সংবাদ

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: কঠোর অবস্থানে আইনজীবীরা


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, রংপুর
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: কঠোর অবস্থানে আইনজীবীরা
সংবাদ সম্মেলনে আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আইনজীবীদের।

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একইসঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির সদস্যদের আলোচনা সাপেক্ষে একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে আমরা রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের আইনি লড়াইয়ে পাশে আছি।’

আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি নিকৃষ্টতম। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার হয়েছে। আটকরা ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি,’ যোগ করেন তিনি।

আইনজীবী নেতা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো প্রকার গুজব ছড়াবেন না।’

তিনি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদেরও আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন।

গত ২২ আগস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: কঠোর অবস্থানে আইনজীবীরা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার মামলায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার ঘোষণা দিয়েছে জেলা আইনজীবী সমিতি। একইসঙ্গে তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় আইনজীবী সমিতি ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘আইনজীবী সমিতির সদস্যদের আলোচনা সাপেক্ষে একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে আমরা রয়েছি এবং তাদের সব ধরনের আইনি লড়াইয়ে পাশে আছি।’

আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি নিকৃষ্টতম। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা কয়েকজন সরকারি আইনজীবী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।’

তিনি বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুণ্ঠিত গহনা উদ্ধার হয়েছে। আটকরা ১৬৪ ধারায় আদালতে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

‘পুলিশি তৎপরতা, সাংবাদিকদের সহযোগিতায় এখন পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত এবং কার্যক্রম সঠিক পথেই আছে বলে আমরা মনে করছি,’ যোগ করেন তিনি।

আইনজীবী নেতা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা রকমের গুজব ও গল্প সাজিয়ে প্রচার করছেন। কেউ কেউ এটাকে রাজনৈতিক প্রচার চালানোর চেষ্টা করছেন। আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে অনুরোধ, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কেউ রাজনীতি করবেন না। কোনো প্রকার গুজব ছড়াবেন না।’

তিনি এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদেরও আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, অ্যাডভোকেট সাহেদ কামাল ইবনে খতিব, অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকায় জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। সেই বাড়ির দোতলায় প্রায় তিন বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি। অবসরে যাওয়ার পর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক হিসেবে রোগীও দেখতেন।

গত ২২ আগস্ট রাতে ওই বাসা থেকে গণপতি (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চারজনকে হত্যার এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতেই তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত