রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুরানা পল্টন, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে এখন গ্যাস নিয়ে এক ধরণের হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবারের রান্না পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সারাদিন চুলার নাগাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি লাকড়ি কিনে ছোট ছোট মাটি বা সিমেন্টের তৈরি চুলায় ভাত-তরকারি রান্না করছেন।
রাজধানীর শাহজাহানপুর ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার সংলগ্ন মসজিদের সামনে লাকড়ি কিনতে আসা মানুষদের ভিড় দেখে এই করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে যে লাকড়ির মণ ছিল মাত্র চারশ টাকা, তা এখন লাফিয়ে বেড়ে সাতশ থেকে আটশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শাহজাহানপুরের লাকড়ি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, ছোট কাঠের টুকরো
ও বাঁশের টুকরো মিলিয়ে এখন প্রতি মণ
লাকড়ি সর্বনিম্ন সাতশ টাকায় বিক্রি
করতে হচ্ছে। অথচ চাহিদার তুলনায়
ভালোমানের লাকড়ি পাওয়া বেশ কঠিন। অনেক
ক্রেতা কম পরিমাণে লাকড়ি
কিনতে চাইলেও বিক্রেতারা এক মনের নিচে
তা বিক্রি করতে চান না।
সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ২০ কেজি লাকড়ি কিনতে গেলে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন। ওজন করার সুযোগ না থাকলেও কোনোমতে রিকশা বা ভ্যানে করে তা বাসায় পৌঁছাতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বাসা পর্যন্ত আনতে গেলে পরিবহন খরচসহ প্রায় পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে তার দৈনিক পাঁচ
থেকে সাত মণ, এমনকি
কখনো দশ মণ পর্যন্ত
লাকড়ি বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার কারণে চারশ টাকার লাকড়ি
এখন সাতশ টাকায় পৌঁছেছে
এবং ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার
শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে
পুরানা পল্টন এনক্লেভ হাউজিং এলাকার তীব্র গ্যাস সংকট নিয়ে কাওরান
বাজারে গ্যাস কর্তৃপক্ষের হটলাইনে যোগাযোগ করা হলে তারা
সংকটের কথা স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিদিন
অসংখ্য মানুষ টেলিফোন করে অভিযোগ করছেন
এবং সংকট উত্তরণের চেষ্টা
চলছে। তবে রাজধানীতে গ্যাসের
এই দুর্ভোগের মধ্যেও নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে
হওয়ায় নগরবাসীর ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়েছে।
অনেকে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ি
পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন অথবা তীব্র এই
সংকটে নানা আলোচনা ও
সমালোচনা করছেন।
রাজধানীর
পাশাপাশি এই গ্যাস সংকটের
ধাক্কা এখন গ্রামগঞ্জেও গিয়ে
ঠেকেছে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার
বার্তা পরিবেশকরা মুঠোফোটে জানিয়েছেন, সেখানেও গ্যাসের সংকট প্রকট আকার
ধারণ করায় লাকড়িই মানুষের
শেষ ভরসায় পরিণত হয়েছে। মানুষ যেন আবারও ডিজিটাল
যুগ থেকে পিছিয়ে পড়ে
গাছপালা কেটে, ডালপালা ও খড়কুটো সংগ্রহ
করে মাটির চুলার ওপর নির্ভর করতে
শুরু করেছে। তবে কুমিল্লার মতো
কিছু এলাকায় গ্যাসের বড় ধরনের সমস্যা
না থাকার কথাও জানা গেছে।
গ্যাসের চরম সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। পুরানা পল্টনের বাসিন্দারা জানান, আগে দিনে একবার লোডশেডিং হলেও বর্তমানে দিনে অন্তত তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা বিরাজ করে, তবে সমগ্র দেশের চিত্র সহজেই অনুমেয়। সাধারণ মানুষ এই তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে দ্রুত মুক্তি চান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘমেয়াদী তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পুরানা পল্টন, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, শেরেবাংলা নগর, মিরপুর ও আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে এখন গ্যাস নিয়ে এক ধরণের হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। দিনের পর দিন গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবারের রান্না পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
