সংসারের কাজের ফাঁকে কেউ বানাচ্ছেন কানের দুল, কেউ নকশা করছেন সীতাহারে, আবার কেউ ব্যস্ত আংটি তৈরিতে। ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরের কয়েক হাজার নারীর প্রতিদিনের দৃশ্য এখন এটি। শৌখিন ইমিটেশন বা ‘সিটি গোল্ডের’ গয়না বানিয়ে এখানকার প্রায় ৮ হাজার মানুষের জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। অভাবকে জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার এই গল্প এখন মহেশপুরের গ্রামগুলোতে মুখে মুখে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৪ সালের দিকে মহেশপুরে ক্ষুদ্র পরিসরে ইমিটেশনের গয়না তৈরির কাজ শুরু হয়। সময়ের সাথে তা ডালপালা মেলে এখন বিশাল এক শিল্পে পরিণত হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘গয়না তৈরির গ্রাম’ হিসেবে। এখানকার তৈরি আধুনিক ডিজাইনের চিক, সীতাহার, রুলি ও কানের দুলের কদর বাড়ছে সারা দেশে।
পৌরসভার নৌদা গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন গত ১৫ বছর ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, 'বিয়ের পর এই গ্রামে এসে কাজটা শিখেছি। আগে অভাব ছিল, এখন সংসারের কাজের ফাঁকে গয়না বানিয়ে দিনে অন্তত ৫০০ টাকা আয় হয়। আমাদের গ্রামের প্রায় সব নারীই এখন এই কাজ পারেন।' একই গ্রামের রহিমা বেগম জানান, প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা কাজ করে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
শুধু নারীরাই নন, এই শিল্পের বাজারজাতকরণ ও নকশার কাজে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় পুরুষরাও। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক কারখানা। কারখানা মালিক ইমরান হোসেন বলেন, 'এই শিল্পের কল্যাণে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে গয়না তৈরির বেশির ভাগ কাঁচামাল ভারত থেকে আনতে হয়। দেশে যদি এসব কাঁচামাল উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসত।' আরেক উদ্যোক্তা শান্ত জানান, তার কারখানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার গয়না দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আশাবাদী। তিনি জানান, এই ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সহজ শর্তে ঋণ ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে মহেশপুরের এই গয়না দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
সংসারের কাজের ফাঁকে কেউ বানাচ্ছেন কানের দুল, কেউ নকশা করছেন সীতাহারে, আবার কেউ ব্যস্ত আংটি তৈরিতে। ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরের কয়েক হাজার নারীর প্রতিদিনের দৃশ্য এখন এটি। শৌখিন ইমিটেশন বা ‘সিটি গোল্ডের’ গয়না বানিয়ে এখানকার প্রায় ৮ হাজার মানুষের জীবনে এসেছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। অভাবকে জয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার এই গল্প এখন মহেশপুরের গ্রামগুলোতে মুখে মুখে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই দশক আগে ২০০৪ সালের দিকে মহেশপুরে ক্ষুদ্র পরিসরে ইমিটেশনের গয়না তৈরির কাজ শুরু হয়। সময়ের সাথে তা ডালপালা মেলে এখন বিশাল এক শিল্পে পরিণত হয়েছে। উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম এখন পরিচিতি পেয়েছে ‘গয়না তৈরির গ্রাম’ হিসেবে। এখানকার তৈরি আধুনিক ডিজাইনের চিক, সীতাহার, রুলি ও কানের দুলের কদর বাড়ছে সারা দেশে।
পৌরসভার নৌদা গ্রামের গৃহবধূ সোনিয়া খাতুন গত ১৫ বছর ধরে এই কাজের সাথে যুক্ত। তিনি বলেন, 'বিয়ের পর এই গ্রামে এসে কাজটা শিখেছি। আগে অভাব ছিল, এখন সংসারের কাজের ফাঁকে গয়না বানিয়ে দিনে অন্তত ৫০০ টাকা আয় হয়। আমাদের গ্রামের প্রায় সব নারীই এখন এই কাজ পারেন।' একই গ্রামের রহিমা বেগম জানান, প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা কাজ করে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।
শুধু নারীরাই নন, এই শিল্পের বাজারজাতকরণ ও নকশার কাজে যুক্ত হয়েছেন স্থানীয় পুরুষরাও। গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক কারখানা। কারখানা মালিক ইমরান হোসেন বলেন, 'এই শিল্পের কল্যাণে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তবে গয়না তৈরির বেশির ভাগ কাঁচামাল ভারত থেকে আনতে হয়। দেশে যদি এসব কাঁচামাল উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়, তবে উৎপাদন খরচ অনেক কমে আসত।' আরেক উদ্যোক্তা শান্ত জানান, তার কারখানা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকার গয়না দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয়।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আশাবাদী। তিনি জানান, এই ক্ষুদ্র শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারিভাবে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সহজ শর্তে ঋণ ও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে মহেশপুরের এই গয়না দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন