সংবাদ

ভিসা ছাড়া কক্সবাজার উপকূলে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের বসবাস


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

ভিসা ছাড়া কক্সবাজার উপকূলে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের বসবাস
ছবি : সংবাদ

কক্সবাজারের নাজিরারটেক সংলগ্ন সাগরে হাউসবোট ডুবে নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের (১৬) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। এমনকি পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টের মেয়াদও গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে নিজেদের তৈরি বিলাসবহুল একটি হাউসবোটে করে কক্সবাজার উপকূলে বসবাস করছিল পরিবারটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাগর থেকে আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড (৭৪), তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও দুই ছেলেকে নিয়ে ২০২৪ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। পরে কক্সবাজারের এসএম পাড়া উপকূলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামে আধুনিক নকশার একটি জোড়া বোট বা হাউসবোট তৈরি করেন তারা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ সব ধরনের সুবিধা ছিল ওই নৌযানে। আড়াই বছর ধরে এই নৌযানেই বসবাস করছিল পরিবারটি।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, নিউজিল্যান্ডের ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। পাসপোর্টের মেয়াদও গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এমনকি ১৩ বছর বয়সী ছোট ছেলে রালফের ভিসা-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছিল পরিবারটি। পরদিন কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। সে সময় পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের এ ধরনের সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে আবারও সাগরে পাড়ি জমান।

উদ্ধার হওয়া কিশোর রালফ জানায়, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা হাউসবোট নিয়ে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নৌকাটি হঠাৎ ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় মা বেলা বড় ছেলে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরাচ্ছিলেন। আলবার্ট সাঁতার জানত না। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর বুধবার বিকেলে সাগরে আলবার্টের মরদেহ ভেসে ওঠে।

বোটডুবির ঘটনায় ঢাকায় অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জীবিত উদ্ধার হওয়া পরিবারের সদস্যদের দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


ভিসা ছাড়া কক্সবাজার উপকূলে নিউজিল্যান্ডের পরিবারের বসবাস

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের নাজিরারটেক সংলগ্ন সাগরে হাউসবোট ডুবে নিউজিল্যান্ডের কিশোর আলবার্টের (১৬) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। এমনকি পরিবারের সদস্যদের পাসপোর্টের মেয়াদও গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। প্রায় আড়াই বছর ধরে নিজেদের তৈরি বিলাসবহুল একটি হাউসবোটে করে কক্সবাজার উপকূলে বসবাস করছিল পরিবারটি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাগর থেকে আলবার্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগরপথে বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশ্যে নিউজিল্যান্ডের নাগরিক জন এডওয়ার্ড (৭৪), তার স্ত্রী বেলা (৩৬) ও দুই ছেলেকে নিয়ে ২০২৪ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন। পরে কক্সবাজারের এসএম পাড়া উপকূলে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে ‘আইল্যান্ড গার্ল’ নামে আধুনিক নকশার একটি জোড়া বোট বা হাউসবোট তৈরি করেন তারা। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষ, ফ্রিজ ও রান্নাঘরসহ সব ধরনের সুবিধা ছিল ওই নৌযানে। আড়াই বছর ধরে এই নৌযানেই বসবাস করছিল পরিবারটি।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, নিউজিল্যান্ডের ওই পরিবারের কোনো সদস্যেরই বর্তমানে বৈধ ভিসা নেই। পাসপোর্টের মেয়াদও গত ১৬ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এমনকি ১৩ বছর বয়সী ছোট ছেলে রালফের ভিসা-সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৮ এপ্রিল রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়া চরে জলদস্যুদের হামলার শিকার হয়েছিল পরিবারটি। পরদিন কোস্টগার্ড সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। সে সময় পাসপোর্টের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের এ ধরনের সমুদ্রযাত্রা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে আবারও সাগরে পাড়ি জমান।

উদ্ধার হওয়া কিশোর রালফ জানায়, ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা হাউসবোট নিয়ে সমুদ্রপথে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে নৌকাটি হঠাৎ ভেঙে দুই টুকরো হয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় মা বেলা বড় ছেলে আলবার্টকে লাইফ জ্যাকেট পরাচ্ছিলেন। আলবার্ট সাঁতার জানত না। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর বুধবার বিকেলে সাগরে আলবার্টের মরদেহ ভেসে ওঠে।

বোটডুবির ঘটনায় ঢাকায় অবস্থিত নিউজিল্যান্ডের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জীবিত উদ্ধার হওয়া পরিবারের সদস্যদের দূতাবাসের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত