সংবাদ

ফুলপুরে অনাবৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ে আমন চাষ ব্যাহত


প্রতিনিধি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)
প্রতিনিধি, ফুলপুর (ময়মনসিংহ)
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

ফুলপুরে অনাবৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ে আমন চাষ ব্যাহত
ছবি : সংবাদ

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব ও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চাষাবাদ ও চারা পরিচর্যা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভাদ্রের ভরা মৌসুমেও বৃষ্টি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পানির অভাবে একদিকে অনেক কৃষক খেতে চারা রোপণ করতে পারছেন না, অন্যদিকে নদী-নালা ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় রোপণ করা চারাও শুকিয়ে মরতে বসেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে না পেরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ পাম্প চালিয়ে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। ডিজেলের চড়া দাম ও বিদ্যুৎ বিলের খরচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। কৃষকেরা জানান, সাধারণত বৃষ্টির পানিতেই আমন চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়তি অর্থ খরচ করে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচাতে হচ্ছে। সময়মতো ভারী বৃষ্টি না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলপুর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে উফশী, ১ হাজার ৩০০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন চাষ করা হয়েছে। এই মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ২০৭ মেট্রিক টন এবং চালের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘প্রাকৃতিক বৃষ্টির ঘাটতির কারণে আমন রোপণ ও চারা বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদী ও খালের পানি ব্যবহার এবং সেচ পাম্পের সাহায্যে জমি ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ফুলপুরে অনাবৃষ্টি ও লোডশেডিংয়ে আমন চাষ ব্যাহত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাব ও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি আমন মৌসুমে চাষাবাদ ও চারা পরিচর্যা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ভাদ্রের ভরা মৌসুমেও বৃষ্টি না থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পানির অভাবে একদিকে অনেক কৃষক খেতে চারা রোপণ করতে পারছেন না, অন্যদিকে নদী-নালা ও খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় রোপণ করা চারাও শুকিয়ে মরতে বসেছে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির ওপর নির্ভর করতে না পেরে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে সেচ পাম্প চালিয়ে চারা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। ডিজেলের চড়া দাম ও বিদ্যুৎ বিলের খরচের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। কৃষকেরা জানান, সাধারণত বৃষ্টির পানিতেই আমন চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় বাড়তি অর্থ খরচ করে সেচ দিয়ে ফসল বাঁচাতে হচ্ছে। সময়মতো ভারী বৃষ্টি না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলপুর উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২২ হাজার ১৮০ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত রোপণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৩০ হেক্টর। এর মধ্যে ১৫ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে উফশী, ১ হাজার ৩০০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ৫ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে স্থানীয় জাতের আমন চাষ করা হয়েছে। এই মৌসুমে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮৩ হাজার ২০৭ মেট্রিক টন এবং চালের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ৬৩০ মেট্রিক টন ধরা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাদিয়া ফেরদৌসী বলেন, ‘প্রাকৃতিক বৃষ্টির ঘাটতির কারণে আমন রোপণ ও চারা বৃদ্ধি সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নদী ও খালের পানি ব্যবহার এবং সেচ পাম্পের সাহায্যে জমি ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত