সংবাদ

বিশ্ববাজারে আরও কমলো সোনার দাম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

বিশ্ববাজারে আরও কমলো সোনার দাম
ছবি : সংগৃহীত

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমেছে।

শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৬৭ দশমিক ত্রিশ ডলারে নেমে আসে। বর্তমান ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে প্রায় লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

এর ফলে প্রতি গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৮ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে প্রায় লাখ ১১ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অবশ্য এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের হিসাব।

বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সোনার চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সময় বিভিন্ন ধরনের কর, শুল্ক, মজুরি অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হওয়ায় তা ভিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেছেন, কেভিন ওয়ারশের কঠোর বা হকিশ নীতি নেওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এমনটি ঘটলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও কিছুটা কমতে পারে।

তবে তার মতে, এই দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখতে পারেন। কারণ যারা সোনার দামের প্রথম দফার ঊর্ধ্বগতিতে বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন, তারা এখন বাজারে নতুন করে প্রবেশের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে পারবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর ঠিক এক দিন আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ফেডের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স বা পিসিই মূল্যসূচক জুলাই পর্যন্ত বিগত বারো মাসে তিন দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তার সেই বক্তব্যে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী নীতির বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩ দশমিক শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা সাধারণত সবসময়ই একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনো ধরনের সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তা সত্ত্বেও এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ এবং ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ায় সোনার দাম এখনো কিছুটা জোরালো সমর্থন পাচ্ছে। ওসিরিবির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশ্ববাজারে সোনার দামে কিছুটা দরপতন কিংবা সাময়িক স্থিতিশীলতা আসার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


বিশ্ববাজারে আরও কমলো সোনার দাম

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চলতি সপ্তাহের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও বর্তমানে বিশ্ববাজারে সোনার দাম আবার কমেছে।

শুক্রবার স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫৬৭ দশমিক ত্রিশ ডলারে নেমে আসে। বর্তমান ডলার বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে প্রায় লাখ ৬৩ হাজার টাকা।

এর ফলে প্রতি গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৮ হাজার ১০০ টাকা এবং প্রতি ভরি অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে প্রায় লাখ ১১ হাজার টাকায় ঠেকেছে। অবশ্য এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের হিসাব।

বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে সোনার চূড়ান্ত দাম নির্ধারণের সময় বিভিন্ন ধরনের কর, শুল্ক, মজুরি অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যুক্ত হওয়ায় তা ভিন্ন হতে পারে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম শূন্য দশমিক আট শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৬২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেছেন, কেভিন ওয়ারশের কঠোর বা হকিশ নীতি নেওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এমনটি ঘটলে স্বল্পমেয়াদে সোনার দাম সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে আরও কিছুটা কমতে পারে।

তবে তার মতে, এই দরপতনকে অনেক বিনিয়োগকারী অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখতে পারেন। কারণ যারা সোনার দামের প্রথম দফার ঊর্ধ্বগতিতে বিনিয়োগের সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন, তারা এখন বাজারে নতুন করে প্রবেশের উপযুক্ত সুযোগ খুঁজতে পারবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার জ্যাকসন হোল সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর ঠিক এক দিন আগে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ফেডের মূল্যস্ফীতির প্রধান সূচক পার্সোনাল কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার্স বা পিসিই মূল্যসূচক জুলাই পর্যন্ত বিগত বারো মাসে তিন দশমিক সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তার সেই বক্তব্যে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী নীতির বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন বিশ্বজুড়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৩ দশমিক শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৭৪ শতাংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনা সাধারণত সবসময়ই একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনো ধরনের সুদ বা নির্দিষ্ট আয় পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তা সত্ত্বেও এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফ এবং ফিউচারস বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ায় সোনার দাম এখনো কিছুটা জোরালো সমর্থন পাচ্ছে। ওসিরিবির মূল্যবান ধাতু কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওয়ং অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশ্ববাজারে সোনার দামে কিছুটা দরপতন কিংবা সাময়িক স্থিতিশীলতা আসার ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি কেটে যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত