চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যার দায়ে রহম আলী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এই রায় ঘোষণা করেন।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দণ্ডপ্রাপ্ত রহম আলী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে।
আদালতের নথি ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১৪ নভেম্বর রাতে চুয়াডাঙ্গার গোপীনাথপুর গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রহম আলী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই তার স্ত্রী আলেয়া বেগমকে (৪০) মারধর করতেন। ঘটনার রাতে দুই মেয়েকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন আলেয়া। ভোররাতে বড় মেয়ে লিপছিয়া দেখতে পায়, তার বাবা রক্তমাখা একটি দা হাতে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। পরে ঘরের চৌকির নিচে মায়ের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পায় সে।
এই ঘটনায় নিহতের ছেলে চাঁন মিয়া বাদী হয়ে বাবা রহম আলীর বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তৎকালীন এসআই মহসিন আলী ২০১৬ সালের ৪ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় দিলেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডিত রহম আলী আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আপনার মতামত লিখুন