রংপুরে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধ এবং ‘জাত প্রথা’ বা সামাজিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এ তথ্য জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থই এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী। পুলিশ কমিশনার বলেন, গণপতি চক্রবর্তী সিদ্ধার্থের পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন। সেই জমির শরিকরা পাওনা টাকা পাননি - এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া গণপতি চক্রবর্তী ব্রাহ্মণ পরিবারের হওয়ায় দাস সম্প্রদায় অধ্যুষিত ওই এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে তার এক ধরনের দূরত্ব ছিল। তিনি কাউকে বাসায় ঢুকতে দিতেন না, যা থেকে মহল্লার একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।
যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড
আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডটি বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোরে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার আগে আসামিরা তাদের বন্ধু সীমান্তের বাসায় চারটি ইয়াবা সেবন করেন। পরে আরও ইয়াবার জন্য মাদক কারবারি শান্তর কাছে মোবাইল ফোন বন্ধক দিয়ে আরও চারটি ইয়াবা নিয়ে গণপতির বাসার ছাদে যান তারা। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিলেন।
ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে এসে তাদের দেখে চিনে ফেলেন এবং চিৎকার শুরু করেন। এ সময় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে গণপতির গামছা দিয়েই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। শব্দ শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা ও কন্যা আগামী ছাদে এলে তাদেরও একই কায়দায় হত্যা করা হয়। সবশেষে ঘরে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়ুশকে বিছানায় বসে থাকতে দেখে তারা। আয়ুশ সিদ্ধার্থকে চিনে ফেলায় তাকেও পেটিকোট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
সাক্ষ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা
পুলিশ কমিশনার জানান, সিসিটিভি ক্যামেরার ভয়ে সিদ্ধার্থ মই দিয়ে বৈদ্যুতিক পোল থেকে বাসার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হত্যাকাণ্ড শেষে ঘাতকেরা বাথরুমে গিয়ে গায়ে পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার করে পালিয়ে যায়। তবে আসামিরা শসা বা খেজুর খাওয়ার কথা স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেনি।
এদিকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, প্রীতিলতা বা আগামীকে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধের ফলে শারীরিক প্রতিক্রিয়ায় বীর্যপাত বা মলত্যাগের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই কমিশনার চলে যাওয়ায় উপস্থিত সংবাদকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আপনার মতামত লিখুন