে তিনি ভারতের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, একজন নারীর পরিচয় বাবা, স্বামী বা সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। নিজের পরিচয় এবং নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার নারীর নিজেরই থাকা উচিত।
পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং মনুস্মৃতিতে নারীদের নিয়ে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—নারীকে নিয়ন্ত্রণ বা ‘রক্ষা’ করার পরিবর্তে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন, এটা কি রাহুলের রাজনৈতিক কৌশল?
রাহুলের এই বক্তব্য এবং গোটা কর্মসূচির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। বিজেপির পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ আর শুধুমাত্র একটি ছাত্র কর্মসূচি নেই। এটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠেছে।
এবং এখানেই পুনের কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য।
একদিকে প্রশাসনের ৩০টি শর্ত, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ এবং কড়া নিরাপত্তা; অন্যদিকে সেই শর্ত মেনেই হাজার হাজার তরুণীকে সামনে এনে কর্মসূচি সম্পন্ন করা—শনিবারের পুনেতে এই দুই ছবিই পাশাপাশি দেখা গেল।
অনুমতি আদায় থেকে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
কোটা, দেরাদুন, প্রয়াগরাজের পর পুনে
রাহুল গান্ধীর কাছে পুনে শুধুমাত্র আরেকটি ছাত্রসভা নয়। কোটা, দেরাদুন এবং প্রয়াগরাজের পর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ তাঁর ছাত্র-সংযোগ কর্মসূচির চতুর্থ পর্ব।
প্রতিটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক বার্তাটি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তা হল—তরুণদের সমস্যা শুধুমাত্র শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নয়; এগুলি সরাসরি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত।
পুনেতে সেই বার্তার সঙ্গে যুক্ত হল তরুণী ভোটারদের কণ্ঠও।
তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।
একটি মঞ্চে তরুণদের কথা শোনা আর তাঁদের আস্থা অর্জন করা—দুটি এক জিনিস নয়। আর আস্থা অর্জন করলেও সেই আস্থাকে নির্বাচনী সমর্থনে রূপান্তর করা আরও কঠিন।
আসল পরীক্ষা সামনে
‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নিঃসন্দেহে রাহুল গান্ধীর যুব-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু কয়েকটি সভা বা বড় জমায়েত দিয়ে Gen-Z-র আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তরুণদের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি কংগ্রেস সেই সমস্যাগুলির কতটা বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে, কী ধরনের নীতি সামনে আনে, সংগঠনের প্রতিটি স্তরে সেই বার্তা কতটা ধারাবাহিকভাবে পৌঁছে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠের রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়ে—সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।
কারণ তরুণদের ক্ষোভকে রাজনৈতিক ভাষা দেওয়া তুলনামূলক সহজ; সেই ক্ষোভকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিণত করাই কঠিন।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এর সবচেয়ে বড় ছবি তাই শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো রাহুল গান্ধী নন। বরং সেই তরুণীরা, যাঁরা বিধিনিষেধ ও রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও নিজেদের কথা বলার জায়গা পেয়েছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—সেই কণ্ঠকে কি রাহুল গান্ধী ভোটের শক্তিতে পরিণত করতে পারবেন?
উত্তর মিলবে সভার ভিড়ে নয়, আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
কঠোর শর্তের বেড়াজাল, প্রশাসনের কড়া নজর, তবুও থামানো গেল না জনস্রোত।
পুনেতে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এ জড়ো হলেন লাখো তরুণী।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’: তরুণদের কণ্ঠকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করার চেষ্টায় রাহুল
রাহুল গান্ধীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক গতিপথে একটি বিষয় ক্রমশ স্পষ্ট—তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে তুলে ধরছেন। শুধু বড় মঞ্চে বক্তৃতা নয়, শিক্ষার্থী ও তরুণদের শিক্ষা, চাকরি, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ সেই কৌশলেরই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তবে এটিকে নিছক ছাত্রসভা হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অনেকটাই আড়ালে থেকে যাবে।
কারণ, আগামী কয়েক বছরে ভারতের ভোটারদের একটি বড় অংশ হয়ে উঠবে এমন একটি প্রজন্ম, যারা চাকরি ও শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি ডিজিটাল জীবন, সামাজিক স্বাধীনতা, সমতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেখে। সেই প্রজন্মের ক্ষোভ ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক সমর্থনে রূপান্তর করতে পারা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ।
আর সেখানেই রাহুল গান্ধীর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ কি তিনি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থনে পরিণত করতে পারবেন?
