সংবাদ

তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
সোহাগী জাহান (তনু)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। তারা হলেন- সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) এ রেড নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। রেড নোটিশের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ সময় সিআইডি এই মামলার তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিনি তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলম- এর ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি নেন।

চলতি বছরের জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তারা জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করলেও দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে মনে করছেন তারা। আদালতের আদেশের পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকায় অনুরোধ পাঠায় এবং ইন্টারপোলের সহায়তা চায়।

বাংলাদেশের জমা দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যায় সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল। তারা হলেন- সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) এ রেড নোটিশ দেওয়া হয়েছে। 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনসিবির অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। রেড নোটিশের বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও কর্মকর্তারা জানান।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা ইয়ার আহম্মেদ কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

দীর্ঘ সময় সিআইডি এই মামলার তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরে ২০২০ সালে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পিবিআইকে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেন। চলতি বছরের ৬ এপ্রিল তিনি তিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য- সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহীন আলম- এর ডিএনএ প্রোফাইল ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতের অনুমতি নেন।

চলতি বছরের জুনে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লার একটি আদালত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, তারা জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের চেষ্টা করলেও দুজনই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছেন বলে মনে করছেন তারা। আদালতের আদেশের পর পিবিআই এনসিবি-ঢাকায় অনুরোধ পাঠায় এবং ইন্টারপোলের সহায়তা চায়।

বাংলাদেশের জমা দেওয়া তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইন্টারপোল দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসের ১২ প্রকৌশলী ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত