সংবাদ

সাংবাদিক পেটানোর পর এবার দিলেন চাঁদাবাজির ‘মামলা’


কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
কাজী মনিরুজ্জামান, শরীয়তপুর
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম

সাংবাদিক পেটানোর পর এবার দিলেন চাঁদাবাজির ‘মামলা’
শরীয়তপুর প্রেসক্লাব। ইনসেটে ‘তোমরা লিখবা, আমরা পিডামু’ বলা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা।

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর ও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তিনি পালং মডেল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

অন্যদিকে, মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ ওঠার পরও আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিএনপির পক্ষ থেকে। বরং জেলার কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, গত রোববার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। পরদিন ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত চলছে।

তিন সাংবাদিককে মারধরের বিষয়ে ওসি বলেন, বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

শরীয়তপুরের সাংবাদিকদকরা জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান।

এর পরদিন রোববার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায় বলে সাংবাদিকেরা জানান। তাদের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদার ওই হামলায় জড়িত।

হামলার প্রতিবাদ এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

সাংবাদিকদের দাবি, এ কর্মসূচির পর বিএনপির একটি পক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাব ও কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।পরদিন সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার সময় সেখানে যান ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ওই তিন সাংবাদিককে মারধর করেন।

জাহিদ হাসান ও বিধান মজুমদার অভিযোগ করেছেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মারধরের ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানকে মুঠোফোনে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অডিওতে আরিফুজ্জামান মোল্লার কণ্ঠে সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি এবং তাদের ‘তালিকায়’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার সকালে হামলার শিকার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল পালং মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার পরে ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বুধবার সন্ধ্যায় দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে আরিফুজ্জামান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমান এবং যুবলীগের কর্মী রুবেল মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও দুই সাংবাদিক সাধারণ ডায়েরি করার জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

বরকত মোল্লা অভিযোগ করেন, মামলা করার জন্য থানায় গেলে ওসি তাদের এড়িয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসতে হয়েছে।

বরকত মোল্লার অভিযোগ, পুলিশ তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না। পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁসহ অন্য সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিএনপির বক্তব্য

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা বলেন, ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপিও প্রতিবাদ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিএনপির কোনো নেতা সাংবাদিকদের মারধর করেছেন এমন তথ্য তাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন সিরাজুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, একজন নেতা রাগের মাথায় একজন সাংবাদিককে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬


সাংবাদিক পেটানোর পর এবার দিলেন চাঁদাবাজির ‘মামলা’

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিককে মারধর ও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠা জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লা এবার কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে তিনি পালং মডেল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

অন্যদিকে, মারধরের শিকার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সেটি মামলা কিংবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা।

এদিকে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির অভিযোগ ওঠার পরও আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিএনপির পক্ষ থেকে। বরং জেলার কয়েকজন সাংবাদিককে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, গত রোববার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। পরদিন ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলারই তদন্ত চলছে।

তিন সাংবাদিককে মারধরের বিষয়ে ওসি বলেন, বরকত মোল্লা তার অনুপস্থিতিতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান মোল্লাও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে লিখিত অভিযোগ করেছেন। দুটি অভিযোগই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হবে।

শরীয়তপুরের সাংবাদিকদকরা জানান, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন এবং জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের ছবি ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানান।

এর পরদিন রোববার সকালে ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ডান হাতের কবজি ভেঙে যায় বলে সাংবাদিকেরা জানান। তাদের অভিযোগ, প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদার ওই হামলায় জড়িত।

হামলার প্রতিবাদ এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনায় রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা।

কর্মসূচি চলাকালে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকেরা তাকে ঘিরে ধরেন এবং তার প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

সাংবাদিকদের দাবি, এ কর্মসূচির পর বিএনপির একটি পক্ষ তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাব ও কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।পরদিন সোমবার বিএনপির একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এরপর পৃথক সভা করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ‘শরীয়তপুর জেলার সর্বস্তরের জনগণ’-এর ব্যানারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। এতে বিএনপির জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিতে কয়েক শ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং ব্যানার প্রদর্শন করা হয়।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়ার সময় সেখানে যান ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাহিদ হাসান, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি বরকত মোল্লা।

সাংবাদিকদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ওই তিন সাংবাদিককে মারধর করেন।

জাহিদ হাসান ও বিধান মজুমদার অভিযোগ করেছেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাদের মারধর করা হয় এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

মারধরের ঘটনার পর মঙ্গলবার বিকেলে আরিফুজ্জামান মোল্লা আরও কয়েকজন সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সোনালী নিউজের শরীয়তপুর প্রতিনিধি পলাশ খানকে মুঠোফোনে দেওয়া হুমকির একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।

সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই অডিওতে আরিফুজ্জামান মোল্লার কণ্ঠে সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি এবং তাদের ‘তালিকায়’ থাকার কথা বলতে শোনা যায়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আরিফুজ্জামান মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রোববার সকালে হামলার শিকার সময় টিভির সাংবাদিক বিএম ইসরাফিল পালং মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলার আসামি পলাশ সরদার পরে ইসরাফিলের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বুধবার সন্ধ্যায় দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত মোল্লা পালং মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে আরিফুজ্জামান মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান ওরফে আমান এবং যুবলীগের কর্মী রুবেল মাদবরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া আরও দুই সাংবাদিক সাধারণ ডায়েরি করার জন্য থানায় লিখিত আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

বরকত মোল্লা অভিযোগ করেন, মামলা করার জন্য থানায় গেলে ওসি তাদের এড়িয়ে থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় থানায় অপেক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসতে হয়েছে।

বরকত মোল্লার অভিযোগ, পুলিশ তাদের কোনো সহযোগিতা করছে না। পাশাপাশি বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁসহ অন্য সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি এবং প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের হামলা, হুমকি কিংবা হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বিএনপির বক্তব্য

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা বলেন, ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর সাংবাদিকতার আড়ালে মব সৃষ্টি করে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিএনপিও প্রতিবাদ করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে বিএনপির কোনো নেতা সাংবাদিকদের মারধর করেছেন এমন তথ্য তাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন সিরাজুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, একজন নেতা রাগের মাথায় একজন সাংবাদিককে কিছু উল্টাপাল্টা কথা বলেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত