সংবাদ

নদী দখল করে বাউন্ডারি, আঙ্গুল অপসোনিনের দিকে


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

নদী দখল করে বাউন্ডারি, আঙ্গুল অপসোনিনের দিকে
নদীর পাড় ভরাট করে পাইলিং করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর ভেতরেই।

প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই। একসময় এটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা  বরিশাল নগরীর রূপাতলীর দপদপিয়া ফেরিঘাট। ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু চালু হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল।

ফেরিঘাট বন্ধ হওয়ার পরই শুরু হয় সরকারি সম্পত্তি ও নদীর তীরবর্তী জমি দখলের মহোৎসব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড় ভরাট করে পাইলিং করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর ভেতরেই।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকা এই ফেরিঘাট ও আশপাশের প্রায় ৫০ থেকে ১০ একর জমি দখল করেছে বরিশালের অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে ৭০ একর জমির ওপর কারখানা স্থাপন করলেও বর্তমানে কোম্পানিটির দখলে এক হাজার একরের বেশি জমি।

এর বেশিরভাগই নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষের জমি। তাদের কাউকে কোনো টাকা না দিয়েই বাউন্ডারি দিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। কেউ কেউ আংশিক টাকা পেলেও বেশিরভাগ মানুষ এখনো ক্ষতিপূরণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে এই ফেরিঘাটে ব্যবসা করেছি। ফেরি বন্ধ হওয়ার পর আমরা আরও অসহায় হয়ে পড়েছি। বর্তমানে এখান থেকে নৌকা ডলার করে প্রতিদিন নলছিটি উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষের যাতায়াত। এখন নদীর পাশ দিয়ে বাউন্ডারি দিয়ে পুরো এলাকা দখল করে নিয়েছে অপসোনিন কোম্পানি। এটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো একটি উপজেলার মানুষ আটকে যেতে পারে।’

ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কোম্পানির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে উল্টো এখানে দোকান ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। যে কারণে তারা এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছেন।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘যদি তারা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে থাকে এবং কাগজপত্র ঠিক থাকে, তাহলে বাউন্ডারি করতে পারে। তবে এটি দেখার একমাত্র এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

নদী দখল

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, “রূপাতলী ফেরিঘাট ও নদীর জমি লিজ নেওয়ার জন্য অপসোনিন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। অফিস খোলার পর কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারব। আপনি অফিসে আসুন।’

সচেতন নাগরিক কমিটির মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান লিজ নিলেও সেখানে ভবন ও বাউন্ডারি নির্মাণের আগে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শুধু জমি দখলই নয়, কোম্পানিটির বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

নদীর ভেতরে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা

এ বিষয়ে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারকে মেসেজ করা হলে কোনো উত্তর দেননি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


নদী দখল করে বাউন্ডারি, আঙ্গুল অপসোনিনের দিকে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রথম দেখায় বোঝার উপায় নেই। একসময় এটি ছিল দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা  বরিশাল নগরীর রূপাতলীর দপদপিয়া ফেরিঘাট। ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সেতু চালু হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল।

ফেরিঘাট বন্ধ হওয়ার পরই শুরু হয় সরকারি সম্পত্তি ও নদীর তীরবর্তী জমি দখলের মহোৎসব। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড় ভরাট করে পাইলিং করে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হচ্ছে নদীর ভেতরেই।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৫ বছর বন্ধ থাকা এই ফেরিঘাট ও আশপাশের প্রায় ৫০ থেকে ১০ একর জমি দখল করেছে বরিশালের অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে ৭০ একর জমির ওপর কারখানা স্থাপন করলেও বর্তমানে কোম্পানিটির দখলে এক হাজার একরের বেশি জমি।

এর বেশিরভাগই নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নিম্নবিত্ত মানুষের জমি। তাদের কাউকে কোনো টাকা না দিয়েই বাউন্ডারি দিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। কেউ কেউ আংশিক টাকা পেলেও বেশিরভাগ মানুষ এখনো ক্ষতিপূরণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আমি ৩৫ বছর ধরে এই ফেরিঘাটে ব্যবসা করেছি। ফেরি বন্ধ হওয়ার পর আমরা আরও অসহায় হয়ে পড়েছি। বর্তমানে এখান থেকে নৌকা ডলার করে প্রতিদিন নলছিটি উপজেলার প্রায় এক লাখ মানুষের যাতায়াত। এখন নদীর পাশ দিয়ে বাউন্ডারি দিয়ে পুরো এলাকা দখল করে নিয়েছে অপসোনিন কোম্পানি। এটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো একটি উপজেলার মানুষ আটকে যেতে পারে।’

ওই ব্যবসায়ীর অভিযোগ, কোম্পানির বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে উল্টো এখানে দোকান ঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। যে কারণে তারা এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছেন।

বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘যদি তারা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে থাকে এবং কাগজপত্র ঠিক থাকে, তাহলে বাউন্ডারি করতে পারে। তবে এটি দেখার একমাত্র এখতিয়ার জেলা প্রশাসনের। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

নদী দখল

এ বিষয়ে বরিশাল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, “রূপাতলী ফেরিঘাট ও নদীর জমি লিজ নেওয়ার জন্য অপসোনিন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। অফিস খোলার পর কাগজপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারব। আপনি অফিসে আসুন।’

সচেতন নাগরিক কমিটির মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠান লিজ নিলেও সেখানে ভবন ও বাউন্ডারি নির্মাণের আগে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, শুধু জমি দখলই নয়, কোম্পানিটির বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।

নদীর ভেতরে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা

এ বিষয়ে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারকে মেসেজ করা হলে কোনো উত্তর দেননি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত