গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদ (সাদা দল)-এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার মাত্র এক দিন পরই ওই সংগঠনের ৮ শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আবাসিক হলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। আদেশে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তর ও আবাসিক হলে এই রদবদল করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট (টিএইচএম) বিভাগের প্রভাষক আকাশ দাস, এএসভিএম বিভাগের ড. মো. নিয়ামত উল্লাহ এবং এফএমবি বিভাগের মো. রাকিবুল ইসলামকে সহকারী প্রক্টর করা হয়েছে। এ ছাড়া এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (ইএসডি) বিভাগের আব্দুল্লাহ বিন কাইজার ও ফার্মেসি বিভাগের সজল বিশ্বাসকে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আবাসিক হলগুলোর মধ্যে ইএসডি বিভাগের মো. শরাফত চৌধুরীকে বিজয় দিবস হলের, ফার্মেসি বিভাগের ড. মো. নূর ইসলামকে স্বাধীনতা দিবস হলের এবং এএসভিএম বিভাগের ড. রুম্মান হোসেন তুহিনকে শহীদ তিতুমীর হলের সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সাদা দলের ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়া আটজনই ওই কমিটির বিভিন্ন পদে রয়েছেন। আকাশ দাস, আব্দুল্লাহ বিন কাইজার ও ড. রুম্মান হোসেন তুহিন সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক; ড. মো. নিয়ামত উল্লাহ ও সজল বিশ্বাস যুগ্ম প্রচার সম্পাদক; মো. শরাফত চৌধুরী দপ্তর সম্পাদক; ড. মো. নূর ইসলাম যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মো. রাকিবুল ইসলাম কার্যনির্বাহী সদস্য।
একই সংগঠনের আটজন শিক্ষককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোয় শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। ‘ছাত্র গণমঞ্চ’ নামের একটি সংগঠনের অর্থ সম্পাদক নঈমুল হাসান বলেন, ‘প্রশাসনিক কাঠামো নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। সাদা দলের সক্রিয় সদস্যদের প্রক্টরশিপ বা হলের দায়িত্বে দেওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর রক্ষাকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামুজ্জামান বলেন, ‘আমি কারও দলীয় পরিচয় জানি না। উপাচার্যের নির্দেশেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান এ বিষয়ে জনসংযোগ দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলেন। জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম জানান, কাজের সুবিধার্থে প্রশাসন যেকোনো শিক্ষককে দায়িত্ব দিতে পারে। তবে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।
আপনার মতামত লিখুন