সংবাদ

আবদ্ধ জলাশয় ও অকার্যকর ড্রেনেজে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০০ পিএম

আবদ্ধ জলাশয় ও অকার্যকর ড্রেনেজে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা
ছবি : সংবাদ

ফেনীতে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। পৌরসভা এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শহরের রামপুরে একটি আবদ্ধ জলাশয়ের পাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারা ইতিমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিচ্ছন্ন পুকুর, জমে থাকা পানি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের মাস্টার বাড়ির সামনের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী হয়ে উঠেছে। পুকুরের আশপাশের কয়েকটি বাড়ির একাধিক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, তিনি ও তার বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকার আরেকজন বাসিন্দা জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আরেকজন বাসিন্দা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশিত না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে, যা মশার বংশবিস্তার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাছের আরেকটি পুকুরের পাশের একটি ড্রেন ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাসাবাড়ির ময়লা পানি গিয়ে পুকুরে জমছে। মেরামতের জন্য পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা জানান, বিদ্যালয়গুলোতে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে এবং ইতিমধ্যে একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছেন। আরেক প্রধান শিক্ষক জানান, পৌরসভা এলাকার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে, তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ওষুধ ছিটানো বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে ফেনীর পৌর প্রশাসক জানান, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি চলছে এবং জনসচেতনতার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকায় মশার বিস্তার ঘটছে এবং এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


আবদ্ধ জলাশয় ও অকার্যকর ড্রেনেজে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ফেনীতে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। পৌরসভা এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শহরের রামপুরে একটি আবদ্ধ জলাশয়ের পাশের কয়েকটি ভবনের বাসিন্দারা ইতিমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিচ্ছন্ন পুকুর, জমে থাকা পানি ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কারণে মশার বংশবিস্তার বাড়ছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুর ভূঞা বাড়ি সড়কের মাস্টার বাড়ির সামনের একটি পুকুর দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরে মশার বংশবিস্তারের উপযোগী হয়ে উঠেছে। পুকুরের আশপাশের কয়েকটি বাড়ির একাধিক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, তিনি ও তার বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকার আরেকজন বাসিন্দা জানান, তার পরিবারের চার সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আরেকজন বাসিন্দা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকমতো নিষ্কাশিত না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে, যা মশার বংশবিস্তার আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাছের আরেকটি পুকুরের পাশের একটি ড্রেন ভেঙে পুকুরে পড়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে এবং বাসাবাড়ির ময়লা পানি গিয়ে পুকুরে জমছে। মেরামতের জন্য পৌরসভায় একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির এক নেতা জানান, বিদ্যালয়গুলোতে ডেঙ্গু বিস্তারের ঝুঁকি বেড়েছে এবং ইতিমধ্যে একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী আক্রান্ত হয়েছেন। আরেক প্রধান শিক্ষক জানান, পৌরসভা এলাকার ২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি রয়েছে, তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও ওষুধ ছিটানো বা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে ফেনীর পৌর প্রশাসক জানান, পৌরসভার ১৮টি ওয়ার্ডে ৩৬ দিনের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি চলছে এবং জনসচেতনতার জন্য নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আঙিনা অপরিচ্ছন্ন থাকায় মশার বিস্তার ঘটছে এবং এ বিষয়ে বিশেষ নজর রাখা হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত