সংবাদ

কুষ্টিয়ায় নৌকা বাইচ দেখতে হাজারো মানুষের ঢল


জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
জেলা বার্তা পরিবেশক, কুষ্টিয়া
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২ পিএম

কুষ্টিয়ায় নৌকা বাইচ দেখতে হাজারো মানুষের ঢল
নৌকা বাইচ দেখতে বিলের পাড় আর গ্রামীণ সড়ক জুড়ে হাজারো মানুষের উল্লাস। ছবি : সংবাদ

নৌকা বাইচ দেখতে বিলের পাড় আর গ্রামীণ সড়ক জুড়ে হাজারো মানুষের উল্লাস। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াইকোলের বহলবাড়িয়া বিলে ফিরে এলো গ্রাম বাংলার হারানো দৃশ্য। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচস্থানীয়দের উদ্যোগে এবারও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য–হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা, সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং তরুণদের মাদকমুক্ত রাখা। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিলপাড়ে ছুটে আসেন। বিলের পানিতে ভাসছিল রঙ-বেরঙের ডিঙি নৌকা। মাথায় ও গায়ে রঙিন গামছা বাঁধা মাঝিরা বাঁশির তালে তালে সমান লয়ে দাঁড় টানছিলেন। আর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালি ও ‘হেইও’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল, ফিরে এসেছে গ্রাম বাংলার সেই সোনালি দিনগুলো।

বাইচ দেখতে কুষ্টিয়া শহর থেকে যাওয়া কয়েকজন বলেন, ‘শহরে এসব দেখা যায় না। ছোটবেলায় দাদার কাছে বাইচের গল্প শুনেছি, আজ নিজ চোখে দেখলাম। খুব ভালো লাগছে।' চড়াইকোল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আজিবর মোল্লা বলেন, 'আমরা ছোটবেলায় এই বিলেই বাইচ খেলেছি। মাঝখানে কয়েক বছর বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হওয়ায় পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল।'

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘ময়ূর’ নৌকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন বলেন, 'ঢাকায় চাকরি করি। খেলার টানে গ্রামে এসেছি। অনেক কষ্ট করে নৌকা সাজিয়েছি। মানুষের এত সাড়া পাব ভাবিনি। চাই প্রতি বছর যেন এমন আয়োজন হয়।'

স্থানীয়রা বলছেন, নদী-বিল ভরাট আর বিনোদনের মাধ্যম বদলে যাওয়ায় একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল এই নৌকা বাইচ। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর উদ্যোগ থাকলে ঐতিহ্য কখনো হারায় না। গ্রাম-বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ৩০ বছর ধরে বহলবাড়িয়া বিলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানালেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ওয়াশিম আকরাম। তিনি বলেন, 'আমাদের ছেলেরা যেন খেলাধুলা আর সংস্কৃতির মধ্যে থাকে এবং মাদকের দিকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন। অন্তত ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। মানুষের সাড়া দেখে আমরা অনুপ্রাণিত, সামনে আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা আছে।'

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী বলেন, 'একটি বাইচ শুধু খেলা নয়; এটি গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মানুষের মিলনমেলা। এমন উদ্যোগ পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


কুষ্টিয়ায় নৌকা বাইচ দেখতে হাজারো মানুষের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নৌকা বাইচ দেখতে বিলের পাড় আর গ্রামীণ সড়ক জুড়ে হাজারো মানুষের উল্লাস। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুষ্টিয়ার কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের পুরাতন চড়াইকোলের বহলবাড়িয়া বিলে ফিরে এলো গ্রাম বাংলার হারানো দৃশ্য। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচস্থানীয়দের উদ্যোগে এবারও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য–হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা, সাধারণ মানুষকে বিনোদন দেওয়া এবং তরুণদের মাদকমুক্ত রাখা। সকাল থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ বিলপাড়ে ছুটে আসেন। বিলের পানিতে ভাসছিল রঙ-বেরঙের ডিঙি নৌকা। মাথায় ও গায়ে রঙিন গামছা বাঁধা মাঝিরা বাঁশির তালে তালে সমান লয়ে দাঁড় টানছিলেন। আর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকদের করতালি ও ‘হেইও’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। কিছুক্ষণের জন্য মনে হচ্ছিল, ফিরে এসেছে গ্রাম বাংলার সেই সোনালি দিনগুলো।


বাইচ দেখতে কুষ্টিয়া শহর থেকে যাওয়া কয়েকজন বলেন, ‘শহরে এসব দেখা যায় না। ছোটবেলায় দাদার কাছে বাইচের গল্প শুনেছি, আজ নিজ চোখে দেখলাম। খুব ভালো লাগছে।' চড়াইকোল গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আজিবর মোল্লা বলেন, 'আমরা ছোটবেলায় এই বিলেই বাইচ খেলেছি। মাঝখানে কয়েক বছর বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হওয়ায় পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল।'

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ‘ময়ূর’ নৌকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন বলেন, 'ঢাকায় চাকরি করি। খেলার টানে গ্রামে এসেছি। অনেক কষ্ট করে নৌকা সাজিয়েছি। মানুষের এত সাড়া পাব ভাবিনি। চাই প্রতি বছর যেন এমন আয়োজন হয়।'

স্থানীয়রা বলছেন, নদী-বিল ভরাট আর বিনোদনের মাধ্যম বদলে যাওয়ায় একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল এই নৌকা বাইচ। কিন্তু মানুষের ভালোবাসা আর উদ্যোগ থাকলে ঐতিহ্য কখনো হারায় না। গ্রাম-বাংলার হারানো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে ৩০ বছর ধরে বহলবাড়িয়া বিলে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানালেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ওয়াশিম আকরাম। তিনি বলেন, 'আমাদের ছেলেরা যেন খেলাধুলা আর সংস্কৃতির মধ্যে থাকে এবং মাদকের দিকে না যায়, সেই লক্ষ্যেই এই আয়োজন। অন্তত ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছে। মানুষের সাড়া দেখে আমরা অনুপ্রাণিত, সামনে আরও বড় পরিসরে করার ইচ্ছা আছে।'

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী বলেন, 'একটি বাইচ শুধু খেলা নয়; এটি গ্রাম বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মানুষের মিলনমেলা। এমন উদ্যোগ পুরো জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত