চলতি
বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার
ফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের
নামে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। এতে
দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর আয় হয়েছে প্রায়
২০ কোটি টাকা। অথচ
যারা দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাতাগুলো পুনর্নিরীক্ষণ
করছেন, সেই শিক্ষকরা পাচ্ছেন
নামমাত্র মূল্যায়ন ফি।
শিক্ষার্থীদের
কাছ থেকে আদায় করা
এই বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে শিক্ষা
বোর্ড কর্মকর্তাদের পকেটে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে
তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ
করছে।
বাংলাদেশ
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এবার দেশের সব
শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৭
হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে। প্রতি
খাতার ফি ১৫০ টাকা
হিসেবে বোর্ডগুলোর মোট আয় দাঁড়িয়েছে
১৯ কোটি ৩১ লাখ
৮৮ হাজার ৯০০ টাকা।
ঢাকা
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,
আগে খাতাপ্রতি ফি ১২৫ টাকা
থাকলেও পরীক্ষকরা পেতেন মাত্র ৭ টাকা। ফি
বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা
হলেও খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষক
পান মাত্র ১২ টাকা। বাকি
অর্থের একটি অংশ যাতায়াত
ও আপ্যায়নে ব্যয় হলেও বড়
একটি অংশ বোর্ডের বিভিন্ন
স্তরের কর্মকর্তাদের পকেটে যায়।
ঢাকা
বোর্ডের গণিত খাতা পুনর্নিরীক্ষায়
যুক্ত এক শিক্ষক বলেন,
"প্রথম দফা মূল্যায়নে আমরা
৪৫ টাকা করে পেলেও
এখন দিনে তিন-চারশ
খাতা দেখেও পাচ্ছি মাত্র ১২ টাকা করে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০
টাকা নেওয়া হলেও শিক্ষকদের অন্তত
৭৫ টাকা দেওয়া উচিত।
আমাদের যা দেওয়া হচ্ছে
তা অত্যন্ত হতাশাজনক।"
গত ২৪ আগস্ট থেকে
শুরু হওয়া এই পুনর্নিরীক্ষণ
কার্যক্রম আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি
বছর লাখ লাখ আবেদন
জমা পড়লেও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীরই
ফলাফল পরিবর্তিত হয়। পরিসংখ্যানে দেখা
যায়, গত কয়েক বছরে
লাখ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ
করা হলেও মাত্র কয়েক
হাজার শিক্ষার্থীর ফল বদলায়, যা
মূলত বোর্ডের আর্থিক লাভই বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে
রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় এবং
শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপের
বিষয়টি নজরে আসায় খাতা
পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের
কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
চলতি
বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার
ফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের
নামে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। এতে
দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর আয় হয়েছে প্রায়
২০ কোটি টাকা। অথচ
যারা দিনভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাতাগুলো পুনর্নিরীক্ষণ
করছেন, সেই শিক্ষকরা পাচ্ছেন
নামমাত্র মূল্যায়ন ফি।
শিক্ষার্থীদের
কাছ থেকে আদায় করা
এই বিপুল পরিমাণ টাকার সিংহভাগই চলে যাচ্ছে শিক্ষা
বোর্ড কর্মকর্তাদের পকেটে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক মহলে
তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ
করছে।
বাংলাদেশ
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি সূত্র জানিয়েছে, এবার দেশের সব
শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৮৭
হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়েছে। প্রতি
খাতার ফি ১৫০ টাকা
হিসেবে বোর্ডগুলোর মোট আয় দাঁড়িয়েছে
১৯ কোটি ৩১ লাখ
৮৮ হাজার ৯০০ টাকা।
ঢাকা
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান,
আগে খাতাপ্রতি ফি ১২৫ টাকা
থাকলেও পরীক্ষকরা পেতেন মাত্র ৭ টাকা। ফি
বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা
হলেও খাতা মূল্যায়নকারী শিক্ষক
পান মাত্র ১২ টাকা। বাকি
অর্থের একটি অংশ যাতায়াত
ও আপ্যায়নে ব্যয় হলেও বড়
একটি অংশ বোর্ডের বিভিন্ন
স্তরের কর্মকর্তাদের পকেটে যায়।
ঢাকা
বোর্ডের গণিত খাতা পুনর্নিরীক্ষায়
যুক্ত এক শিক্ষক বলেন,
"প্রথম দফা মূল্যায়নে আমরা
৪৫ টাকা করে পেলেও
এখন দিনে তিন-চারশ
খাতা দেখেও পাচ্ছি মাত্র ১২ টাকা করে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০
টাকা নেওয়া হলেও শিক্ষকদের অন্তত
৭৫ টাকা দেওয়া উচিত।
আমাদের যা দেওয়া হচ্ছে
তা অত্যন্ত হতাশাজনক।"
গত ২৪ আগস্ট থেকে
শুরু হওয়া এই পুনর্নিরীক্ষণ
কার্যক্রম আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
শেষ হওয়ার কথা রয়েছে এবং
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে
ফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতি
বছর লাখ লাখ আবেদন
জমা পড়লেও খুব অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীরই
ফলাফল পরিবর্তিত হয়। পরিসংখ্যানে দেখা
যায়, গত কয়েক বছরে
লাখ লাখ খাতা চ্যালেঞ্জ
করা হলেও মাত্র কয়েক
হাজার শিক্ষার্থীর ফল বদলায়, যা
মূলত বোর্ডের আর্থিক লাভই বাড়িয়ে দেয়।
এদিকে
রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় এবং
শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপের
বিষয়টি নজরে আসায় খাতা
পুনর্মূল্যায়নে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের
কথা ভাবছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আপনার মতামত লিখুন