সারাদিন চুলার নাগাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ এখন বাধ্য হয়ে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে সিলিন্ডার গ্যাসের পাশাপাশি লাকড়ি কিনে ছোট ছোট মাটি বা সিমেন্টের তৈরি চুলায় ভাত-তরকারি রান্না করছেন।
রাজধানীর শাহজাহানপুর ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার সংলগ্ন মসজিদের সামনে লাকড়ি কিনতে আসা মানুষদের ভিড় দেখে এই করুণ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগে যে লাকড়ির মণ ছিল মাত্র চারশ টাকা, তা এখন লাফিয়ে বেড়ে সাতশ থেকে আটশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শাহজাহানপুরের লাকড়ি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, ছোট কাঠের টুকরো
ও বাঁশের টুকরো মিলিয়ে এখন প্রতি মণ
লাকড়ি সর্বনিম্ন সাতশ টাকায় বিক্রি
করতে হচ্ছে। অথচ চাহিদার তুলনায়
ভালোমানের লাকড়ি পাওয়া বেশ কঠিন। অনেক
ক্রেতা কম পরিমাণে লাকড়ি
কিনতে চাইলেও বিক্রেতারা এক মনের নিচে
তা বিক্রি করতে চান না।
সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ২০ কেজি লাকড়ি কিনতে গেলে চরম বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন। ওজন করার সুযোগ না থাকলেও কোনোমতে রিকশা বা ভ্যানে করে তা বাসায় পৌঁছাতে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বাসা পর্যন্ত আনতে গেলে পরিবহন খরচসহ প্রায় পাঁচশ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিক্রেতা হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে তার দৈনিক পাঁচ
থেকে সাত মণ, এমনকি
কখনো দশ মণ পর্যন্ত
লাকড়ি বিক্রি হচ্ছে। চাহিদার কারণে চারশ টাকার লাকড়ি
এখন সাতশ টাকায় পৌঁছেছে
এবং ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়ার
শঙ্কা রয়েছে।
এদিকে
পুরানা পল্টন এনক্লেভ হাউজিং এলাকার তীব্র গ্যাস সংকট নিয়ে কাওরান
বাজারে গ্যাস কর্তৃপক্ষের হটলাইনে যোগাযোগ করা হলে তারা
সংকটের কথা স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিদিন
অসংখ্য মানুষ টেলিফোন করে অভিযোগ করছেন
এবং সংকট উত্তরণের চেষ্টা
চলছে। তবে রাজধানীতে গ্যাসের
এই দুর্ভোগের মধ্যেও নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করতে
হওয়ায় নগরবাসীর ক্ষোভ আরও দ্বিগুণ হয়েছে।
অনেকে বাধ্য হয়ে বাসা-বাড়ি
পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছেন অথবা তীব্র এই
সংকটে নানা আলোচনা ও
সমালোচনা করছেন।
রাজধানীর
পাশাপাশি এই গ্যাস সংকটের
ধাক্কা এখন গ্রামগঞ্জেও গিয়ে
ঠেকেছে। লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার
বার্তা পরিবেশকরা মুঠোফোটে জানিয়েছেন, সেখানেও গ্যাসের সংকট প্রকট আকার
ধারণ করায় লাকড়িই মানুষের
শেষ ভরসায় পরিণত হয়েছে। মানুষ যেন আবারও ডিজিটাল
যুগ থেকে পিছিয়ে পড়ে
গাছপালা কেটে, ডালপালা ও খড়কুটো সংগ্রহ
করে মাটির চুলার ওপর নির্ভর করতে
শুরু করেছে। তবে কুমিল্লার মতো
কিছু এলাকায় গ্যাসের বড় ধরনের সমস্যা
না থাকার কথাও জানা গেছে।
গ্যাসের চরম সংকটের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণা। পুরানা পল্টনের বাসিন্দারা জানান, আগে দিনে একবার লোডশেডিং হলেও বর্তমানে দিনে অন্তত তিনবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিকেল, সন্ধ্যা ও রাতেও লোডশেডিং অব্যাহত থাকায় মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা বিরাজ করে, তবে সমগ্র দেশের চিত্র সহজেই অনুমেয়। সাধারণ মানুষ এই তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং থেকে দ্রুত মুক্তি চান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আপনার মতামত লিখুন