সংবাদ

রাষ্ট্রীয় উচ্চতর সাইবার সুরক্ষার আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম

রাষ্ট্রীয় উচ্চতর সাইবার সুরক্ষার আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর
ছবি : সংবাদ

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার ও জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল অবকাঠামো এখন রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার আওতায় এসেছে। সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ (ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার - সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গত সোমবার (৩১ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী এই ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭টি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হলো। চট্টগ্রাম বন্দর এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেমগুলো এখন উচ্চতর রাষ্ট্রীয় নজরদারির আওতায় থাকবে। এর ফলে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি কিংবা অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং, নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং অফলাইন ব্যাকআপ নিশ্চিত করা হবে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, এই সুরক্ষা শুধু সাইবার নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্দরের ডেটা সেন্টার, ডেটাবেজ, অ্যাপ্লিকেশন কমিউনিকেশন এবং এপিআই হাবসহ সামগ্রিক আইটি অবকাঠামো এর আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচল ও শুল্ক-রাজস্ব প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল সিস্টেমে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বের একটি স্বীকৃতি। বন্দরের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই একে শুধু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

সিআইআই ঘোষণার ফলে বন্দরে নিজস্ব সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) ও সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিআইআরটি) পরিচালনা বাধ্যতামূলক হবে। এই বিধান লঙ্ঘন করা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোয় অননুমোদিত প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাষ্ট্রীয় উচ্চতর সাইবার সুরক্ষার আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার ও জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল অবকাঠামো এখন রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার আওতায় এসেছে। সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো’ (ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার - সিআইআই) হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গত সোমবার (৩১ আগস্ট) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী এই ঘোষণা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

এ নিয়ে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭টি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হলো। চট্টগ্রাম বন্দর এই তালিকায় যুক্ত হওয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সিস্টেমগুলো এখন উচ্চতর রাষ্ট্রীয় নজরদারির আওতায় থাকবে। এর ফলে সাইবার হামলা, তথ্য চুরি কিংবা অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং, নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং অফলাইন ব্যাকআপ নিশ্চিত করা হবে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, এই সুরক্ষা শুধু সাইবার নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্দরের ডেটা সেন্টার, ডেটাবেজ, অ্যাপ্লিকেশন কমিউনিকেশন এবং এপিআই হাবসহ সামগ্রিক আইটি অবকাঠামো এর আওতায় থাকবে। এর মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের সিংহভাগ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচল ও শুল্ক-রাজস্ব প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল সিস্টেমে কোনো বিঘ্ন ঘটলে তা জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার ডিজিটাল অবকাঠামো সুরক্ষায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বের একটি স্বীকৃতি। বন্দরের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই একে শুধু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

সিআইআই ঘোষণার ফলে বন্দরে নিজস্ব সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি) ও সাইবার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিআইআরটি) পরিচালনা বাধ্যতামূলক হবে। এই বিধান লঙ্ঘন করা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোয় অননুমোদিত প্রবেশ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত