হিমালয়ের বুকে নীরব ঘাতক জেগে উঠেছে। নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের অর্ধেকের বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।
দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, নেপালে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অনেক মরদেহ কাদার নিচে চাপা পড়ে আছে। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিহত তিনজন এবং নিখোঁজ ৫৫৮ জন। নেপালে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনই বিদেশি পর্যটক। তিব্বতে নিখোঁজ ২৬০ জন বিদেশি।
নেপাল-তিব্বতে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসের ঘটনাটি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা যে প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করেছেন, তা হলো হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষ প্রবাহের শৃঙ্খল। আমরা একে বলতে পারি বরফ-শিলা ধসজনিত বন্যা।
প্রথম ধাপে হিমবাহের বিরাট অংশ ধসে পড়া ঘটনা। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫,২০০ মিটার (১৭,০০০ ফুট) উচ্চতা থেকে হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। প্রায় ১,২০০ মিটার (৩,৯০০ ফুট) নিচে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে। ইউএসজিএস-এর বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে ভূমিকম্প বলে চিহ্নিত করলেও পরে নিশ্চিত করেন, এটি আসলে হিমবাহ ধস ছিল। যা এতটাই শক্তিশালী যে এর কম্পন রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য শক্তি সৃষ্টি করেছিল।
দ্বিতীয় ধাপে ছিল নদী বাঁধা পড়া এবং পানি জমা হওয়া। এই বিশাল বরফ-শিলা ধস লেন্দে নদী (ভোতে কোশি নদীর উপনদী) এর গতিপথে আঘাত হানে। একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে পানি জমতে থাকে। এটি ছিল এক ধরনের ‘আপতৎকালীন হিমবাহ হ্রদ’ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া।
তৃতীয় ধাপে বাঁধ ভেঙে ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ সৃষ্টি হওয়া। প্রাকৃতিক বাঁধটি যখন পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে, তখন এক বিরাট পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও পলি একসঙ্গে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। ভোতে কোশি নদী হয়ে এই ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ নেপালে প্রবেশ করে। পানি ও ধ্বংসাবশেষের এই মিশ্রণ এক বিশাল ট্রিশূলি নদীতে গিয়ে মেশে। আইসিমোডের তথ্যমতে, ট্রিশূলি নদীর পানি মাত্র ৩০ মিনিটে ৯ মিটার (২৭ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ কেন এমন হলো? বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, অত্যন্ত খাড়া ভূ-প্রকৃতি। হিমালয় অঞ্চলের পার্বত্য ঢাল অত্যন্ত খাড়া, যা স্বাভাবিকভাবেই ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ভূমিকম্প ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেও বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব। এটি আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি কারণ। গত কয়েক দশকে হিমালয়ের হিমবাহ গলনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নেপালের হিমবাহ ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বরফ গলে গেলে হিমবাহের পৃষ্ঠে ফাটল তৈরি হয় এবং অস্থিরতা বাড়ে, যা পাহাড় ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আইসিমোডের বিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়ান ম্যাককালাম বলেছেন, “হিমবাহ গলে পিছিয়ে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক মোরেইন বাঁধের পেছনে পানি জমা হয় এবং সেই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রচণ্ড বন্যা সৃষ্টি হয়। এই বন্যা তার পথের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।”
অতীতেও ঘটেছে এমন ভয়াবহতা
দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনা একক বা বিচ্ছিন্ন নয়। হিমালয়ে হিমবাহ-সম্পর্কিত দুর্যোগের একটি দুঃখজনক ইতিহাস রয়েছে। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একই ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। তখন রোনটি পিক থেকে ২৭ মিলিয়ন ঘনমিটার পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এটি একটি বিশাল ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ সৃষ্টি করে যা দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, ধসের শক্তি ১৫টি হিরোশিমা বোমার বিস্ফোরণের সমতুল্য ছিল এবং বাতাসের ধাক্কায় ২০ হেক্টর বন ধ্বংস হয়ে যায়। ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান শুগারের গবেষণা দল স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে নিশ্চিত করে যে এটি হিমবাহ হ্রদের বন্যা নয়, বরং পাহাড় ধসে সৃষ্ট বরফ-শিলা প্রবাহ ছিল।
এর আগে ২০১৩ সালের জুনে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ অঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও হিমবাহ হ্রদের বন্যার মিশ্রণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এটি হিমালয়ের দুর্বলতার ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়। আইসিমোডের তথ্যমতে, ১৯৮৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে ২,৪৩১টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৬৭৬টি হ্রদের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দেয়।
বিপর্যয়ের কেবল শুরু
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি শুধু শুরু। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে আরও বেশি হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে। সিএনএন ব্রাজিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘নেপালের বিপর্যয় কেবল শুরু হতে পারে’। কারণ হিমালয় অঞ্চল থেকে বরফ হারানোর হার ক্রমশ বাড়ছে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমছে।
ইউএনডিপির তথ্য বলছে, এই অঞ্চলের হিমবাহ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত গতিতে বরফ হারিয়েছে। নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ তাদের অর্থনীতি, পর্যটন ও জনজীবন হিমালয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, জলবায়ু পরিবর্তন আর দূরবর্তী কোনো ভবিষ্যৎ সমস্যা নয়- এটি আজকের বাস্তবতা, যা প্রাণঘাতী রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে হিমালয়ের বুকে।

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
হিমালয়ের বুকে নীরব ঘাতক জেগে উঠেছে। নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা, পাথর ও বরফের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ১৬০ ছাড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দেড় হাজারের বেশি মানুষ। নিখোঁজদের অর্ধেকের বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী।
দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যমতে, নেপালে ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অনেক মরদেহ কাদার নিচে চাপা পড়ে আছে। তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে নিহত তিনজন এবং নিখোঁজ ৫৫৮ জন। নেপালে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনই বিদেশি পর্যটক। তিব্বতে নিখোঁজ ২৬০ জন বিদেশি।
নেপাল-তিব্বতে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসের ঘটনাটি বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা যে প্রক্রিয়াটি চিহ্নিত করেছেন, তা হলো হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষ প্রবাহের শৃঙ্খল। আমরা একে বলতে পারি বরফ-শিলা ধসজনিত বন্যা।
প্রথম ধাপে হিমবাহের বিরাট অংশ ধসে পড়া ঘটনা। উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫,২০০ মিটার (১৭,০০০ ফুট) উচ্চতা থেকে হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। প্রায় ১,২০০ মিটার (৩,৯০০ ফুট) নিচে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে। ইউএসজিএস-এর বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে এটিকে ভূমিকম্প বলে চিহ্নিত করলেও পরে নিশ্চিত করেন, এটি আসলে হিমবাহ ধস ছিল। যা এতটাই শক্তিশালী যে এর কম্পন রিখটার স্কেলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য শক্তি সৃষ্টি করেছিল।
দ্বিতীয় ধাপে ছিল নদী বাঁধা পড়া এবং পানি জমা হওয়া। এই বিশাল বরফ-শিলা ধস লেন্দে নদী (ভোতে কোশি নদীর উপনদী) এর গতিপথে আঘাত হানে। একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে পানি জমতে থাকে। এটি ছিল এক ধরনের ‘আপতৎকালীন হিমবাহ হ্রদ’ তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া।
তৃতীয় ধাপে বাঁধ ভেঙে ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ সৃষ্টি হওয়া। প্রাকৃতিক বাঁধটি যখন পানির চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে, তখন এক বিরাট পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও পলি একসঙ্গে নিচের দিকে ধেয়ে আসে। ভোতে কোশি নদী হয়ে এই ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ নেপালে প্রবেশ করে। পানি ও ধ্বংসাবশেষের এই মিশ্রণ এক বিশাল ট্রিশূলি নদীতে গিয়ে মেশে। আইসিমোডের তথ্যমতে, ট্রিশূলি নদীর পানি মাত্র ৩০ মিনিটে ৯ মিটার (২৭ ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ কেন এমন হলো? বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার পেছনে দুটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, অত্যন্ত খাড়া ভূ-প্রকৃতি। হিমালয় অঞ্চলের পার্বত্য ঢাল অত্যন্ত খাড়া, যা স্বাভাবিকভাবেই ভূমিধসের ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ভূমিকম্প ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবেও বড় ধরনের ধস নামতে পারে।
দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের বড় প্রভাব। এটি আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি কারণ। গত কয়েক দশকে হিমালয়ের হিমবাহ গলনের হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। নেপালের হিমবাহ ৩০ বছরের কিছু বেশি সময়ে তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ হারিয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বরফ গলে গেলে হিমবাহের পৃষ্ঠে ফাটল তৈরি হয় এবং অস্থিরতা বাড়ে, যা পাহাড় ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
আইসিমোডের বিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়ান ম্যাককালাম বলেছেন, “হিমবাহ গলে পিছিয়ে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক মোরেইন বাঁধের পেছনে পানি জমা হয় এবং সেই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রচণ্ড বন্যা সৃষ্টি হয়। এই বন্যা তার পথের সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।”
অতীতেও ঘটেছে এমন ভয়াবহতা
দুঃখজনকভাবে, এই ঘটনা একক বা বিচ্ছিন্ন নয়। হিমালয়ে হিমবাহ-সম্পর্কিত দুর্যোগের একটি দুঃখজনক ইতিহাস রয়েছে। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একই ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। তখন রোনটি পিক থেকে ২৭ মিলিয়ন ঘনমিটার পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। এটি একটি বিশাল ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ সৃষ্টি করে যা দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, ধসের শক্তি ১৫টি হিরোশিমা বোমার বিস্ফোরণের সমতুল্য ছিল এবং বাতাসের ধাক্কায় ২০ হেক্টর বন ধ্বংস হয়ে যায়। ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান শুগারের গবেষণা দল স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে নিশ্চিত করে যে এটি হিমবাহ হ্রদের বন্যা নয়, বরং পাহাড় ধসে সৃষ্ট বরফ-শিলা প্রবাহ ছিল।
এর আগে ২০১৩ সালের জুনে উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ অঞ্চলে অতি বৃষ্টি ও হিমবাহ হ্রদের বন্যার মিশ্রণে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এটি হিমালয়ের দুর্বলতার ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়। আইসিমোডের তথ্যমতে, ১৯৮৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে ২,৪৩১টি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৬৭৬টি হ্রদের আকার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলে ইঙ্গিত দেয়।
বিপর্যয়ের কেবল শুরু
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এটি শুধু শুরু। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে আরও বেশি হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি করছে। সিএনএন ব্রাজিলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘নেপালের বিপর্যয় কেবল শুরু হতে পারে’। কারণ হিমালয় অঞ্চল থেকে বরফ হারানোর হার ক্রমশ বাড়ছে। উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কমছে।
ইউএনডিপির তথ্য বলছে, এই অঞ্চলের হিমবাহ ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আগের দশকের তুলনায় ৬৫ শতাংশ দ্রুত গতিতে বরফ হারিয়েছে। নেপালের মতো দেশগুলোর জন্য এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ তাদের অর্থনীতি, পর্যটন ও জনজীবন হিমালয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, জলবায়ু পরিবর্তন আর দূরবর্তী কোনো ভবিষ্যৎ সমস্যা নয়- এটি আজকের বাস্তবতা, যা প্রাণঘাতী রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে হিমালয়ের বুকে।

আপনার মতামত লিখুন