সংবাদ

ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের পথে


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম

ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের পথে
ছবি : সংবাদ

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। ইঞ্জিন সংকটে আগে প্রতিদিন ৫-৬টি কন্টেনারবাহী ট্রেন চললেও এখন যাচ্ছে মাত্র একটি। এতে কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫-৬ মাস ধরে রেলের ইঞ্জিন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে এখন দিনে মাত্র একটি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। ইঞ্জিন না পাওয়ায় প্রায়ই ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকছে।

চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড সূত্র জানায়, ইঞ্জিন সংকটে সিজিপিওয়াইয়ে কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে। অথচ আগে এসব কন্টেনার দ্রুত গন্তব্যে পাঠানো হতো।

সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি কমলাপুরমুখী কন্টেনার পরিবহন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে আইসিডি কমলাপুর কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার বলেন, ‘ইঞ্জিনের অবস্থা খুবই খারাপ। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দিনে মাত্র একটি কন্টেনারবাহী ট্রেন যায়। আগে প্রতিদিন ৫-৬টি পণ্যবাহী ট্রেন যেত। এখন কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে, যা আগে ছিল না।’

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন আইসিডি কমলাপুরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার পরিবহনে অনিয়ম এবং আমদানিকারকদের ওপর ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ আরোপ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে।

কন্টেনারে পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলওয়ের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা আইসিডি ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে কন্টেনার দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকে এবং আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ গুণতে হচ্ছে।

আইসিডি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন, কাঁচামাল সরবরাহে সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একাধিক সভায় আইসিডিগামী কন্টেনার পরিবহনের জন্য ন্যূনতম চারটি রেল ইঞ্জিন নির্ধারণ করে নিয়মিত ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। পণ্য পরিবহনে ইঞ্জিন বাড়ানো হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬


ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধের পথে

প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। ইঞ্জিন সংকটে আগে প্রতিদিন ৫-৬টি কন্টেনারবাহী ট্রেন চললেও এখন যাচ্ছে মাত্র একটি। এতে কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৫-৬ মাস ধরে রেলের ইঞ্জিন সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড (সিজিপিওয়াই) থেকে এখন দিনে মাত্র একটি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। ইঞ্জিন না পাওয়ায় প্রায়ই ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকছে।

চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড সূত্র জানায়, ইঞ্জিন সংকটে সিজিপিওয়াইয়ে কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে। অথচ আগে এসব কন্টেনার দ্রুত গন্তব্যে পাঠানো হতো।

সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি কমলাপুরমুখী কন্টেনার পরিবহন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে আইসিডি কমলাপুর কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার বলেন, ‘ইঞ্জিনের অবস্থা খুবই খারাপ। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দিনে মাত্র একটি কন্টেনারবাহী ট্রেন যায়। আগে প্রতিদিন ৫-৬টি পণ্যবাহী ট্রেন যেত। এখন কন্টেনারের স্তুপ পড়ে গেছে, যা আগে ছিল না।’

ঢাকা কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন আইসিডি কমলাপুরের কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কন্টেনার পরিবহনে অনিয়ম এবং আমদানিকারকদের ওপর ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ আরোপ বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ চেয়েছে।

কন্টেনারে পণ্য পরিবহনকারী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলওয়ের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা আইসিডি ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে কন্টেনার দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকে এবং আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা ডিটেনশন ও ডেমারেজ চার্জ গুণতে হচ্ছে।

আইসিডি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন, কাঁচামাল সরবরাহে সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় (সাপ্লাই চেইন) নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের একাধিক সভায় আইসিডিগামী কন্টেনার পরিবহনের জন্য ন্যূনতম চারটি রেল ইঞ্জিন নির্ধারণ করে নিয়মিত ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি। পণ্য পরিবহনে ইঞ্জিন বাড়ানো হয়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত