সংবাদ

রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন: আগস্টে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন: আগস্টে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে কিছুটা নেতিবাচক ধারা থাকলেও দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে সার্বিক রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের ফলেই এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

তবে রপ্তানি আয়ে এই হঠাৎ বড় উল্লম্ফন নিয়ে দেশের শিল্প মহলে এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব না হওয়ায় কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের ছুটিও দেওয়া হয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে আগস্টের রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকজন রপ্তানিকারক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিটওয়্যার খাতের এক শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো মাসজুড়েই কারখানাগুলো ঠিকমতো চালানো যায়নি এবং পণ্য জাহাজীকরণও ব্যাহত হয়েছে, যা এই প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তৈরি পোশাক খাতের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো প্রধান বড় বাজারগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে আগস্টে এক লাফে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও রপ্তানি আয়ে বড় লাফ দেখা গেছে।

তবে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কসহ বিভিন্ন কারণে রপ্তানির ভিত্তি অত্যন্ত কম থাকায় চলতি বছরের এই প্রবৃদ্ধির অঙ্কটা দৃশ্যমানভাবে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। বাস্তবে রপ্তানি পরিস্থিতির খুব একটা নাটকীয় উন্নতি হয়নি এবং অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, যা মূলত শিল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো বেশ খানিকটা কম।

পাশাপাশি অন্যান্য খাতের রপ্তানি চিত্রের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে প্রায় ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশের বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে এর বিপরীতে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং বিশ্ববাজারের নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে এই পরিসংখ্যানের পেছনের আসল চিত্র বুঝতে আরও বিশদ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রপ্তানিতে বড় উল্লম্ফন: আগস্টে ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি আয়ে কিছুটা নেতিবাচক ধারা থাকলেও দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এর ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস অর্থাৎ জুলাই-আগস্ট সময়ে সার্বিক রপ্তানি আয় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধান প্রধান আন্তর্জাতিক বাজারগুলোতে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের ফলেই এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি সংস্থাটি।

তবে রপ্তানি আয়ে এই হঠাৎ বড় উল্লম্ফন নিয়ে দেশের শিল্প মহলে এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নানা সংশয়। বর্তমান সময়ে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে নিয়মিত উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব না হওয়ায় কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে এবং বাধ্য হয়ে শ্রমিকদের ছুটিও দেওয়া হয়েছে। এমন বৈরী পরিস্থিতিতে আগস্টের রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বেশ কয়েকজন রপ্তানিকারক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিটওয়্যার খাতের এক শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, পুরো মাসজুড়েই কারখানাগুলো ঠিকমতো চালানো যায়নি এবং পণ্য জাহাজীকরণও ব্যাহত হয়েছে, যা এই প্রকাশিত পরিসংখ্যানের সত্যতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তৈরি পোশাক খাতের এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার মতো প্রধান বড় বাজারগুলোর অবদান সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে আগস্টে এক লাফে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ২৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪৮ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও রপ্তানি আয়ে বড় লাফ দেখা গেছে।

তবে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান মনে করেন, গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কসহ বিভিন্ন কারণে রপ্তানির ভিত্তি অত্যন্ত কম থাকায় চলতি বছরের এই প্রবৃদ্ধির অঙ্কটা দৃশ্যমানভাবে অনেক বেশি মনে হচ্ছে। বাস্তবে রপ্তানি পরিস্থিতির খুব একটা নাটকীয় উন্নতি হয়নি এবং অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ, যা মূলত শিল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এখনো বেশ খানিকটা কম।

পাশাপাশি অন্যান্য খাতের রপ্তানি চিত্রের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং প্রকৌশল পণ্যে প্রায় ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশের বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে।

তবে এর বিপরীতে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদরাও বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার এবং বিশ্ববাজারের নানা চ্যালেঞ্জের মাঝে এই পরিসংখ্যানের পেছনের আসল চিত্র বুঝতে আরও বিশদ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত