সংবাদ

নেপালে ‘মহাবিপর্যয়ে’ ভারতীয়দের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

নেপালে ‘মহাবিপর্যয়ে’ ভারতীয়দের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
হড়পা বানে ভেসে নিয়ে যায় সবকিছু। বহু ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ। বাড়ছে উদ্বেগ।

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর একাধিক দিন কেটে গেলেও বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কাটেনি। একের পর এক এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে।  ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

তবে তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভেঙে পড়া সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং বিপর্যস্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

নেপালের সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮২৬ জন এখনও যোগাযোগের বাইরে। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। ফলে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয় এবং উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

গত ২৬ আগস্ট সকালে তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক জলপ্রবাহের জেরে ভোতে কোশি নদী ও তার আশপাশের এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন এবং নাওয়ালপরাসি-সহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, দোকানপাট, যানবাহন, সড়ক ও সেতু। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে রাসুয়া জেলার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৭৩ জন ভারতীয়কে নিয়ে। প্রকল্প এলাকার একাধিক রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 

কাঠমাণ্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং নেপাল সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রত্যেক কর্মীর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। তবে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাদের সবাইকে নিখোঁজ বা দুর্ঘটনার শিকার বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে তাদের আপাতত ‘আনট্রেসড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। হড়পা বানের সময় নেপালে ছিলেন বহু ভারতীয় কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীও। 

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর দুটি পৃথক দলের মোট ৮৬ জন যাত্রীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। একটি দলে ছিলেন ৩৭ জন এবং অন্য দলে ৪৯ জন। তাদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জনের একটি পর্যটক দলও এখনও যোগাযোগের বাইরে। সম্রাট ট্রাভেলসের মাধ্যমে নেপালে যাওয়া ওই দলটি বন্যাকবলিত তিমুরে এলাকায় ছিল বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও রিচা ট্যুরসের মাধ্যমে নেপাল সফরে যাওয়া বিভিন্ন রাজ্যের আরও ৬১ জন ভারতীয় এবং কেরলের ৩৩ জন নাগরিকের সঙ্গেও এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের বৃহত্তর হিসাবেও শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক এখনও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতও তাদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।  উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের প্রথমে কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তিমুরে এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা ও সেতুর কারণে স্থলপথে উদ্ধারকারী দলকে বহু জায়গায় পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিপর্যয়ে নেপালের পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বহু মোটরচালিত সেতু, ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বাড়িঘর, বাজার, যানবাহন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকা এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় দুর্গতদের অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের তরফেও নেপালকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নেপালের জন্য ত্রাণ, উদ্ধার সরঞ্জাম, ওষুধ, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছে।

নেপাল সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ করছে কাঠমাণ্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস। ভারতীয় নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, উদ্ধার অভিযান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।

তবে বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ, ভেঙে পড়া সেতু, বিচ্ছিন্ন রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে এখনও বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ২৮৮ ভারতীয়সহ যোগাযোগের বাইরে থাকা শত শত মানুষের পরিণতি নিয়ে। তাদের অনেকের সঙ্গেই হয়তো শুধুমাত্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাঁরা নিরাপদ জায়গায়ও থাকতে পারেন। তাই পরিবারগুলিকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের দুর্গত এলাকায় এখনও চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান। প্রতিটি ঘণ্টাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ধ্বংসস্তূপ, নদীর তীর এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীরা খুঁজে চলেছেন আটকে থাকা মানুষদের। আর সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অসংখ্য পরিবার- কখন আসবে স্বস্তির খবর, কখন জানা যাবে তাদের প্রিয়জন নিরাপদে রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


নেপালে ‘মহাবিপর্যয়ে’ ভারতীয়দের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের পর একাধিক দিন কেটে গেলেও বিপর্যয়ের ভয়াবহতা কাটেনি। একের পর এক এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ, বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগের বাইরে।  ভারতীয় নাগরিকদের নিয়েও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৮৮ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি।

তবে তাদের মধ্যে ২১ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ভেঙে পড়া সেতু, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং বিপর্যস্ত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে।

নেপালের সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অন্তত ২৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৮২৬ জন এখনও যোগাযোগের বাইরে। তবে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার কথাও উঠে এসেছে। ফলে চূড়ান্ত মৃতের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয় এবং উদ্ধার অভিযান এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন বহু মানুষ, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

গত ২৬ আগস্ট সকালে তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ হড়পা বান নেমে আসে। পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক জলপ্রবাহের জেরে ভোতে কোশি নদী ও তার আশপাশের এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন এবং নাওয়ালপরাসি-সহ একাধিক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়েছে বাড়িঘর, দোকানপাট, যানবাহন, সড়ক ও সেতু। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ রয়েছে রাসুয়া জেলার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৭৩ জন ভারতীয়কে নিয়ে। প্রকল্প এলাকার একাধিক রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। 

কাঠমাণ্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস প্রকল্প কর্তৃপক্ষ এবং নেপাল সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রত্যেক কর্মীর অবস্থান জানার চেষ্টা করছে। তবে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাদের সবাইকে নিখোঁজ বা দুর্ঘটনার শিকার বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে তাদের আপাতত ‘আনট্রেসড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। হড়পা বানের সময় নেপালে ছিলেন বহু ভারতীয় কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীও। 

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, তামিলনাড়ুর দুটি পৃথক দলের মোট ৮৬ জন যাত্রীর সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যায়নি। একটি দলে ছিলেন ৩৭ জন এবং অন্য দলে ৪৯ জন। তাদের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ৩২ জনের একটি পর্যটক দলও এখনও যোগাযোগের বাইরে। সম্রাট ট্রাভেলসের মাধ্যমে নেপালে যাওয়া ওই দলটি বন্যাকবলিত তিমুরে এলাকায় ছিল বলে জানা গিয়েছে।

এছাড়াও রিচা ট্যুরসের মাধ্যমে নেপাল সফরে যাওয়া বিভিন্ন রাজ্যের আরও ৬১ জন ভারতীয় এবং কেরলের ৩৩ জন নাগরিকের সঙ্গেও এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের বৃহত্তর হিসাবেও শত শত দেশি-বিদেশি পর্যটক এখনও যোগাযোগের বাইরে রয়েছেন।

এর মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। তামিলনাড়ুর ২১ জন ভারতীয়কে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতও তাদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।  উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের প্রথমে কাঠমাণ্ডুতে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে তাঁদের ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।

নেপাল সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী একযোগে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গম এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তিমুরে এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাস্তা ও সেতুর কারণে স্থলপথে উদ্ধারকারী দলকে বহু জায়গায় পৌঁছতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিপর্যয়ে নেপালের পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বহু মোটরচালিত সেতু, ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বাড়িঘর, বাজার, যানবাহন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পরিকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকা এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বিপর্যস্ত হওয়ায় দুর্গতদের অবস্থান শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের তরফেও নেপালকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সঙ্গে কথা বলে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নেপালের জন্য ত্রাণ, উদ্ধার সরঞ্জাম, ওষুধ, চিকিৎসা সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় মানবিক সাহায্য পাঠানো হচ্ছে।

নেপাল সরকারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ করছে কাঠমাণ্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস। ভারতীয় নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, উদ্ধার অভিযান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।

তবে বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র এখনও সামনে আসেনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ, ভেঙে পড়া সেতু, বিচ্ছিন্ন রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে এখনও বহু এলাকায় উদ্ধারকারী দল পৌঁছতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ২৮৮ ভারতীয়সহ যোগাযোগের বাইরে থাকা শত শত মানুষের পরিণতি নিয়ে। তাদের অনেকের সঙ্গেই হয়তো শুধুমাত্র যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাঁরা নিরাপদ জায়গায়ও থাকতে পারেন। তাই পরিবারগুলিকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নেপালের দুর্গত এলাকায় এখনও চলছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান। প্রতিটি ঘণ্টাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। ধ্বংসস্তূপ, নদীর তীর এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারীরা খুঁজে চলেছেন আটকে থাকা মানুষদের। আর সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে অসংখ্য পরিবার- কখন আসবে স্বস্তির খবর, কখন জানা যাবে তাদের প্রিয়জন নিরাপদে রয়েছেন।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত