সংবাদ

সিজারে খাদ্যনালী কাটার অভিযোগ, ঢামেকে মুমূর্ষু প্রসূতি


প্রতিনিধি, বন্দর ( নারায়ণগঞ্জ)
প্রতিনিধি, বন্দর ( নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম

সিজারে খাদ্যনালী কাটার অভিযোগ, ঢামেকে মুমূর্ষু প্রসূতি
সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত ‘মা হাসপাতালে’ সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুলের অভিযোগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া ২৩ বছর বয়সী সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এ ঘটনায় প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ‘মা হাসপাতাল’-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মদনপুরের ‘মা হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার। পরে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে না রেখে সাধারণ বেডে রাখা হয়। এরপর থেকেই তার পেটে তীব্র ব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি একাধিকবার চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এটিকে ‘গ্যাসের সমস্যা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এ সময় সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চার দিন পর ১৩ আগস্ট সকালে সিনথিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন স্বজনদের বলা হয়, বাথরুম হলে পেটের ফোলা কমে যাবে।

পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে তার পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে পুনরায় ‘মা হাসপাতালে’ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তার স্বামী মো. মাসুম (৩১) দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের দাবি, ঢামেকের চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার কারণে খাবারের অংশ পেটে জমে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে তার দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে, পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে ‘মা হাসপাতাল’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে ভুল চিকিৎসা কিংবা খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ‘মা হাসপাতাল’-এর পরিচালক রুহুল আমিন। তিনি বলেন, তাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। রোগী চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরেছিলেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে কিংবা বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা তাদের জানা নেই।

রুহুল আমিন আরও দাবি করেন, পরে রাতে রোগীকে পুনরায় হাসপাতালে আনা হলে দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণের কারণে তার পেট ফুলে থাকতে পারে। তারাই রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঢামেকে কোনো সংক্রমণ হয়ে থাকলে তার দায় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন হাসপাতাল পরিচালক।

তবে রোগীকে পুনরায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে এলে তার যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করে সুস্থ করার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান রুহুল আমিন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিজারে খাদ্যনালী কাটার অভিযোগ, ঢামেকে মুমূর্ষু প্রসূতি

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের মদনপুরে অবস্থিত ‘মা হাসপাতালে’ সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুলের অভিযোগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়া ২৩ বছর বয়সী সিনথিয়া রহমান সন্ধ্যা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এ ঘটনায় প্রসূতির মা মানসুরা (৪০) বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ‘মা হাসপাতাল’-এর মালিক রুহুল আমিন (৪৯), সিজারিয়ান অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার (৩৮) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনথিয়াকে মদনপুরের ‘মা হাসপাতালে’ ভর্তি করা হয়। সকাল ১০টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেন চিকিৎসক ডা. সাইমা আক্তার। পরে সকাল ১১টা ১০ মিনিটে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি সুস্থ ছেলে সন্তানের জন্ম হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের পর প্রসূতিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে না রেখে সাধারণ বেডে রাখা হয়। এরপর থেকেই তার পেটে তীব্র ব্যথা ও পেট ফুলে যাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি একাধিকবার চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এটিকে ‘গ্যাসের সমস্যা’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এ সময় সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ ও স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, চার দিন পর ১৩ আগস্ট সকালে সিনথিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তখন স্বজনদের বলা হয়, বাথরুম হলে পেটের ফোলা কমে যাবে।

পরে ওই দিন রাত ১১টার দিকে তার পেটের ব্যথা অসহনীয় হয়ে উঠলে রাত ১টার দিকে পুনরায় ‘মা হাসপাতালে’ নেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন।

এরপর রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তার স্বামী মো. মাসুম (৩১) দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করেন এবং অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন।

পরিবারের দাবি, ঢামেকের চিকিৎসকরা তাদের জানিয়েছেন, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত প্রসূতির খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার কারণে খাবারের অংশ পেটে জমে সংক্রমণ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢামেকে ইতোমধ্যে তার দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

এদিকে, পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার বিষয়ে ‘মা হাসপাতাল’ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

তবে ভুল চিকিৎসা কিংবা খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ‘মা হাসপাতাল’-এর পরিচালক রুহুল আমিন। তিনি বলেন, তাদের হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। রোগী চার দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ অবস্থায় হেঁটে বাড়ি ফিরেছিলেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে কিংবা বাড়িতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেছিল কি না, তা তাদের জানা নেই।

রুহুল আমিন আরও দাবি করেন, পরে রাতে রোগীকে পুনরায় হাসপাতালে আনা হলে দুর্ঘটনাজনিত রক্তক্ষরণের কারণে তার পেট ফুলে থাকতে পারে। তারাই রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ঢামেকে কোনো সংক্রমণ হয়ে থাকলে তার দায় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন হাসপাতাল পরিচালক।

তবে রোগীকে পুনরায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে এলে তার যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করে সুস্থ করার দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান রুহুল আমিন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত