কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সাবেক কাউন্সিলর আল আমিন সৈকতকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলার অন্যতম আসামি মাহমুদুল হাসান বকশী (২২) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এ তিনি আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের বিচারক ফখরুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামি মাহমুদুল হাসান বকশী ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার মোমেন মিয়ার ছেলে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাশার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলা ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরবের রমজান মিয়ার হাওলি এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন আল আমিন সৈকত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওত পেতে থাকা কয়েকজন হামলাকারী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সৈকতকে উদ্ধার করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সৈকতের চাচা মোমেন মিয়া ও চাচাতো ভাই মাহমুদুল হাসান বকশীসহ আটজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, ভৈরব বাজারে অবস্থিত পারিবারিক সম্পত্তি ‘ফকির মার্কেট’ নিয়ে চাচা মোমেন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুলিশের তৎপরতার কারণে আসামিরা আত্মগোপনে থাকতে না পেরে আদালতে আত্মসমর্পণ করছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকারী আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করবে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন