পরিবেশ
রক্ষায় অভিনব ও সময়োপযোগী এক
যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। প্রকৃতির বন্ধু হতে শিক্ষার্থীদের জন্য
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের এক দারুণ সুযোগ
করে দেওয়া হয়েছে।
তবে
শর্ত একটাই, এন্ট্রি পেতে হলে শিক্ষার্থীদের
অবশ্যই জনপ্রতি কমপক্ষে একশ গ্রাম প্লাস্টিক
বা পলিথিন জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সময় নিজ নিজ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড প্রদর্শন
করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
‘‘এসো
আমরা প্লাস্টিক কমাই ও পরিবেশ
রক্ষা করি’’ এই চমৎকার স্লোগানকে
সামনে রেখে বাংলাদেশে এই
প্রথম এ ধরনের ব্যতিক্রমী
উদ্যোগ নিয়েছে কোনো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন সংবাদকে জানান, তারা পরীক্ষামূলকভাবে এই
কার্যক্রম শুরু করেছেন। ১০০
গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিলেই শিক্ষার্থীরা
বিনামূল্যে ৭০ টাকার টিকিট
ফি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবে। শুধু
তাই নয়, এই উদ্যোগের
মাধ্যমে সংগৃহীত কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতাকে
কাজে লাগিয়ে সমাজে কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার
উদ্যোগে একটি বিশেষ ফান্ডও
গঠন করা হচ্ছে। মূলত
পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা
বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বন্যপ্রাণী
সংরক্ষণে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই
নতুন ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অসহায়
ও সুবিধাবঞ্চিত কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টিও এই মহৎ কাজের
সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ফয়েজ
লেকের মনোরম পরিবেশে ১০ একর জায়গাজুড়ে
অবস্থিত এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে
৬৮ প্রজাতির প্রায় ৫০০ বন্যপ্রাণী রয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মহাবিপন্ন প্রজাতির
হলুদ পাহাড়ি কাছিম।
গত জুন মাসেও এই
কাছিমের ডিম ফুটে বাচ্চা
বের হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে এই বিপন্ন প্রজাতিটি
কেবল টিকে হওয়াই নয়,
বরং তাদের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক
সহযোগিতায় ২০২২ সালে উন্নত
আবাসস্থল ও আধুনিক পরিচর্যা
ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই কাছিমগুলোর
প্রজনন দারুণভাবে সফল হয়েছে।
একসময়ের
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী
পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া এই প্রাণীটি এখন
আইইউসিএনের লাল তালিকায় মহাবিপন্ন
হিসেবে চিহ্নিত।
বর্তমানে
প্রতিদিন এই চিড়িয়াখানায় দুই
হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড়
করেন। নতুন এই প্লাস্টিক
বিনিময়ের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
পরিবেশ সুরক্ষার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে
আশা করা হচ্ছে।
ধারণা
করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ
দেশের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিবেশ
রক্ষায় অভিনব ও সময়োপযোগী এক
যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। প্রকৃতির বন্ধু হতে শিক্ষার্থীদের জন্য
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের এক দারুণ সুযোগ
করে দেওয়া হয়েছে।
তবে
শর্ত একটাই, এন্ট্রি পেতে হলে শিক্ষার্থীদের
অবশ্যই জনপ্রতি কমপক্ষে একশ গ্রাম প্লাস্টিক
বা পলিথিন জমা দিতে হবে।
একই সঙ্গে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সময় নিজ নিজ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড প্রদর্শন
করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
‘‘এসো
আমরা প্লাস্টিক কমাই ও পরিবেশ
রক্ষা করি’’ এই চমৎকার স্লোগানকে
সামনে রেখে বাংলাদেশে এই
প্রথম এ ধরনের ব্যতিক্রমী
উদ্যোগ নিয়েছে কোনো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন সংবাদকে জানান, তারা পরীক্ষামূলকভাবে এই
কার্যক্রম শুরু করেছেন। ১০০
গ্রাম প্লাস্টিক জমা দিলেই শিক্ষার্থীরা
বিনামূল্যে ৭০ টাকার টিকিট
ফি ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবে। শুধু
তাই নয়, এই উদ্যোগের
মাধ্যমে সংগৃহীত কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত সহযোগিতাকে
কাজে লাগিয়ে সমাজে কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার
উদ্যোগে একটি বিশেষ ফান্ডও
গঠন করা হচ্ছে। মূলত
পরিবেশ দূষণ রোধে জনসচেতনতা
বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের বন্যপ্রাণী
সংরক্ষণে গভীরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এই
নতুন ভাবনা বাস্তবায়িত হয়েছে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অসহায়
ও সুবিধাবঞ্চিত কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টিও এই মহৎ কাজের
সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ফয়েজ
লেকের মনোরম পরিবেশে ১০ একর জায়গাজুড়ে
অবস্থিত এই চিড়িয়াখানায় বর্তমানে
৬৮ প্রজাতির প্রায় ৫০০ বন্যপ্রাণী রয়েছে।
এর মধ্যে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো মহাবিপন্ন প্রজাতির
হলুদ পাহাড়ি কাছিম।
গত জুন মাসেও এই
কাছিমের ডিম ফুটে বাচ্চা
বের হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নিরলস প্রচেষ্টায় বর্তমানে এই বিপন্ন প্রজাতিটি
কেবল টিকে হওয়াই নয়,
বরং তাদের সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক
সহযোগিতায় ২০২২ সালে উন্নত
আবাসস্থল ও আধুনিক পরিচর্যা
ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই কাছিমগুলোর
প্রজনন দারুণভাবে সফল হয়েছে।
একসময়ের
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী
পাহাড়ি অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া এই প্রাণীটি এখন
আইইউসিএনের লাল তালিকায় মহাবিপন্ন
হিসেবে চিহ্নিত।
বর্তমানে
প্রতিদিন এই চিড়িয়াখানায় দুই
হাজারেরও বেশি দর্শনার্থী ভিড়
করেন। নতুন এই প্লাস্টিক
বিনিময়ের উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে
পরিবেশ সুরক্ষার আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে
আশা করা হচ্ছে।
ধারণা
করা হচ্ছে, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ
দেশের অন্যান্য বিনোদন কেন্দ্রগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হয়ে উঠবে।

আপনার মতামত লিখুন