ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসন এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকির মুখে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
কাতার দীর্ঘ সময় ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রেও দোহার সরাসরি ভূমিকা ছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আজকের এই সফরে শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে এখান দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হলেও বর্তমানে তা মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের ফলে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা কমলেও ওয়াশিংটন এখন ইরানের বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের এই মধ্যস্থতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
\

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিরসন এবং নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি এবং অর্থনৈতিক অবরোধের হুমকির মুখে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
কাতার দীর্ঘ সময় ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। গত জুনে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রেও দোহার সরাসরি ভূমিকা ছিল। তবে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আজকের এই সফরে শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই রুটটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে এখান দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হলেও বর্তমানে তা মাত্র ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যদিকে, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির আগের স্থিতাবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাস ধরে চলমান এই সংঘাতের ফলে ইরান ও লেবাননে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে সরাসরি সামরিক সংঘাত কিছুটা কমলেও ওয়াশিংটন এখন ইরানের বাণিজ্য সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাতারের এই মধ্যস্থতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
\

আপনার মতামত লিখুন