কেন্দ্রের হুশিয়ারী আর প্রশাসনের ৩০টি শর্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং বাড়তি নিরাপত্তা
পুনের কর্মসূচিকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল প্রশাসনিক সতর্কতা। অনুমতি দেওয়ার সময় পুনে পুলিশ মোট ৩০টি শক্ত শর্ত আরোপ করেছিল। পাশাপাশি, শহরে ১৪ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ জারি ছিল, যা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বলবত থাকার কথা।
এর জন্য প্রশাসনের যুক্তি ছিল—আসন্ন উৎসব, বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা। তবে কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিধিনিষেধের আড়ালে রাহুল গান্ধীর কর্মসূচিকে কার্যত কঠিন ও বাঁধাগ্রস্ত করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই কর্মসূচির প্রাক্কালে পুনের COEP টেকনোলজিকাল ইউনিভার্সিটির হস্টেলের সামনে এবিভিপি ও NSUI-র সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। স্বাভাবিকভাবেই শনিবারের কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও কড়া করে প্রশাসন।
প্রশাসনের সামনে তখন দ্বৈত চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতার কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা, অন্যদিকে সম্ভাব্য উত্তেজনা সামলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা।
এই আবহেই মাঠে নামে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’।
মঞ্চের কেন্দ্রে তরুণীরা
এবারের কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল মঞ্চের কেন্দ্রে তরুণীদের উপস্থিতি।
রাহুল গান্ধী তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। শিক্ষা, নিরাপত্তা, সমতা, কর্মসংস্থান এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো বিষয় নিয়ে তাঁদের বক্তব্য শোনেন। অর্থাৎ, কর্মসূচিটি শুধুমাত্র বক্তৃতা দেওয়ার মঞ্চ ছিল না; তরুণীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দাবি প্রকাশের জায়গা হিসেবেও তুলে ধরা হয়।
ফলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে নারী স্বাধীনতার পাশাপাশি শিক্ষা ও চাকরির অনিশ্চয়তার প্রশ্নও।
রাহুলের বক্তব্যে নারীর স্বাধীনতার প্রসঙ্গটি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তাঁর বার্তা ছিল—নারী কারও সম্পত্তি নয়। দেশের প্রায় ৭০ কোটি নারীকে তিনি ভারতের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, একজন নারীর পরিচয় বাবা, স্বামী বা সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। নিজের পরিচয় এবং নিজের সিদ্ধান্তের অধিকার নারীর নিজেরই থাকা উচিত।
পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামো এবং মনুস্মৃতিতে নারীদের নিয়ে প্রচলিত ধারণারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—নারীকে নিয়ন্ত্রণ বা ‘রক্ষা’ করার পরিবর্তে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন, এটা কি রাহুলের রাজনৈতিক কৌশল?
রাহুলের এই বক্তব্য এবং গোটা কর্মসূচির স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীস। বিজেপির পাল্টা বক্তব্যের মধ্যেই অবশ্য একটি বিষয় স্পষ্ট—‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ আর শুধুমাত্র একটি ছাত্র কর্মসূচি নেই। এটি ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠেছে।
এবং এখানেই পুনের কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য।
একদিকে প্রশাসনের ৩০টি শর্ত, নিষেধাজ্ঞামূলক নির্দেশ এবং কড়া নিরাপত্তা; অন্যদিকে সেই শর্ত মেনেই হাজার হাজার তরুণীকে সামনে এনে কর্মসূচি সম্পন্ন করা—শনিবারের পুনেতে এই দুই ছবিই পাশাপাশি দেখা গেল।
অনুমতি আদায় থেকে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল।
কোটা, দেরাদুন, প্রয়াগরাজের পর পুনে
রাহুল গান্ধীর কাছে পুনে শুধুমাত্র আরেকটি ছাত্রসভা নয়। কোটা, দেরাদুন এবং প্রয়াগরাজের পর ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ তাঁর ছাত্র-সংযোগ কর্মসূচির চতুর্থ পর্ব।
প্রতিটি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক বার্তাটি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন, তা হল—তরুণদের সমস্যা শুধুমাত্র শিক্ষাঙ্গনের সমস্যা নয়; এগুলি সরাসরি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সামাজিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত।
পুনেতে সেই বার্তার সঙ্গে যুক্ত হল তরুণী ভোটারদের কণ্ঠও।
তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।
একটি মঞ্চে তরুণদের কথা শোনা আর তাঁদের আস্থা অর্জন করা—দুটি এক জিনিস নয়। আর আস্থা অর্জন করলেও সেই আস্থাকে নির্বাচনী সমর্থনে রূপান্তর করা আরও কঠিন।
আসল পরীক্ষা সামনে
‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নিঃসন্দেহে রাহুল গান্ধীর যুব-রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু কয়েকটি সভা বা বড় জমায়েত দিয়ে Gen-Z-র আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।
তরুণদের সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি কংগ্রেস সেই সমস্যাগুলির কতটা বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারে, কী ধরনের নীতি সামনে আনে, সংগঠনের প্রতিটি স্তরে সেই বার্তা কতটা ধারাবাহিকভাবে পৌঁছে দিতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত মাঠের রাজনীতিতে তার প্রভাব কতটা পড়ে—সেটিই হবে আসল পরীক্ষা।
কারণ তরুণদের ক্ষোভকে রাজনৈতিক ভাষা দেওয়া তুলনামূলক সহজ; সেই ক্ষোভকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিশ্বাসে পরিণত করাই কঠিন।
পুনের ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’-এর সবচেয়ে বড় ছবি তাই শুধু মঞ্চে দাঁড়ানো রাহুল গান্ধী নন। বরং সেই তরুণীরা, যাঁরা বিধিনিষেধ ও রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেও নিজেদের কথা বলার জায়গা পেয়েছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই—সেই কণ্ঠকে কি রাহুল গান্ধী ভোটের শক্তিতে পরিণত করতে পারবেন?
উত্তর মিলবে সভার ভিড়ে নয়, আগামী দিনের নির্বাচনী রাজনীতিতে।

আপনার মতামত লিখুন