সংবাদ

ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট: চিলমারী-রৌমারী ফেরি বন্ধ


প্রতিনিধি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
প্রতিনিধি, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট: চিলমারী-রৌমারী ফেরি বন্ধ
ছবি : সংবাদ

ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে গত ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নাব্যতা সংকটের কথা বললেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চ্যানেল ড্রেজিং বা খননকাজে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই রুটে নিয়মিত ফেরি চালানো যাচ্ছে না। এতে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। উদ্বোধনের পর শুরুতে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারে ব্যাপক সাড়া মিললেও নিয়মিত খননের অভাবে পথটি এখন অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই রুটে ‘কদম’ নামের একটি ফেরি থাকলেও নদে পানি কম থাকায় সেটি ঘাটে অলস বসে আছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুরুর পর থেকে গত প্রায় তিন বছরে (২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত) এই রুটে ১০৬৫ দিনের মধ্যে ৫৪১ দিনই নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ফিরে যাচ্ছে। ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরি বন্ধ থাকায় অন্তত ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। আমিও দীর্ঘ পথ এসে এখন ফিরে যাচ্ছি।’ রংপুর থেকে আসা আরেক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সাত দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছি। এখন শুনছি ড্রেজিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলবে না। ফলে দীর্ঘ পথ ঘুরে ঢাকা যেতে হবে, যাতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে।’

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ জানান, রৌমারী ঘাট ও ‘দুইশ বিঘা’ চরে পানি কম থাকায় গত ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের কাছে আরও দুটি মেশিন চাওয়া হলেও এখনো সেগুলো পৌঁছায়নি।

তবে ড্রেজিং নিয়ে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। খননকাজে দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী সমির চন্দ্র পাল দাবি করেছেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনের দাবি, বাধার বিষয়টি মনগড়া। মূলত কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই খননকাজ হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে তাদের অভিযোগ।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফেরি সার্ভিসটি ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান মিলবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ব্রহ্মপুত্রে নাব্যতা সংকট: চিলমারী-রৌমারী ফেরি বন্ধ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্যতা সংকটের কারণে কুড়িগ্রামের চিলমারী-রৌমারী নৌপথে গত ১৫ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নাব্যতা সংকটের কথা বললেও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চ্যানেল ড্রেজিং বা খননকাজে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এই রুটে নিয়মিত ফেরি চালানো যাচ্ছে না। এতে পণ্যবাহী ট্রাকের চালক, শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চিলমারী-রৌমারী নৌপথে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। উদ্বোধনের পর শুরুতে পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারে ব্যাপক সাড়া মিললেও নিয়মিত খননের অভাবে পথটি এখন অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এই রুটে ‘কদম’ নামের একটি ফেরি থাকলেও নদে পানি কম থাকায় সেটি ঘাটে অলস বসে আছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শুরুর পর থেকে গত প্রায় তিন বছরে (২৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত) এই রুটে ১০৬৫ দিনের মধ্যে ৫৪১ দিনই নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে নৌবন্দর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ফিরে যাচ্ছে। ভুরুঙ্গামারী থেকে আসা ট্রাকচালক মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ফেরি বন্ধ থাকায় অন্তত ১৫টি ট্রাক ফিরে গেছে। আমিও দীর্ঘ পথ এসে এখন ফিরে যাচ্ছি।’ রংপুর থেকে আসা আরেক চালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সাত দিন ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছি। এখন শুনছি ড্রেজিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলবে না। ফলে দীর্ঘ পথ ঘুরে ঢাকা যেতে হবে, যাতে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে।’

বিআইডব্লিউটিসি চিলমারীর সহকারী ব্যবস্থাপক আকিব সোহেল আকাশ জানান, রৌমারী ঘাট ও ‘দুইশ বিঘা’ চরে পানি কম থাকায় গত ১৪ আগস্ট থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। ড্রেজিং কর্তৃপক্ষের কাছে আরও দুটি মেশিন চাওয়া হলেও এখনো সেগুলো পৌঁছায়নি।

তবে ড্রেজিং নিয়ে দেখা দিয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। খননকাজে দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী সমির চন্দ্র পাল দাবি করেছেন, রৌমারী ঘাট এলাকায় স্থানীয়দের বাধার কারণে খননকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনের দাবি, বাধার বিষয়টি মনগড়া। মূলত কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই খননকাজ হচ্ছে না। একটি অসাধু চক্র এই রুটটি বন্ধ করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে তাদের অভিযোগ।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফেরি সার্ভিসটি ২৪ ঘণ্টা সচল রাখতে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান মিলবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত