সংবাদ

বৈধ পথে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী


প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম

বৈধ পথে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় এক কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রা করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়া ১১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’ তিনি উপস্থিত সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিললুর রহমানকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, অতিদ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে দুর্ঘটনায় জড়িত দালালচক্র ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত দালালদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন করা হবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষ স্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত বছর ইতালিতে পৌঁছানো মোট অনিয়মিত অভিবাসীর প্রায় ৩১ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার বাংলাদেশি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহার করেছেন। মূলত লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হচ্ছে।

সভায় বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়। বিএমইটি নিবন্ধিত প্রবাসীরা বিমানবন্দরে ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস, রেমিট্যান্সে ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, বিমানে টিকিটে ছাড় এবং সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা সুবিধা পাবেন। এছাড়া প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হলে দাফন বাবদ ৩৫ হাজার এবং পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ও কামরুজ্জামান কামরুল। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


বৈধ পথে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠাবে সরকার : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বৈধ পন্থায় এক কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশ যাত্রা করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়া ১১ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’ তিনি উপস্থিত সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিললুর রহমানকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, অতিদ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে দুর্ঘটনায় জড়িত দালালচক্র ও পাচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। বিদেশে অবস্থানরত দালালদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে মন্ত্রী ঘোষণা করেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপন করা হবে। এছাড়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সুনামগঞ্জ জেলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সমুদ্রপথে ইতালিতে পৌঁছানো অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে শীর্ষ স্থানে ছিল বাংলাদেশ। গত বছর ইতালিতে পৌঁছানো মোট অনিয়মিত অভিবাসীর প্রায় ৩১ শতাংশই ছিলেন বাংলাদেশি। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার বাংলাদেশি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ ব্যবহার করেছেন। মূলত লিবিয়াকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে সুনামগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার মানুষ সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হচ্ছে।

সভায় বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুবিধাগুলো তুলে ধরা হয়। বিএমইটি নিবন্ধিত প্রবাসীরা বিমানবন্দরে ফাস্ট ট্র্যাক সার্ভিস, রেমিট্যান্সে ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, বিমানে টিকিটে ছাড় এবং সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা সুবিধা পাবেন। এছাড়া প্রবাসী কর্মীর মৃত্যু হলে দাফন বাবদ ৩৫ হাজার এবং পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ, নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ও কামরুজ্জামান কামরুল। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ সচিব মো. মোখতার আহমেদ, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত