প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপ দেখল নেপাল। দেশটিতে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার
নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে
এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায়
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে
সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের
নিচ থেকে জীবিত কাউকে
উদ্ধারের ক্ষীণ আশা ততই ফিকে
হয়ে আসছে। এর মধ্যেই বন্যার
পানিতে তৈরি হওয়া নতুন
একটি কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে আরও
বড় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা
দিয়েছে।
নেপাল
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষের
সন্ধানে চপার বা হেলিকপ্টার
ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজারো
মানুষের কাছে জরুরি খাবার
ও অন্যান্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধারকারী
দলগুলো কাদা ও ধ্বংসস্তূপ
সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার
করছে এবং কোথাও কোথাও
প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বন্যার
পানিতে ভেসে যাওয়া বেশ
কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা
চারপাশের বাতাসকে ভারী করে তুলেছে।
তবে
নতুন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
বন্যার পানি ও বিপুল
পরিমাণ জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর
ওপর একটি অস্থায়ী হ্রদ
তৈরি হয়েছে এবং সেখানে পানির
পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
চীনা
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী
তিন দিনে প্রায় ৩০
লাখ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে
প্রবেশ করতে পারে, যা
প্রায় ১ হাজার ২০০টি
অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে
পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা
করা হচ্ছে।
নেপালে
ভয়াবহ এই বন্যা ও
ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা যখন ৪’শ ছাড়িয়েছে,
ঠিক তখনই সীমান্তের তিব্বত
অংশে ফের একটি বাঁধ
ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নেপাল
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো
হয়েছে, তিব্বত অংশে আবারও পানির
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে
নতুন করে বন্যার তীব্র
আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর
ফলে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে
দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
নতুন করে বন্যার ঝুঁকি
থাকায় তিব্বতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয়
সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে
ভূমিধসের পর বিপুল পরিমাণ
কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে
তৈরি হওয়া জলাধারের পানি
উপচে পড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি
এতটাই অবনতির দিকে যাচ্ছে, যেসব
জরুরি উদ্ধারকারী দল এরই মধ্যে
দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছিল, তাদেরও সেখান থেকে অন্তত এক
কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই
আকস্মিক বন্যায় নেপালের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নতুন
করে বাঁধ ভাঙা ও
জলাধারের পানি উপচে পড়ার
এই মহাবিপদে পুরো অঞ্চলে চরম
আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকৃতির এক ভয়ংকর রূপ দেখল নেপাল। দেশটিতে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে।
শুক্রবার
নেপাল পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে
এই মর্মান্তিক তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত থাকায়
মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে
বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে
সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের
নিচ থেকে জীবিত কাউকে
উদ্ধারের ক্ষীণ আশা ততই ফিকে
হয়ে আসছে। এর মধ্যেই বন্যার
পানিতে তৈরি হওয়া নতুন
একটি কৃত্রিম হ্রদ ভেঙে আরও
বড় বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা দেখা
দিয়েছে।
নেপাল
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা মানুষের
সন্ধানে চপার বা হেলিকপ্টার
ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাজারো
মানুষের কাছে জরুরি খাবার
ও অন্যান্য ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধারকারী
দলগুলো কাদা ও ধ্বংসস্তূপ
সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার
করছে এবং কোথাও কোথাও
প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়েও নিখোঁজদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বন্যার
পানিতে ভেসে যাওয়া বেশ
কিছু মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যা
চারপাশের বাতাসকে ভারী করে তুলেছে।
তবে
নতুন বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে
বন্যার পানি ও বিপুল
পরিমাণ জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার ধ্বংসাবশেষ জমে ভোতেকোশি নদীর
ওপর একটি অস্থায়ী হ্রদ
তৈরি হয়েছে এবং সেখানে পানির
পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
চীনা
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী
তিন দিনে প্রায় ৩০
লাখ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে
প্রবেশ করতে পারে, যা
প্রায় ১ হাজার ২০০টি
অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের দিকে
পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা
করা হচ্ছে।
নেপালে
ভয়াবহ এই বন্যা ও
ভূমিধসে মৃত্যুর সংখ্যা যখন ৪’শ ছাড়িয়েছে,
ঠিক তখনই সীমান্তের তিব্বত
অংশে ফের একটি বাঁধ
ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নেপাল
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো
হয়েছে, তিব্বত অংশে আবারও পানির
বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে
নতুন করে বন্যার তীব্র
আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর
ফলে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে
দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ
দেওয়া হয়েছে।
এদিকে
নতুন করে বন্যার ঝুঁকি
থাকায় তিব্বতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চীন। চীনের রাষ্ট্রীয়
সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে
ভূমিধসের পর বিপুল পরিমাণ
কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে
তৈরি হওয়া জলাধারের পানি
উপচে পড়তে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি
এতটাই অবনতির দিকে যাচ্ছে, যেসব
জরুরি উদ্ধারকারী দল এরই মধ্যে
দুর্গত এলাকায় পৌঁছেছিল, তাদেরও সেখান থেকে অন্তত এক
কিলোমিটার দূরে সরে যাওয়ার
নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই
আকস্মিক বন্যায় নেপালের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নতুন
করে বাঁধ ভাঙা ও
জলাধারের পানি উপচে পড়ার
এই মহাবিপদে পুরো অঞ্চলে চরম
আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন