সংবাদ

পর্যটন শহর বান্দরবান : খানাখন্দ আর বড় গর্তে ‘মৃত্যুফাঁদ’


সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
সোহেল কান্তি নাথ, বান্দরবান
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

পর্যটন শহর বান্দরবান : খানাখন্দ আর বড় গর্তে ‘মৃত্যুফাঁদ’
ছবি : সংবাদ

খানাখন্দ আর ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে পর্যটন শহর বান্দরবানের প্রধান সড়কগুলো। উন্নয়নের নামে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ফলে সড়কের এই বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল বান্দরবান সদর হাসপাতালের সামনের সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করলেও হাসপাতালের সামনেই তাদের পড়তে হচ্ছে বড় গর্তের মুখে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

দুর্ভোগ কেবল হাসপাতাল সড়কেই সীমাবদ্ধ নয়। বান্দরবান পৌরসভার ফায়ার সার্ভিস এলাকা, কলেজ রোড, নিউগুলশান, ক্যাচিংঘাটা, নতুন পাড়া ও বনরূপা পাড়াসহ ৯টি ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ সড়কের অবস্থাও একই রকম। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর জন্য যত্রতত্র সড়ক খোঁড়া হলেও কাজ শেষে তা যথাযথভাবে সংস্কার করা হয়নি।

শহরের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘একটি পর্যটন শহরের রাস্তা এত নাজুক হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বিশেষ করে হাসপাতাল ও কলেজের সামনের রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের অপরিকল্পিত কাজের কারণেই এই ভোগান্তি।’

ক্যাচিংঘাটা এলাকার টমটম চালক করিম জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং কয়েক দিন পরপরই গাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য রাস্তাগুলো খোঁড়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ক্ষতিপূরণের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

সরকারি তথ্যমতে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজের কারণে পৌরসভার প্রায় পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে শহরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পর্যটন শহর বান্দরবান : খানাখন্দ আর বড় গর্তে ‘মৃত্যুফাঁদ’

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খানাখন্দ আর ছোট-বড় অসংখ্য গর্তে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে পর্যটন শহর বান্দরবানের প্রধান সড়কগুলো। উন্নয়নের নামে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অপরিকল্পিত খোঁড়াখুঁড়ি এবং সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির ফলে সড়কের এই বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল বান্দরবান সদর হাসপাতালের সামনের সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারহীন। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে হাজারো মানুষ যাতায়াত করলেও হাসপাতালের সামনেই তাদের পড়তে হচ্ছে বড় গর্তের মুখে। বৃষ্টি হলে এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

দুর্ভোগ কেবল হাসপাতাল সড়কেই সীমাবদ্ধ নয়। বান্দরবান পৌরসভার ফায়ার সার্ভিস এলাকা, কলেজ রোড, নিউগুলশান, ক্যাচিংঘাটা, নতুন পাড়া ও বনরূপা পাড়াসহ ৯টি ওয়ার্ডের অভ্যন্তরীণ অধিকাংশ সড়কের অবস্থাও একই রকম। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পানি সরবরাহ প্রকল্পের পাইপলাইন বসানোর জন্য যত্রতত্র সড়ক খোঁড়া হলেও কাজ শেষে তা যথাযথভাবে সংস্কার করা হয়নি।

শহরের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘একটি পর্যটন শহরের রাস্তা এত নাজুক হতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। বিশেষ করে হাসপাতাল ও কলেজের সামনের রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিভাগের অপরিকল্পিত কাজের কারণেই এই ভোগান্তি।’

ক্যাচিংঘাটা এলাকার টমটম চালক করিম জানান, গর্তে পড়ে প্রায়ই গাড়ি উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং কয়েক দিন পরপরই গাড়ি মেরামত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য রাস্তাগুলো খোঁড়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে ক্ষতিপূরণের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলেই দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

সরকারি তথ্যমতে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়ন কাজের কারণে পৌরসভার প্রায় পাঁচ কিলোমিটারেরও বেশি সড়ক বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে শহরের সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানবাসী।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত